যুদ্ধ না চাইলেও পাক সেনাবাহিনী প্রস্তুত
আমাদের নারায়ণগঞ্জ
প্রকাশিত : ১০:৫১ এএম, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ শনিবার
পাকিস্তানে যে কোন ধরনের সামরিক অভিযান পরিচালনার ক্ষেত্রে ভারতকে সতর্ক করে দিয়েছে পাকিস্তান সেনাবাহিনী। এছাড়া পাকিস্তান ভারতের যে কোন আক্রমণ বা হুমকি ফিরিয়ে দিতে সক্ষম বলেও দাবি করেছে তারা।
শুক্রবার দেশটির আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতর ‘আইএসপিআর’ এর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আসিফ গফুর বলেন, আমরা আশা করি, ভারত আমদের সঙ্গে লাগতে আসবে না। কাশ্মীরের পুলওয়ামায় সন্ত্রাসী হামলায় পাকিস্তানের জড়িত থাকার কোনো প্রমাণ ছাড়াই ভারত ইসলামাবাদকে দোষারোপ করেছে। খবর- পার্স টুডে ও এএফপি।
রাওয়ালপিন্ডিতে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি আরো বলেন, ভারত এখনো দুদেশ ভাগ হয়ে যাওয়ার বাস্তবতাকে মেনে নেয়নি। ১৯৬৫ সালে ভারত পাকিস্তানের ওপর যুদ্ধ চাপিয়ে দিয়েছে এবং আত্মরক্ষার কথা বলে তারা পরমাণু অস্ত্র বানিয়েছে।
এছাড়া ভারত সব সময় সন্ত্রাসবাদের মাধ্যমে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে আসছে। কাশ্মীরের সাম্প্রতিক হামলা প্রসঙ্গে আইএসপিআর এর মহাপরিচালক বলেন, সীমান্ত রেখা বরাবর ভারতের কয়েক স্তরের সেনা রয়েছে। সীমান্ত থেকে কয়েক মাইল ভেতরে হামলা হয়েছে। ভারতের এসব সেনাকে এড়িয়ে কী করে পাকিস্তানি সেনারা সেখানে হামলা করতে পারে? এক্ষেত্রে ভারত তাদের সেনাবাহিনীকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারে।
আসিফ গফুর বলেন, ভারত যুদ্ধ শুরুর চেষ্টা করছে কিন্তু আমরা তা করছি না। আমরা শুধু আমাদের দেশকে রক্ষার চেষ্টা করছি, যা আমাদের অধিকার। কিন্তু আমরা আপনাদেরকে আশ্বস্ত করছি, আপনারা আগ্রাসন শুরু করলে আমাদের সেনাবাহিনী বিস্মিত হবে না কিন্তু আমরা আপনাদেরকে বিস্মিত করে দেব। আশা করি আপনার বার্তা পেয়েছেন এবং পাকিস্তানের সঙ্গে সংঘাতে জড়াতে যাবেন না। সেনারা তাদের শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত মাতৃভূমি রক্ষার জন্য লড়াই করবে।
তিনি আরো বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী ভারতকে জবাব দিয়েছেন কিন্তু সামরিক বাহিনীর জবাব হবে ভিন্ন। আমরা আশা করি, ভারত সংলাপের মাধ্যমে শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব গ্রহণ করবে।
উল্লেখ্য, ১৪ ফেব্রুয়ারি ভারতের জম্মু-কাশ্মীরের পুলওয়মায় জঙ্গি হামলায় দেশটির আধা সামরিক বাহিনী সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ ফোর্স (সিআরপিএফ) এর গাড়ি বহরে এক জঙ্গি হামলায় ৪০ সেনা সহ ৪৪ জন নিহত হয়।
ভারত সরকার এ হামলার ঘটনায় পাকিস্তান সরকার জড়িত বলে সরাসরি অভিযোগ করেছে। ফলে এ ঘটনার জের ধরে প্রতিবেশী পরমাণু শক্তিধর দুই দেশের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে।
