বৃহস্পতিবার   ১২ মার্চ ২০২৬   ফাল্গুন ২৭ ১৪৩২   ২৩ রমজান ১৪৪৭

চীনে বন্দি শিবির বন্ধের দাবি

আমাদের নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ১১:০০ এএম, ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ সোমবার

চীনে বন্দি শিবিরে উইঘুর সম্প্রদায়ের প্রখ্যাত এক সংগীত শিল্পীর মৃত্যুর ঘটনায় ব্যাপক নিন্দা জানিয়েছে তুরস্ক। চীনের জিনজিয়াং প্রদেশের সংখ্যালঘু মুসলিম উইঘুরদের জন্য সরকার যেসব বন্দি শিবির স্থাপন করেছে, সেগুলোও বন্ধের দাবি জানিয়েছে।

 

তুরস্ক জানিয়েছে, চীন সরকার তাদের সংখ্যালঘু উইঘুর মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতি যে ব্যবহার করছে, তা সমগ্র মানবজাতির জন্য অনেক বড় একটি লজ্জার। প্রখ্যাত মুসলিম সংগীতশিল্পী আবদুরহিম হেইত বন্দি শিবিরে আট বছরের সাজা ভোগ করা অবস্থায় সম্প্রতি মারা যান।

তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘কনসেনট্রেশন ক্যাম্পে’ বন্দিদের নির্যাতনের শিকার হতে হচ্ছে। যদিও চীন বলছে, ওই সব ক্যাম্পে উইঘুর মুসলমানদের কারিগরি প্রশিক্ষণ দিয়ে সমাজের মূল ধারায় নেয়ায় প্রক্রিয়া চলছে।

 

বিবৃতিতে তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়, ‘এটা আর কোনো গোপন বিষয় নয়, দশ লাখেরও বেশি উইঘুর মুসলিমকে অবৈধভাবে ‘কনসেনট্রেশন ক্যাম্পে’ আটকে রাখা হয়েছে। এসব বন্দিকে নির্যাতন করে ‘রাজনৈতিকভাবে মগজধোলাই’ করা হচ্ছে। মানবতার প্রতি শ্রদ্ধা দেখিয়ে এসব ক্যাম্প বন্ধ করে দেয়ার আহ্বান জানাচ্ছে তুরস্ক।’

একুশ শতকে এসে এ ধরনের ঘটনা অমানবিক মন্তব্য করে ওই তুর্কি মুখপাত্র আরো বলেন, শিল্পী আবদুরহিম হেইতের মৃত্যুর ঘটনা জিনজিয়াংয়ে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ব্যাপারে তুরস্কের জনগণের মধ্যে প্রবল ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।

তুরস্ক এ ব্যাপারে জাতিসংঘ মহাসচিবের পদক্ষেপ আশা করে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে। চীনের জিনজিয়াং অঞ্চলে এক কোটির মত উইঘুর মুসলিম বাস করে, যা অঞ্চলটির মোট জনসংখ্যার ৪৫ শতাংশ।

চীনের এই বন্দি শিবির নিয়ে জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো একাধিকবার উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সেইসঙ্গে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোও যথাযথ তথ্য-প্রমাণসহ অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। কিন্তু কোনো কিছুতেই পাত্তা দিচ্ছে না বেইজিং। সমালোচকরা বলছেন, ওই বন্দি শিবির কারাগারের চেয়েও বেশি কিছু।

 

সম্প্রতি ব্রিটিশ গণমাধ্যম গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উইঘুর মুসলিমদের আটকে রাখা ওই শিবিরগুলোর ‘নিরাপত্তা’ বাড়াতে সেখানে প্রশিক্ষণ খুলতে যাচ্ছে কুখ্যাত বেসরকারি নিরাপত্তা সংস্থা ব্লাকওয়াটার। এ ব্যাপারে সংস্থাটির সঙ্গে চীনা কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক চুক্তি হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

বন্দি শিবির থেকে পালিয়ে যাওয়া অনেকে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোকে বলেছেন, তাদের ইতিহাস-ঐহিত্য মুছে ফেলতে এবং চীনা কমিউনিস্ট পার্টির প্রতি আনুগত্য তথা ‘ঈশ্বর’মেনে নিতে তাদের ওপর ব্যাপক অত্যাচার-নির্যাতন চালাচ্ছে কর্তৃপক্ষ।