বুধবার   ১১ মার্চ ২০২৬   ফাল্গুন ২৬ ১৪৩২   ২২ রমজান ১৪৪৭

ভোটে জিততেই যুদ্ধের দামামা বাজিয়েছেন মোদি : ইমরান

আমাদের নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ১০:৫৯ এএম, ১০ মার্চ ২০১৯ রোববার

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান বলেছেন, তিনি দেশের সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের অধিকার সমুন্নত রাখবেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দেশটির সংখ্যালঘু মুসলিম জনগোষ্ঠীর সঙ্গে যে আচরণ করছেন তা তিনি পাকিস্তানের মাটিতে হতে দেবেন না। মোদি পরমাণু শক্তিধর দুই দেশকে যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে এনে দাঁড় করিয়েছেন বলে অভিযোগ করে ইমরান বলেন, ‘মোদিদের মতো মন-মানসিকতার লোকের জন্যই এই উপমহাদেশের মুসলমানরা আলাদা রাষ্ট্রের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে। এ ধরনের লোকের তৎপরতার বিরুদ্ধে এমনকি মহাত্মা গান্ধীও অনশন করতে বাধ্য হয়েছিলেন।

পাকিস্তানের দক্ষিণাঞ্চলে এক সমাবেশে দেওয়া ভাষণে গত শুক্রবার ইমরান এসব কথা বলেন। ইমরান আরো বলেন, ‘বাইরে কোনো রকম সন্ত্রাসবাদের জন্য এ সরকার পাকিস্তানের মাটি ব্যবহার হতে দেবে না। ইনশাআল্লাহ, আপনারা এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা দেখতে পাবেন।’ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সামনেই ভারতের নির্বাচন। এই নির্বাচনে জয়লাভ করার উদ্দেশ্যেই যুদ্ধের দামামা বাজিয়েছেন মোদি।’

পাকিস্তান সরকার সম্প্রতি জঙ্গি সংগঠনগুলোর ওপর দমনাভিযানের ঘোষণা দেওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী ইমরান এই বক্তব্য রাখলেন। পাকিস্তানের এ জঙ্গি দমনাভিযানকে ভারত লোক-দেখানো বলে অভিযোগ করেছে। তবে ইমরান বলছেন, ‘একটি শান্তিপূর্ণ, স্থিতিশীল পাকিস্তান গড়াই তাঁর কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য।’ তিনি বলেন, ‘আমরা এখন থেকে কোনো জঙ্গিগোষ্ঠীকেই আমাদের দেশে তৎপরতা চালাতে দেব না।’

ইমরান তাঁর ভাষণে বলেন, কায়েদ-ই-আজম মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর কাছ থেকে পাওয়া শিক্ষার ভিত্তিতেই তাঁর সরকার দেশ পরিচালনা করছে। পাকিস্তানের সব ধর্মমতের লোকের নিরাপত্তার ডাক জিন্নাই দিয়েছিলেন। তিনি বলেন, পিটিআই সরকার ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের রক্ষই প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করার অধিকার কারো নেই।’

সম্প্রতি ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে যে উত্তেজনা চলছে তার প্রতি ইঙ্গিত করে ইমরান বলেন, ‘ভারত যদি কোনো ভুল করে বসে তাহলে তার জবাব দেওয়ার জন্য পাকিস্তানের সেনাবাহিনী ও জনগণ পুরোপুরি প্রস্তুত। তিনি বলেন, ঘৃণা ছড়িয়ে ক্ষমতায় আসা কঠিন নয়। তবে বারবার একই কাজ করলে জনগণ গ্রহণ করবে না।’

সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালানো নিষিদ্ধ জঙ্গিগোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আন্তর্জাতিক চাপের মুখে আছে পাকিস্তান। গত ১৪ ফেব্রুয়ারি কাশ্মীরের পুলওয়ামায় নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর জঙ্গি হামলার প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক চাপ বাড়তে থাকার মধ্যে পাকিস্তান এ সপ্তাহ থেকে জঙ্গি দমনাভিযান শুরু করেছে। ওই ঘটনায় ভারতের আধাসামরিক বাহিনীর ৪০ জোয়ান নিহত হয়। জঙ্গিদের বিরুদ্ধে জোর দমনাভিযানে পাকিস্তান সরকার বৃহস্পতিবার ১৮২টি মাদরাসা বাজেয়াপ্ত করাসহ নিষিদ্ধ ঘোষিত দলগুলোর শতাধিক ব্যক্তিকে আটক করার কথা ঘোষণা করেছে।