বুধবার   ১১ মার্চ ২০২৬   ফাল্গুন ২৭ ১৪৩২   ২২ রমজান ১৪৪৭

পাকিস্তানের পানির প্রবাহ আটকাবে ভারত!

আমাদের নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ১০:৫৩ এএম, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ শনিবার

পাকিস্তানের দিকে বয়ে চলা নদীর প্রবাহ পথ বন্ধ করে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারত। সম্প্রতি ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু-কাশ্মীরে নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর জঙ্গি হামলার ঘটনার জেরে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। খবর- পার্সটুডে ও রয়টার্স।

বৃহস্পতিবার ভারতের পানিসম্পদমন্ত্রী নীতিন গড়কড়ি এই তথ্য জানান। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টুইটারে প্রকাশিত বার্তায় নীতিন বলেন, আমাদের সরকার ভারত হয়ে পাকিস্তানের দিকে যাওয়া নদীর পানির প্রবাহ বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পূর্বাঞ্চলীয় নদীগুলো থেকে পানির প্রবাহ ঘুরিয়ে নিয়ে তা জম্মু ও কাশ্মীর এবং পাঞ্জাবের দিকে নিয়ে যাওয়া হবে।

তিনি আরো বলেন, ইরাবতী, বিপাশা এবং শতদ্রু নদীর পানির প্রবাহমুখ ঘুরিয়ে নেয়া হবে। টুইটে তিনি উল্লেখ করেন, এরই মধ্যে ইরাবতী নদীর উপর বাঁধ দেয়ার কাজ শুরু হয়ে গেছে। আমাদের ভাগের বাকি দুটি নদীর উপরও বাঁধ দিয়ে অভিমুখ ঘুরিয়ে দেয়া হবে। সবকটি প্রকল্পকে জাতীয় প্রকল্প হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

 

১৯৬০ সালে দুদেশের মধ্যে সম্পাদিত সিন্ধু চুক্তি অনুযায়ী, ভারত ও পাকিস্তান মোট ছয়টি নদীর পানি ভাগাভাগি করে। এর মধ্যে তিনটি নদীর সম্পূর্ণ অধিকার রয়েছে ভারতের হাতে। সেই তিনটি নদী ইরাবতী, বিপাশা এবং শতদ্রু। অন্য দুই নদী ঝিলম ও চন্দ্রভাগা পাকিস্তানের দিকে। এছাড়া সিন্ধু নদের পানির সম্পূর্ণ অধিকারও পাকিস্তানের। 

এদিকে পাকিস্তানের সঙ্গে আলোচনার সময় শেষ হয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। কাশ্মীরে আক্রমণের পেছনে পাকিস্তানের মদদের ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, জঙ্গি ও তাদের সমর্থকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেয়া মানে তাদের উৎসাহিত করা।

পাকিস্তানের পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে দেয়া বিবৃতিতে বলা হয়েছে, পানি প্রবাহ বন্ধের সিদ্ধান্ত পুরোপুরিই ভারতের। পানিসম্পদমন্ত্রী খাজা সুমাইল বলেন, তাদের দিককার তিন নদীর পানি প্রবাহ বন্ধ করা নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন নই। এতে সিন্ধু চুক্তিও ভঙ্গ হবে না। তিনি আরো বলেন, গড়কড়ির টুইটে চিন্তিত হওয়ার কিছু নেই। 

তবে ২০ কোটি জনগোষ্ঠীর কৃষিভিত্তিক এই দেশে পানি প্রবাহ বন্ধ হলে ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছেন পাকিস্তানের বিশেষজ্ঞরা। 

 

উল্লেখ্য, ১৯৪৭ সালের দেশ বিভাগের পর ভারত-পাকিস্তানে তিনটি বড় যুদ্ধ হলেও সিন্ধু পানিচুক্তি অব্যাহত ছিল।