বৃহস্পতিবার   ১২ মার্চ ২০২৬   ফাল্গুন ২৭ ১৪৩২   ২৩ রমজান ১৪৪৭

মিয়ানমার সেনাপ্রধানের রাখাইন অভিযান অস্বীকার

আমাদের নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৩:২১ পিএম, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ রোববার

মিয়ানমারের রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর সেনাবাহিনী পরিচালিত জাতিগত নিধন অভিযান ও পদ্ধতিগত নিপীড়নের কথা অস্বীকার করেছেন দেশটির সেনাপ্রধান মিন অং হ্লাইয়াং।

 

দেশটির পশ্চিমাঞ্চলীয় রাখাইন রাজ্যে সেনা অভিযান চালিয়ে রোহিঙ্গা মুসলিমদের হত্যা, ধর্ষণসহ অগ্নিকাণ্ডের মাধ্যমে ঘর-বাড়ি পুড়িয়ে দেয়া হয়। এই অভিযোগে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থা দেশটির সেনা প্রধানকে অভিযুক্ত করে তার বিচারের মুখোমুখি করার দাবি জানিয়ে আসছিল। 

এ সব অভিযোগের মধ্যেই তিনি জাপানভিত্তিক দৈনিক আশি শিম্বুনেকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর ওপর আনীত সব আন্তর্জাতিক অভিযোগ অস্বীকার করলেন। খবর রয়টার্স।

 

২০১৭ সালে রাখাইনে সেনা অভিযান শুরু হওয়ার পর এই প্রথম লম্বা কোনো সাক্ষাৎকার দিলেন তিনি। এতে তিনি জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী রাখাইনে নিধন অভিযান শুরু হওয়ার পর বাংলাদেশে যে ৭ লাখ ৩০ হাজার রোহিঙ্গা পালিয়ে এসেছে, সে সংখ্যা নিয়ে সন্দেহ পোষণ করেন।

সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে রোহিঙ্গা হত্যা-ধর্ষণ-নিধনের যে অভিযোগ আছে তা অস্বীকার করে তিনি বলেন, ‘কোনো প্রমাণ ছাড়াই সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ মিয়ানমারের ভাবমূর্তি নষ্ট করেছে।’

২০১৭ সালের আগস্টে বাংলাদেশ সীমান্তসংলগ্ন দেশটির কয়েকটি তল্লাশি চৌকিতে রোহিঙ্গাদের হামলার প্রেক্ষিতে পাল্টা নিধন অভিযান শুরু করে সেনাবাহিনী। গত বছর জাতিসংঘের একটি ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশন জানায়, রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে গণহত্যা ও গণধর্ষণ চালিয়েছে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। আর এজন্য সেনাপ্রধান মিন অং হ্লাইয়াংকে বিচারের মুখোমুখি করার দাবি জানায় সংস্থাটি।

২০১৭ সালের অক্টোবরে সেনাপ্রধান মিন অং হ্লাইয়াং বলেন, রোহিঙ্গা মুসলিমরা মিয়ানমারের জনগোষ্ঠী নয়। আর দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সংখ্যা গণমাধ্যমে অতিরঞ্জিত করে প্রকাশ করা হয়েছে। তিনি রোহিঙ্গাদের ‘বাঙালি’ বলে মন্তব্য করেন। এছাড়া তিনি আরো বলেন, রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের জন্য ক্ষতিকর।

 

জাতিসংঘ মিয়ানমারের সার্বভৌমত্বে ‘হস্তক্ষেপ’ করার অধিকার রাখে না বলে এর আগে মন্তব্য করেছিলেন সেনাপ্রধান মিন অং হ্লাইয়াং। সেনাদের ধর্ষণ, নির্যাতনের পর মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের গণহত্যার অভিযোগে দেশটির শীর্ষ জেনারেলদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে বিচারের জন্য জাতিসংঘের তদন্তকারীদের আহ্বান জানানোর পর তিনি এ কথা বলেন।