বিদেশি রাষ্ট্রদূতদের তলব করায় যা বলল যুক্তরাষ্ট্র
সাপ্তাহিক আজকাল
প্রকাশিত : ০২:১৩ এএম, ২৯ জুলাই ২০২৩ শনিবার
আজকাল রিপোর্ট -
বাংলাদেশে নিযুক্ত বিদেশি ১৩ দেশের রাষ্ট্রদূতদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ডেকে নেওয়া ইস্যুতে প্রতিক্রিয়া দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। গত বুধবার সকালে ওয়াশিংটন ডিসিতে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে এ ইস্যুটি মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখ্য উপমুখপাত্র বেদান্ত প্যাটেলের সামনে তুলে ধরেন একজন সাংবাদিক।
জবাবে প্যাটেল বলেন, একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষ্য অর্জনে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র একত্রে কাজ করছে। আমরা সবসময়ই এ বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরেছি। এটি আমাদের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক।
ওই সাংবাদিক বেদান্ত প্যাটেলের কাছে জানতে চান- আমি যদি বাংলাদেশের মিডিয়ার রিপোর্টগুলোর দিকে তাকাই, তা হলে দেখতে পাব ঢাকা-১৭ আসনের উপনির্বাচনে একজন স্বতন্ত্র প্রার্থীর ওপর হামলার নিন্দা জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইউরোপিয়ান ইউনিয়নসহ মোট ১৩টি বিদেশি মিশনের প্রধানরা। এ জন্য তাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব (সমন) করা হয়। এরও আগে ২০ জুলাই আবাসিক সমন্বয়ককে তলব করা হয়। আপনারা অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের আহ্বান জানাচ্ছেন। পশ্চিমা মিত্ররা এবং উন্নয়নে অংশীদাররাও অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন দাবি করছে। কিন্তু সরকার চলছে অন্য পথে।
তারা ঢাকায় নিযুক্ত কূটনীতিকদের তলব করছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে আপনার মন্তব্য ও প্রতিক্রিয়া কী?
এ প্রশ্নের জবাবে বেদান্ত প্যাটেল বলেন, আমরা পরিষ্কার করে বলেছি- গণতন্ত্রে রাজনৈতিক সহিংসতার কোনো স্থান নেই। আমরা আরও পরিষ্কার করেছি যে, কোনো রাজনৈতিক দলকে সমর্থন করে না যুক্তরাষ্ট্র। বাংলাদেশে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের লক্ষ্য অর্জন সমর্থন করি আমরা। এ জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশ একসঙ্গে কাজ করার ওপর সব সময়ই গুরুত্ব দিচ্ছে। আমাদের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। আমরা বিশ্বাস করি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন একটি অভিন্ন অগ্রাধিকার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ বাংলাদেশ সরকারের অনেক কর্মকর্তা নিজেরাই বলেছেন, এটি তাদেরও লক্ষ্য।
উল্লেখ্য, ঢাকা-১৭ আসনের উপনির্বাচনের দিন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিরো আলমের ওপর হামলার ঘটনার নিন্দা জানিয়ে যে ১৩টি দেশের রাষ্ট্রদূত বিবৃতি দিয়েছিলেন তাদেরকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করে প্রতিবাদ জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম কোন দেশের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে এভাবে নাক গলানোকে জেনেভা কনভেনশনের লংঘন বলে তাদেরকে অভিহিত করেন। তিনি অভিযোগ করেন এই ঘটনায় সরকার অতি দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া সত্ত্বেও রাষ্ট্রদূতরা তা যাচাই-বাছাই না করেই তড়িঘড়ি এই বিবৃতি দিয়েছেন। এটিকে তিনি কূটনৈতিক শিষ্টাচার বহির্ভূত আচরণ বলে মন্তব্য করেন। ভবিষ্যতে এ ধরনের আচরণ থেকে বিরত থাকার জন্য তিনি কূটনীতিকদের প্রতি আহ্বান জানান।