বুধবার   ১১ মার্চ ২০২৬   ফাল্গুন ২৬ ১৪৩২   ২২ রমজান ১৪৪৭

বালাকোটে ভারতের হামলার ছবিগুলো ভুয়া: বিবিসি

নিউজ ডেস্ক

আমাদের নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৪:১৮ পিএম, ৮ মার্চ ২০১৯ শুক্রবার

পাকিস্তানের বালাকোটে ভারতীয় বিমান হামলা নিয়ে দেশটির ইউনিয়ন মন্ত্রী গিরিরাজ সিংয়ের একটি টুইট সম্প্রতি ভারতে ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, ভারতীয় বিমান বাহিনীর ঐ হামলায় একটি জঙ্গিগোষ্ঠীর প্রশিক্ষণ শিবির ধ্বংস হয়েছে। ভারতের একটি নামকরা টেলিভিশন চ্যানেলে ঐ ভিডিওটি সম্প্রচার করা হয়। - খবর বিবিসি’র

ভিডিওতে বালাকোটের দুটি স্যাটেলাইট চিত্র দেখানো হয়, যার প্রথমটি বিমান হামলার আগের এবং অপরটি হামলার পরের চিত্র বলে দাবি করা হয়। ফেসবুক, টুইটার এবং ইউটিউবে ভিডিওটি লক্ষ-লক্ষ বার দেখা এবং শেয়ার করা হয়েছে। 

ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের পুলওয়ামাতে জঈশ-ই-মোহাম্মদের দাবিকৃত হামলায় ৪০ জন ভারতীয় সেনা নিহত হবার পর ভারত ঐ বিমান হামলা চালায়।

তবে হামলার সফলতা প্রমাণের উদ্দেশ্যে তৈরি ওই ভিডিওটির সত্যতা নিয়ে ব্যাপক সন্দেহ তৈরি হয়েছে। ভিডিওর প্রথম স্যাটেলাইট চিত্রটি হামলার আগে ২৩ শে ফেব্রুয়ারি ধারণ করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়। আর দ্বিতীয় ছবিটি ২৬ শে ফেব্রুয়ারি অর্থাৎ হামলার পর ধারণ করা এবং ভারতীয় যুদ্ধবিমানের হামলায় ধ্বংসপ্রাপ্ত ভবনের ছবি বলে দাবি করা হয়। তবে বিবিসি বলছে, তাদের ফ্যাক্টচেক দলের অনুসন্ধানে দেখা যাচ্ছে, দ্বিতীয় ছবিটি বেশ কয়েক বছর আগে ধারণ করা।
 
ব্রিটিশ গণমাধ্যমটি বলছে, ভিডিওতে দেয়া অক্ষাংশ এবং দ্রাঘিমাংশের সাহায্যে আমরা দেখেছি যে, ছবিটি নেয়া হয়েছে ‘জুম আর্থ’ ওয়েবসাইট থেকে, মাইক্রোসফটের বিং ম্যাপের স্যাটেলাইট ছবির ওয়েবসাইট এটি।

ওয়েবসাইটটির প্রতিষ্ঠাতা পল নিভ বিবিসিকে বলেছেন, ওই ছবিটির সাথে বিমান হামলাকে সংযুক্ত করার সুযোগ নেই। ‘হ্যাঁ, ভবনটিতে বোমা হামলার প্রমাণ হিসেবে ছবিটি ব্যবহৃত হচ্ছে, কিন্তু ঘটনা আসলে সেটা নয়। এই ছবিটি সম্ভবত বেশ কয়েক বছরের পুরনো এবং তাতে দেখা যাচ্ছে যে, ভবনটির নির্মাণ কাজ চলছে,’ বলেন তিনি।

ওয়েবসাইটটি বলছে, শুধু মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার ছবিগুলোই (যেখানে মেঘ দেখা যাচ্ছে) প্রতিদিন আপডেট করা হয়। বিং ম্যাপের ছবিগুলো নিয়মিত আপডেট হয় না এবং কয়েক বছরের পুরনো।
 
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জুম আর্থের মাধ্যমে যে কেউ একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নির্দিষ্ট এলাকার ছবি খুঁজে নিতে পারেন। আমরা দেখেছি যে, দ্বিতীয় ছবিটি ২০১৫ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে সার্চ করলে খুঁজে পাওয়া যায়। এদিকে, প্রথম ছবিটি এখনো গুগল আর্থে রয়েছে।

এদিকে, মার্কিন প্রতিষ্ঠান প্ল্যানেট ল্যাবসের প্রকাশিত একটি ছবিতে দেখা যাচ্ছে, 'জইশ-ই-মোহাম্মাদের পরিচালিত একটি মাদ্রাসা' অক্ষত রয়েছে। ছবিটি ৪ মার্চ ধারণ করা বলে জানাচ্ছে প্ল্যানেট ল্যাবস।

মাদ্রাসাটি জইশ-ই-মোহাম্মাদের সঙ্গে যুক্ত কিনা তা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি, তবে ছবিতে যে ভবনটি দেখা যাচ্ছে সেটিই ধ্বংস করার দাবি করেছিল ভারত।