মঙ্গলবার   ১০ মার্চ ২০২৬   ফাল্গুন ২৬ ১৪৩২   ২১ রমজান ১৪৪৭

রোহিঙ্গা গণহত্যার অভিযোগ তদন্তে সামরিক আদালত

আমাদের নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ১২:৩৮ পিএম, ১৯ মার্চ ২০১৯ মঙ্গলবার

রোহিঙ্গা গণহত্যার অভিযোগ তদন্তে সামরিক আদালত গঠণ করেছে মিয়ানমারের সেনাবিাহিনী। সংবাদ মাধ্যম দ্য ইরাবতী বলছে, সোমবার এক বিবৃতিতে দেশটির সেনাবাহিনী এ খবর জানিয়েছে। 

২০১৭ সালের আগস্টে মিয়ানমারের পশ্চিমাঞ্চলীয় রাখাইন প্রদেশের অধিবাসী সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর সেনাবাহিনী অভিযান চালায়। সেনাবাহিনীর নজিরবিহীন এ অভিযান থেকে প্রাণে বাঁচতে প্রায় ৭ লাখ ৩০ হাজারেরও বেশি মানুষ রাখাইন থেকে পালিয়ে পার্শ্ববর্তী বাংলাদেশের শরণার্থী শিবিরগুলোতে আশ্রয় নেন। 

 

জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও মানবাধিকার সংস্থা রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর মিয়ানমার সেনাবাহিনীর পরিচালীত এ অভিযানকে জাতিগত গণহত্যা বলে আখ্যায়িত করেছে। 

বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা অভিযোগ করেছেন, মিয়ানমার সেনাবাহিনী তাদের ওপর গণহত্যা, ধর্ষণ ও নিপীড়ন চালিয়েছে। এছাড়া তাদের বাড়ি-ঘরে অগ্নিসংযোগ করে সব নিঃশেষ করা হয়েছে। 

তবে মিয়ানমার সরকার ও সেনাবাহিনী শুরু থেকে তাদের ওপর আনা এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। 

মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর কমান্ডার ইন চিফ সিনিয়র জেনারেল মিন অং হেইং তার ওয়বসাইট থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, একজন মেজর জেনারেল ও দুজন কর্নেলের সমন্বয়ে সামরিক আদালত গঠন করা হয়েছে। তারা ২০১৭ সালে রাখাইনে সেনা অভিযান চালানো এলাকাসমূহ পরিদর্শন করবেন। 

এ সম্পর্কে তিনি বলেন, দায়িত্ব প্রাপ্ত ব্যক্তিরা অভিযানস্থল সূক্ষ্মভাবে পরিদর্শন করে গণহত্যার অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রতিবেদন দেবেন। 

 

রাখাইনের ঘটনা তদন্তে সেনাবাহিনীর সামরিক বাহিনীর নিয়োগ করা জজ অ্যাডভোকেট-জেনারেলের মূল্যায়ন ও পরামর্শ এবং মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগের ভিত্তিতে ওই সামরিক আদালত গঠন করা হয়েছে।

এর আগেও মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী রাখাইনের ঘটনায় তদন্তের পর দাবি করে, নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে ওঠা কোনো অভিযোগেরই সত্যতা পাওয়া যায়নি।

নতুন করে সামরিক আদালত গঠনের বিষয়ে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলবিষয়ক পরিচালক নিকোলাস বেকুইলিন বলেন, আন্তর্জাতিক চাপ ঠেকাতে এটি মিয়ানমার সেনাবাহিনীর ‘আরেকটি চাল’। তিনি বলেন, মিয়ানমার সেনাবাহিনী আন্তর্জাতিক আইন অনুসারে গুরুতর অপরাধ করলেও এখন পর্যন্ত বাহিনী সংস্কারে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।