বুধবার   ১১ মার্চ ২০২৬   ফাল্গুন ২৬ ১৪৩২   ২২ রমজান ১৪৪৭

মিয়ানমারে পুলিশ স্টেশনে হামলা, ৯ পুলিশ নিহত

আমাদের নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৪:০৪ পিএম, ১২ মার্চ ২০১৯ মঙ্গলবার

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে একটি পুলিশ স্টেশনে হামলা চালিয়েছে আরাকান আর্মির (এএ) যোদ্ধারা। এতে অন্তত নয় পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছে। শনিবার মধ্যরাতে উত্তর রাখাইনের পোন্নগিউন এলাকায় ওই হামলা চালানো হয়।

 

রাখাইন রাজ্য পুলিশের প্রধান লেফটেন্যান্ট কর্নেল কি লিন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন বলে জানিয়েছে দেশটির গণমাধ্যম ইরাওয়াদ্দি।

খবরে বলা হয়েছে, রোববার সকাল ৮টার পর যোগাযোগ করা হলে পুলিশের ওই শীর্ষ কর্মকর্তা ঘটনার বিস্তারিত জানাতে অস্বীকৃতি জানান।

তবে রাখাইনে স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে সংগ্রাম করা আরাকান আর্মি হামলার দায় স্বীকার করে বলেছে, তাদের যোদ্ধারা ইয়ো তা ইয়োকি পুলিশ স্টেশনে হামলা চালিয়েছে।

কিন্তু পুলিশের মুখপাত্র ইউ খিন থু খ এ ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি বলে জানিয়েছে ইরাওয়াদ্দি।

ইয়ো তা ইয়োকি গ্রামের এক ব্যক্তি নাম না প্রকাশ করার শর্তে বলেন, তিনি নয়টি মরদেহ দেখেছেন যা ত্রিপল দিয়ে ঢাকা ছিল।

তিনি জানান, গ্রামকেন্দ্র থেকে মাত্র পাঁচ মিনিট হাঁটলেই ঘটনাস্থল। রোববার গ্রামবাসীরা সেখানে আসেন পরিস্থিতি দেখতে। নিহতদের মধ্যে এক পুলিশ কর্মকর্তা তাদের গ্রামের বলেও জানান ওই গ্রামবাসী।

তিনি বলেন, গ্রামবাসী রাত সাড়ে ১১টার দিকে গোলাগুলির শব্দ শুনতে পায় এবং ১২টার দিকে তা থেমে যায়। রোববার সকাল ৯টা পর্যন্ত ওই এলাকায় সেনাবাহিনীর কোনো উপস্থিতি দেখা যায়নি বলেও জানান তিনি।

ওই গ্রামবাসীর বরাত দিয়ে খবরে বলা হয়েছে, মরদেহের পাশে শুয়ে থেকে মরার ভান করে আরাকান আর্মির হামলা থেকে বেঁচেছেন দুই পুলিশ কর্মকর্তা।

গণমাধ্যমটি বলছে, রোববার সকালে পোন্নাগিউন শহরের পুলিশের মেজর নেইন চ্যানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

পুলিশের প্রাথমিক রিপোর্টের বরাত দিয়ে খবরে বলা হয়েছে, আরাকান আর্মির প্রায় ১০০ যোদ্ধা ওই পুলিশ স্টেশনে এসে পুলিশ সদস্যদের আত্মসমপর্ণের নির্দেশ দেয়। কিন্তু পুলিশ সদস্যরা তা না করায় গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এরপর যোদ্ধারা পুলিশের সকল অস্ত্রশস্ত্র ও গোলাবারুদ নিয়ে যায়।

উল্লেখ্য, গত ৪ জানুয়ারি মিয়ানমারের স্বাধীনতা দিবসে উত্তর রাখাইনের চারটি পুলিশ পোস্টে হামলা চালায় রাখাইন আর্মি। ওই হামলায় ১৩ পুলিশ সদস্য নিহত হয়। এর পর থেকেই ওই অঞ্চলে মিয়ানমার আর্মি ও আরাকান আর্মির মধ্যে সংঘর্ষ চলছে।

উত্তর রাখাইনে নিজেদের স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে লড়াই করছে আরাকান আর্মি তথা আরাকানের জনগণ।