রোববার   ১৫ মার্চ ২০২৬   চৈত্র ১ ১৪৩২   ২৬ রমজান ১৪৪৭

খাসোগি হত্যায় ইসরাইল-সৌদি গোপন সখ্য বাধাগ্রস্ত

নিউজ ডেস্ক

আমাদের নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৬:৫৮ পিএম, ২০ ডিসেম্বর ২০১৮ বৃহস্পতিবার

যুক্তরাষ্ট্রের গোপন সহযোগিতায় সৌদি আরব ও ইসরাইলের মধ্যে সম্পর্ক জোরদারের উদ্যোগ খাসোগি হত্যাকাণ্ডের পর বাধাগ্রস্থ হচ্ছে বলে জানিয়েছে মার্কিন পত্রিকা ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।

সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ও তার দুই সহযোগী সাংবাদিক জামাল খাসোগিকে হত্যার সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ ওঠার পর এই তৎপরতা পিছিয়ে পড়ে।

অক্টোবর মাসে জামাল খাসোগি হত্যার জন্য সালমানই দায়ী বলে সম্প্রতি একমত হয়েছে মার্কিন সিনেট। দীর্ঘদিনের শত্রু ইসরাইলের সঙ্গে বন্ধুত্ব তৈরির উদ্যোগে নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন সালমান, মঙ্গলবার জানায় ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।

কিন্তু বিশ্বজুড়ে সমালোচনার ঝড় শুরু হওয়ায় এবং রাজসভায় অভ্যন্তরীণ বিবাদ শুরু হওয়ায় যুবরাজের প্রভাব কমে গেছে। একারনে এখন আর তারা ঝুঁকিপূর্ণ বৈদেশিক সম্পর্ক স্থাপনে আগ্রহী নয়। এই উদ্যোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের উদ্ধৃতি দিয়ে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল একথা জানায়।

‘খাসোগি হত্যার পর সব ঠাণ্ডা মেরে গেছে। এখন সৌদি আরেকবার সমালোচনার সম্মুখীন হতে চাইবে না,’ জার্নালকে বলেন একজন সৌদি কর্মকর্তা।

 

সৌদি আরব ইসরাইলকে আনুষ্ঠানিক ভাবে স্বীকৃতি দেয়নি। এবং রাজা সালমান খাসোগি সংকটের পর রাজ্যশাসনে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন শুরু করেছেন। সম্প্রতি তিনি বলেন, ওই অঞ্চলে ইসরাইল-ফিলিস্তিন সংকটকে ‘সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার’ দিবে তার রাজ্য।

খাসোগি হত্যাকাণ্ডের পর যুবরাজ সালমানের দুই ঘনিষ্ঠ সহযোগী পদচ্যুত হওয়াতেও ইসরাইলের সঙ্গে মৈত্রীর উদ্যোগ বাধাগ্রস্ত হয়েছে।

পদচ্যুত দুই সহযোগী হচ্ছেন রাজসভার সাবেক উপদেষ্টা সৌদ আল-কাহতানি এবং ডেপুটি ইন্টেলিজেন্স চিফ আহমেদ আল-আসারি। সৌদি আরব ও ইসরাইলের মধ্যে গোপন যোগাযোগের ক্ষেত্রে তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছিলেন বলে জানায় সংশ্লিষ্ট সূত্র।

ইসরাইলের প্রতি মানুষের মনোভাব নরম করে তুলতে কাহতানি সৌদি আরবের সংবাদমাধ্যমকে বিভিন্ন নির্দেশনা দিয়েছিলেন। একই সঙ্গে ইসরাইলি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে গুপ্তচরবৃত্তির অত্যাধুনিক প্রযুক্তি কিনতেও তিনি ভূমিকা পালন করেন বলে জানায় জার্নাল।

অন্যদিকে আল-আসারি গোপনে কয়েকবার ইসরাইল সফর করেছিলেন। ইসরাইলের প্রযুক্তি দিয়ে সৌদি আরব কিভাবে লাভবান হতে পারে তাই নিয়ে বৈঠক করেন এসব সফরকালে।

জার্নালের তথ্য অনুযায়ী আসারিই ইসরাইলের মাটিতে পা রাখা সবচেয়ে উচ্চপদস্থ সৌদি কর্মকর্তা।

বাধার সম্মুখীন হওয়া সত্ত্বেও সৌদি ও ইসরাইল গোপনে সম্পর্ক জোরদার করে যাওয়ার চিন্তা করছিল বলে জানায় জার্নাল। কারণ, দুই দেশের অভিন্ন ব্যবসায়ীক ও নিরাপত্তাজনিত স্বার্থ রয়েছে।

পত্রিকাটি আরও জানায়, সৌদি সরকার ইসরাইলের বিভিন্ন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানে কমপক্ষে ১০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করার বিষয়ে চিন্তা করছে। সেই সঙ্গে ইসরাইলি ব্যবসায়ীদের ইসরাইলের পাসপোর্ট ছাড়াই বিশেষ দলিলের মাধ্যমে সৌদিতে সফরের অনুমতি দেয়ার কথা ভাবছে সৌদি।