বাড়ি কেনার আগ্রহ কমছে
সাপ্তাহিক আজকাল
প্রকাশিত : ০২:৪৪ এএম, ৫ আগস্ট ২০২৩ শনিবার
সুদের কারণে পিছু হটছেন ক্রেতারা
মর্টগেজ ব্যবসায় অশনি সংকেত
আজকাল রিপোর্ট -
নিউইয়র্কে বাড়ি কেনার চাহিদা কমতে শুরু করছে। আমেরিকায় স্বপ্নের বাড়ি কেনার আগ্রহে ভাটা পড়ছে উচ্চ সুদের কারণে। যারা বাড়ি বা এপার্টমেন্ট কেনার জন্য রিয়েলটর বা ব্রোকারদের সাথে যোগাযোগ করছেন তাদের অনেকেই এখন মর্টগেজের সুদের হার শুনে পিছু হটতে শুরু করেছেন। গত তিন সপ্তাহ একাধারে মর্টগেজ লোনের আবেদনের হার কমেছে। গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে বাড়ি কেনার জন্য মর্টগেজ আবেদনের পরিমান কমেছে শতকরা ৩ ভাগ। গত বুধবার প্রকাশিত ‘দ্যা মর্টগেজ ব্যাংকার্স এসোসিয়েশন’ এ রিপোর্টে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
গেল সপ্তাহে মর্টগেজ ইন্টারেস্ট রেট শতকরা ৬.৮৭ থেকে বেড়ে হয়েছে ৬.৯৩। ৩০ বছরের ফিক্সড রেট এটি। তাও আবার এ রেট শতকরা ২০ ভাগ ডাউন পেমেন্টের বেলায়। এটি ব্যাংকের স্বাভাবিক রেট। বাস্তবে আরও অনেক বেশি। কোন ক্রেতাই এখন শতকরা ৮ ভাগের কম ইন্টারেস্টে বাড়ির জন্য লোন পাচ্ছেন না। এ কারণে বাড়ির দাম কিছুটা কমতে শুরু করেছে। বাড়ির লোনের সুদের হার বাড়ায় নগদে বাড়ি কেনার দিকে ঝুঁকছেন ক্রেতারা। নিউইয়র্ক সিটি ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় এ ঝোঁকটি বেশি। তাও আবার ইমিগ্র্যান্ট কমিউনিটির মধ্যে। চাইনিজ কমিউিটির বাড়ি ক্রেতারা নগদে কেনায় সবচেয়ে বেশি এগিয়ে। শতকরা ৪১ ভাগ চাইনিজ বাড়ি কেনেন নগদ মূল্যে। এশিয়ান অন্যান্য কমিউিনিটির মধ্যে ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও নেপালীরাও নগদে বাড়ি কিনতে পিছিয়ে নেই। সম্প্রতি নিউইয়র্ক সিটি ও লং আইল্যান্ড এলাকায় অনেক বাংলাদেশিকে নগদে বাড়ি কিনতে দেখা গেছে। অনেকে পুরোটা নগদে না কিনলেও শতকরা ৫০ ভাগ পর্যন্ত ডাউন পেমেন্ট দিয়ে কিনছেন।
দেশের অন্যান্য শহরের তুলনায় নিউইয়র্ক সিটিতে এখনও রিয়েল এস্টেট ব্যবসা বেশ চালু। তবে ক্রেতারা এখন সতর্কভাবে পা বাড়াচ্ছেন। ব্রংকসের রিয়েলটর নজরুল ইসলাম বলেন, গ্রাহকরা এখন চিন্তাভাবনা করে বাড়ি কিনছেন। হিসেব কষছেন ইন্টারেষ্টসহ মর্টগেজের বিষয়টি। আগে একজন ক্রেতা ৫ থেকে ৭টি বাড়ি দেখেই সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলতেন। এখন ২০টি বাড়ি দেখানোর পরও সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন না। সুদের হার এভাবে বাড়তে থাকলে রিয়েল এস্টেট ব্যবসা সংকটের মুখে পড়বে।
‘মর্টগেজ নিউজ ডেইলি’র চীফ অপারেটিং অফিসার বলেছেন, মর্টগেজ ব্যবসায় অশনি সংকেত দেথা দিচ্ছে। তার মতে এ মাসেই মর্টগেজ রেট গত ২০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছবে।