শুক্রবার   ২৯ আগস্ট ২০২৫   ভাদ্র ১৪ ১৪৩২   ০৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪৭

মোদীকে কংগ্রেসে আমন্ত্রণ জানালেন চাকশ্যুমার

সাপ্তাহিক আজকাল

প্রকাশিত : ০৩:২৮ এএম, ১০ জুন ২০২৩ শনিবার


আজকাল রিপোর্ট
চলতি মাসের ২১ তারিখ যুক্তরাষ্ট্র সফরে আসছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এরআগে একাধিকবার আমেরিকায় এলেও এটিই হবে মোদীর প্রথম রাষ্ট্রীয় সফর। এদিকে, ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীকে আবারও মার্কিন কংগ্রেসে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন সিনেটের মেজোরিটি লিডার চাকশ্যুমার।
ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী হিসাবে আমেরিকার সংসদে দ্বিতীয়বারের জন্য বক্তব্য রাখবেন মোদী।  মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সঙ্গে বৈঠক করার পাশাপাশি, আমেরিকার সংসদের যৌথ অধিবেশনে বক্তব্য রাখবেন মোদী। যোগ দেবেন বাইডেন এবং তাঁর স্ত্রী জিল বাইডেন আয়োজিত নৈশভোজের আসরেও। বাইডেন প্রশাসন সূত্রের খবর, ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী হিসাবে আমেরিকার সংসদে দ্বিতীয় বারের জন্য বক্তব্য রাখবেন মোদী। মোদীর সঙ্গে বাইডেনের আলোচনায় কোন বিষয়গুলি অগ্রাধিকার পাবে, তা স্পষ্ট করে দিয়েছে হোয়াইট হাউস।
বাইডেন প্রশাসনের প্রেস সচিব ক্যারিন জাঁ পিঁয়ের জানিয়েছেন, আমেরিকা এবং ভারতের মধ্যে বোঝাপড়াকে আরও জোরদার করার জন্য, ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকাকে অবাধ এবং মুক্ত রাখার জন্য আলোচনায় বসবেন দুই দেশের রাষ্ট্রপ্রধান। এ ছাড়াও প্রতিরক্ষা ক্ষেত্র নিয়েও বাইডেন এবং মোদী আলোচনা করবেন বলে জানিয়েছেন প্রেস সচিব।
ক্যারিনের কথায়, ‘ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলকে অবাধ এবং মুক্ত রাখার উদ্দেশে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করার বিষয়ে তো বটেই, প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত বিষয়কেও আলোচনায় অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।’ একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, এখনই তার পক্ষে এর বেশি কিছু বলা সম্ভব নয়। আমেরিকা এবং ভারতের পারস্পরিক সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে ক্যারিন বলেন, ‘ভারত আর আমেরিকা এমনই বন্ধুত্বের বন্ধনে আবদ্ধ যে, মনে হয় ভারতীয় এবং আমেরিকানরা একসঙ্গেই আছেন।’
বর্তমান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে একাধিক কারণে মোদী এবং বাইডেনের বৈঠককে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের আবহে ভারতের ‘নিরপেক্ষ’ ভূমিকায় এবং ভ্লাদিমির পুতিনের দেশ থেকে অপরিশোধিত তেল কিনে যাওয়ার সিদ্ধান্তে খুশি নয় আমেরিকা। আবার ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চিনের আগ্রাসন রুখতে ভারতকে প্রয়োজন আমেরিকার। জি৭ বৈঠকে ভারত, আমেরিকা, জাপান এবং অস্ট্রেলিয়া-কোয়াড গোষ্ঠীভুক্ত চার দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের সাক্ষাৎ হয়। সেই সাক্ষাতের পর আবারও বাইডেনের সঙ্গে বৈঠকে বসতে চলেছেন মোদী।
২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর একাধিকবার যুক্তরাষ্ট্র সফর করেছেন নরেন্দ্র মোদী। সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক হলেও, সেগুলো রাষ্ট্রীয় সফর ছিল না। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে গত ৯ বছরের মধ্যে এটাই হবে যুক্তরাষ্ট্রে তাঁর প্রথম রাষ্ট্রীয় সফর। এর আগে ২০০৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রে রাষ্ট্রীয় সফরে আসেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং।
রাষ্ট্রীয় সফরকে বন্ধুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সর্বোচ্চ অভিব্যক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয় এবং সফরগুলো প্রায়ই রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতায় পরিপূর্ণ থাকে। যুক্তরাষ্ট্রে এই আনুষ্ঠানিকতাগুলোর মধ্যে ‘ফ্লাইট লাইন’ অনুষ্ঠান (যেখানে সফররত রাষ্ট্রপ্রধানকে বিমানবন্দরে অবতরণের পরই টারমাকে অভ্যর্থনা জানানো হয়), হোয়াইট হাউসের অভ্যর্থনা অনুষ্ঠান, হোয়াইট হাউসের নৈশভোজ, কূটনৈতিক উপহার বিনিময়, ব্লেয়ার হাউসে সময় কাটানোর আমন্ত্রণ (ব্লেয়ার হাউস হলো পেনসিলভেনিয়া অ্যাভিনিউজুড়ে মার্কিন প্রেসিডেন্টের অতিথি ভবন) ও ‘ফ্লাগ স্ট্রিট লাইনিং’।