‘তাগিদ দিয়েও গোডাউন না সরানো দুঃখজনক’
আমাদের নারায়ণগঞ্জ
প্রকাশিত : ১২:১৫ পিএম, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ শনিবার
মালিকদের বার বার তাগিদ দেয়ার পরেও পুরান ঢাকা থেকে কেমিক্যালের গোডাউন না সরানো দু:খজনক বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
শনিবার সকালে রাজধানীর চকবাজারে অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ ও আহতদের দেখতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে এসে তিনি একথা বলেন।
বেলা ১০টার দিকে প্রধানমন্ত্রী ঢামেকে পৌঁছান। তিনি হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন দগ্ধ ও আহতদের খোঁজখবর নেন। এসময় তিনি এ ধরনের আগুন নির্বাপনে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রী জানান, শুক্রবার ও শনিবার সপ্তাহিক ছুটি থাকার কারণে আমরা অফিস করতে পারিনি। আগামীকাল অফিস চালু হলে অগ্নিকাণ্ডে নিহত ও আহতদের জন্য রাষ্ট্রীয়ভাবে শোক প্রকাশ করা হবে।
এসময় প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীকে ধৈর্য্য ধরার কথা বলেন। তিনি বলেন, সকলেই যেন সতর্কভাবে চলেন, যেন এই ধরনের দুর্ঘটনা না ঘটে। আর পুরান ঢাকায় যত কেমিক্যাল রয়েছে তা সরানোর জন্য মোবাইল কোর্ড করেও সরাতে পারিনি। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক যে সেটা সাময়িকভাবে বন্ধ রেখে, তারা আবার কেমিক্যাল ব্যবসা করা শুরু করে। ভবিষ্যতে তারা যেন এটি আর না করেন।
তিনি আরো বলেন, যে প্রজেক্ট আমরা হাতে নিয়েছিলাম তা বাস্তবায়ন করা হবে। আর অলিগলি যে সরু রাস্তা তা আমাদের নতুনভাবে গড়ে তুলতে হবে। যাতে করে ফায়ার সার্ভিসের লোক যেতে পারে। ঢাকায় নানান ধরনের পুকুর ও খাল ছিলো। কিন্তু দুর্ভাগ্য হলো সে খালগুলোতে বসতবাড়ি করা হয়েছে। আর জায়গার জন্য সবার আগে পুকুরগুলোকেও বন্ধ করে। দুর্ঘটনায় পানি পাওয়া খুবই কষ্টকর। তাই সকলের কাছে অনুরোধ পুকুরগুলো যেন আর বন্ধ করা না হয়। এই ধরনের আগুন লাগলে পানির অভাব যেন না থাকে। দেশবাসী যেন দোয়া করেন, এই ধরনের দুর্ঘটনা যেন আর না ঘটে।
প্রধানমন্ত্রী এই ঘটনা ঘটনার পর প্রতি মুহূর্তের খোঁজ-খবর নেন; পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশও দেন। এছাড়া পরবর্তী সময়ে নিহতদের পরিবারকে সহায়তা এবং আহতদের যথাযথ চিকিৎসা দেয়ার জন্য নির্দেশ দেন।
বুধবার রাতে প্রাইভেট কার ও পিকআপের সিলিন্ডার বিস্ফোরণের পর চকবাজারের চুড়িহাট্টা মোড়ের পাঁচটি ভবনে আগুন ধরে যায়। সেসব ভবন এবং আশপাশের দোকানে থাকা রাসায়নিক আর প্লাস্টিক-পারফিউমের গুদাম ওই আগুনকে ভয়াবহ মাত্রা দেয়। এ ঘটনায় ৭০ জন নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছেন ডিএসসিসি মেয়র সাঈদ খোকন। তবে ঢাকা জেলা প্রশাসন জানিয়েছে ৬৭ জন। আর ফায়ার সার্ভিস দাবি করে তারা প্রায় ৮০ থেকে ৮১ মরদেহ উদ্ধার করেছে। এদের মধ্যে ৪৬ জনের মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে। মরদেহের সঙ্গে দাফন বাবদ ২০ হাজার করে টাকা দিয়েছে জেলা প্রশাসন।
আহতদের মধ্যে নয়জন ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসা নিচ্ছেন, তাদের অবস্থাও আশঙ্কাজনক বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। এছাড়া আহত আরো নয়জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।
