ক্রাইস্টচার্চের মসজিদে হামলায় নিহতদের দাফন শুরু
আমাদের নারায়ণগঞ্জ
প্রকাশিত : ০১:২৪ পিএম, ২০ মার্চ ২০১৯ বুধবার
ক্রাইস্টচার্চে মসজিদে শ্বেত শ্রেষ্ঠত্ববাদী সন্ত্রাসীর হামলায় নিহতদের দাফন আয়োজন শুরু হয়েছে। সিরিয় অভিবাসী এক পিতা ও পুত্রকে দিয়ে বুধবার এ দাফন প্রক্রিয়া শুরু হয় বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।
তাদের নাম হলো খালেদ মুস্তফা (৪৪) ও হামজা (১৬)। তারা গেল বছর শরণার্থী হিসেবে সিরিয়া থেকে স্বপরিবারে নিউজিল্যান্ডে আসেন।
ক্রাইষ্টচার্চের লিনউড ইসলামিক সেন্টারের কাছে অবস্থিত মেমোরিয়াল পার্ক কবরস্থানে তাদের দাফন করা হয়েছে। শত-শত শোকার্ত মানুষ তাদের জানাজায় অংশ নেয়।
এই দাফন আয়োজনে যোগ দেয়ার জন্য অকল্যান্ড থেকে ক্রাইস্টচার্চে আসা গুলশাদ আলি বার্তা সংস্থা রয়টার্স’কে বলেন, ‘লাশ কবরে শুইয়ে রাখা হচ্ছে, আমরা তাকিয়ে তাকিয়ে দেখছি, খুব কষ্ট হচ্ছে।’
পার্কের ভেতরে একটা এলাকায় ওজু করার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পুরো এলাকা নিরাপত্তা চাদরে ঢেকে ফেলা হয়েছে। পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা পুলিশের রিভলভারের হোলস্টারে ও তাদের অত্যাধুনিক রাইফেলে গোঁজা ছিল ফুল।
হামলাকারী জঙ্গি শ্বেত শ্রেষ্ঠত্ববাদী অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক ব্রেন্টন ট্যারেন্ট (২৮) নিউজিল্যান্ডের সাউথ আইল্যান্ডের ডানেডিনে বসবাস করতেন। গেল শুক্রবার দুই মসজিদে চালানো নির্বিচার হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তার বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে।
পুলিশ রিমান্ডে থাকা ট্যারেন্টকে আগামী ৫ এপ্রিল ফের আদালতে হাজির করা হবে। তখন তার বিরুদ্ধে আরো অভিযোগ আনা হতে পারে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
নিউজিল্যান্ডের পুলিশ প্রধান জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই) ও অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, ব্রিটেনসহ বিশ্বব্যাপী গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সন্দেহভাজন জঙ্গির প্রোফাইল তৈরি করছে।
রাজধানী ওয়েলিংটনে এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ কমিশনার মাইক বুশ বলেছেন, এটি পুরোপুরি একটি আন্তর্জাতিক তদন্ত এটা আপনাদের নিশ্চিত করতে পারি আমি।
হামলাকারী জঙ্গি পুরো বিশ্ব ভ্রমণ করেছে এবং কোথাও বেশি দিন বাস করেনি বলে জানিয়েছেন নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আরডার্ন।
মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত ২১ জন নিহতকে শনাক্ত করা হয়েছে এবং তাদের লাশ দাফনের জন্য হস্তান্তর করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। বুধবার রাতের মধ্যে শনাক্তকরণ শেষ করার কথা রয়েছে।
গেল শুক্রবার নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চ শহরের আল-নূর ও লিনউড মসজিদে শ্বেত শ্রেষ্ঠত্ববাদী এক সন্ত্রাসীর বন্দুক হামলায় ৫০ জন নিহত হন। ওই ঘটনায় আহত ২৯ জন এখনো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন, তাদের মধ্যে আট জন নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে রয়েছেন। এ ঘটনায় ২৮ বছর বয়সী অস্ট্রেলীয় নাগরিক ব্রেন্টন ট্যারেন্টকে গ্রেফতার করে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।
