মানবাধিকার কাউন্সিল থেকে বাংলাদেশকে বহিস্কারের আহ্বান
সাপ্তাহিক আজকাল
প্রকাশিত : ০২:১৭ এএম, ২৯ জুলাই ২০২৩ শনিবার
১৪ কংগ্রেসম্যানের চিঠি
মনোয়ারুল ইসলাম -
জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিল থেকে বাংলাদেশকে বহিস্কার এবং শান্তিরক্ষা মিশনে র্যাবসহ মানবাধিকার লংঘনকারীদের নিষিদ্ধ করতে জাতিসংঘে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্র রাষ্ট্রদূত লিন্ডা টমাস গ্রিনফিল্ডকে চিঠি দিয়েছেন ১৪ মার্কিন কংগ্রেসম্যান। চিঠিতে তারা বলেছেন, বাংলাদেশে শেখ হাসিনার সরকারের সন্ত্রাস, নির্যাতন ও বাংলাদেশী নাগরিকদের হত্যার বিষয়ে আমাদের উদ্বেগ প্রকাশ করার জন্য আপনাকে লিখছি। একই চিঠিতে তারা বাংলাদেশে নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক কর্তৃপক্ষের অধীনে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য ব্যবস্থা নিতে আহবান জানিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের সরকারের কোন অংশ জাতিসংঘে কোন প্রস্তাব তুলবার ইচ্ছা ব্যক্ত করলে তা জাতিসংঘে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত এর মাধ্যমেই করতে হয়। তিনিই কংগ্রেসম্যানদের এ ধরনের চিঠি জাতিসংঘে আনুষ্ঠানিকভাবে উত্থাপনের দায়িত্ব পালন করেন।
দীর্ঘ চিঠিতে কংগ্রেসম্যানরা আরও বলেন, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, হিউম্যান রাইটস ওয়াাচ, ফ্রিডম হাউস এবং রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারসহ বিপুল সংখ্যক মানবাধিকার সংস্থা বাংলাদেশে শেখ হাসিনার সরকারের মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয় নথিভুক্ত করেছে। যার মধ্যে ভয়ভীতি, হামলা, মিথ্যা কারাদন্ড, নির্যাতন, গুম এবং এমনকি বিচারবহির্ভূত হত্যাকান্ড রয়েছে।
২০২১ সালে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দেশটির পুলিশ প্রধান বেনজীর আহমেদসহ র্যাবের বর্তমান বা সাবেক সাত কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। তবে এই নিষেধাজ্ঞাগুলি সরকারের সন্ত্রাসকে মন্থর করেনি।
গত ৬ থেকে ৮ মাসে হাজার হাজার শান্তিপূর্ণ ও বিক্ষোভকারী অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের সমর্থনে বিক্ষোভ প্রদর্শনন করেছে। এই বিক্ষোভগুলি প্রায়ই সহিংসতা, কাঁদানে গ্যাস এবং পুলিশ ও অন্যান্য রাষ্ট্রীয় বাহিনী এবং সরকার সমর্থকদের দ্বারা নৃশংস হামলার সম্মুখীন হয়েছে।
শেখ হাসিনা সরকার সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ নির্বাচনের অনুমতি দেবে কি না সে ব্যাপারে আমরা অত্যন্ত সন্দিহান। এই কারণগুলির জন্য, এবং আরও অনেকগুলি দুর্নীতি, অত্যাচার, সহিংসতা এবং অপব্যবহার বন্ধে নি¤েœ উল্লেখিত বিষয়গুলি কার্যকর করার জন্য অনুরোধ করছি:
এক. জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলে বাংলাদেশের সদস্যপদ অবিলম্বে স্থগিত করার জন্য ব্যবস্থা নিন। শেখ হাসিনা সরকারের বিভিন্ন অপরাধমূলক কার্যকলাপের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ এবং স্বচ্ছ তদন্তের ব্যবস্থা নিন। বিশেষ করে সাংবাদিক এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে তার সরকার যে সকল ব্যবস্থা নিয়েছে।
দুই. জাতিসংঘ শান্তি রক্ষী বিভাগ অস্থায়ীভাবে বাংলাদেশের র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) এর কোন সদস্যকে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে মোতায়েন করা বন্ধ রাখতে ব্যবস্থা গ্রহণ করুক।
তিন. জাতিসংঘ বিশ্বজুড়ে নিরপেক্ষ সরকারগুলির সাথে সমন্বয়ে বাংলাদেশে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের তত্ত্বাবধান এবং পরিচালনায় অংশ নেবে। এতে ভোটারদের ভয়-ভীতি প্রদর্শন, হয়রানি, বা ভোটারদের উপর হামলা প্রতিরোধের জন্য শান্তিরক্ষা বাহিনী গঠনের বিধান অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
গতকাল ২৭ জুলাই বৃহস্পতিবার লেখা এই চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন কংগ্রেসম্যান বব গুড,অ্যানা পলিনা-লুনা, র্যালফ নরম্যান, টম পেরি, যশ ব্রেচেন, এন্ড্রু ক্লেড, এইলি ক্রেইন, পল এ গসার, রনি এল জ্যাকসন, ব্রইন বেবিন, করি মিলস, ডাগ লামাফা, র্যান্ডি ওয়েবার ও গ্লেন গ্রোথম্যান।