বাজেট মন্ত্রীর আকস্মিক পদত্যাগে বিপাকে ট্রুডো সরকার
আমাদের নারায়ণগঞ্জ
প্রকাশিত : ০৪:১৬ পিএম, ৫ মার্চ ২০১৯ মঙ্গলবার
দুর্নীতির তদন্তে সরকারের ওপর ব্যর্থতার অভিযোগ এনে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন কানাডার বাজেট মন্ত্রী ও ট্রেজারি বোর্ডের প্রেসিডেন্ট জেন ফিলপট। সোমবার এক ঘোষণায় পদত্যাগের এ আকস্মিক সিদ্ধান্তের কথা জানান তিনি।
পদত্যাগের সিদ্ধান্তের বিষয়ে তিনি জানান, ট্রুডো সরকারের প্রতি আস্থা হারিয়ে ফেলায় এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। - খবর বিবিসি’র
তিনি বলেন, আমাকে অবশ্যই আমার নিজস্ব মূল্যবোধ, নৈতিক দায়িত্ব ও সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার বিষয়ে অটল থাকতে হবে।
সরকারের উচ্চ পর্যায়ের এ মন্ত্রীর আকস্মিক পদত্যাগের ঘটনায় বেশ বড় ধরনের এক ধাক্কা খেয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জেন ফিলপটের আকস্মিক পদত্যাগে তিনি হতাশ হলেও ব্যাপারটি তিনি বিষয়টি বুঝতে পেরেছেন।
তবে কানাডীয় কোম্পানি এসএনসি-লাভালিনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলার বিচারে সরকারের হস্তক্ষেপের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন ট্রুডো।
ফিলপট তার পদত্যাগপত্রে বিস্তারিতভাবে লিখেছেন যে এসএনসি-লাভালিনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি মামলায় হস্তক্ষেপ করার জন্য রাজনীতিবিদেরা সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেলকে চাপ দিচ্ছেন—এমন প্রমাণে তিনি গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। এক বিবৃতিতে ফিলপট বলেন, কারো নীতির ওপর কাজ করার জন্য মূল্য দিতে হয়, তবে এর চেয়ে বেশি মূল্য দিতে হয় তাদের পরিত্যাগ করার জন্য। তিনি তার চিঠিতে লেখেন, এ মন্ত্রিসভার হয়ে দায়িত্ব পালন একেবারেই সমর্থনযোগ্য নয় তার জন্য।
এর আগে ফেব্রুয়ারিতে একই ইস্যুতে আইনমন্ত্রী জোডি উইলসন-রেবোল্ড পদত্যাগ করেন।
গেল সপ্তাহে বিরোধী দল কনজারভেটিভ পার্টি লিবারেল প্রধানমন্ত্রীকে পদত্যাগ করার আহ্বান জানান। এরইমধ্যে বেশ কয়েকটি জরিপে দেখা গেছে, অক্টোবরে জাতীয় নির্বাচনের আগে ট্রুডোর জনপ্রিয়তা বেশ কমেছে।
বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ নির্মাণ ও প্রকৌশল প্রতিষ্ঠান এসএনসি-লাভালিনের সঙ্গে কানাডার লিবারেল পার্টির সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। ২০০১ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত লিবিয়ায় সরকারি কর্মকর্তাদের ৩ কোটি ৬০ লাখ মার্কিন ডলার ঘুষ দিয়ে বড় কয়েকটি প্রকল্পের কাজ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে এসএনসি-লাভালিনের বিচার শুরু হয় ২০১৫ সালে।
দুর্নীতির মাধ্যমে ঠিকাদারি পেতে এসএনসি-লাভালিন লিবিয়া সরকারকে ১৩ কোটি মার্কিন ডলার জালিয়াতি করেছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। বাংলাদেশ ও কম্বোডিয়ায় ‘অসদুপায় অবলম্বনের’ অভিযোগে ২০২৩ সালে পর্যন্ত নিজেদের কোনো প্রকল্পে এসএনসি-লাভালিনকে নিষিদ্ধ করে বিশ্বব্যাংক।
সম্প্রতি কানাডার সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে তারাএসএনসি-লাভালিনকে সাজা না দিতে সরকারি কৌঁসুলিদের নির্দেশ দেয়ার জন্য সরকারি কর্মকর্তাদের ওপর চাপ প্রয়োগ করছে। দুর্নীতির মূলোৎপাটনের ঘোষণা দিয়ে ২০১৫ সালে নির্বাচনে জয়ী হয়েছিল লিবারেল পার্টি। আট মাস পরই কানাডায় আবার নির্বাচন হতে যাচ্ছে। এ অবস্থায় এসএনসি-লাভালিন ইস্যুতে সৃষ্ট রাজনৈতিক উত্তাপ জাস্টিন ট্রুডোর দলের জন্য বড় বিপদ হতে চলেছে।
