বৃহস্পতিবার   ১২ মার্চ ২০২৬   ফাল্গুন ২৭ ১৪৩২   ২৩ রমজান ১৪৪৭

সমকামী সম্পর্কে বান্ধবীকে কাছে পেতে আদালতে তরুণী!

আমাদের নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ১২:৩১ পিএম, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ রোববার

নিজের সঙ্গিনীকে ফিরে পেতে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন এক তরুণী। কেননা পরিবার মেয়েকে অসুস্থ’ সাজিয়ে সমকামী সম্পর্কে বাঁধা দেয়। আর তাই আদালতে হাজির হন তরুণী।

 

অবশেষে মেডিক্যাল রিপোর্ট হাতে পেতেই উদঘাটিত হল সত্য। আদালত জানিয়ে দিল, সুস্থ-স্বাভাবিক প্রাপ্তবয়স্ক মেয়েকে ‘অসুস্থ’ তকমা দিয়ে সমকামী সম্পর্ক থেকে দূরে রাখার কোনো এখতিয়ার পরিবারের নেই!

কলকাতা হাইকোর্টের এমন হস্তক্ষেপের ফলে নিজের পছন্দের সঙ্গিনীকে কাছে পেলেন সুষমা সিংহ (নাম পরিবর্তিত) নামে সেই তরুণী। চিত্র-বিচিত্রের দেশ ভারতে সমকামী যৌন সম্পর্কের পথে অন্তরায় সেই ৩৭৭ ধারা বাতিল হওয়ার পর হাইকোর্টের এই রায় অত্যন্ত তাত্‍পর্যপূর্ণ বলে আইনীজীবী মহলের ব্যাখ্যা।

 

সমকামের সম্পর্ক জেনে ফেলায় সঙ্গিনীকে তার বাড়ির লোক জোরপূর্বক আটকে রেখেছে। মেয়েকে ‘অসুস্থ’ সাজিয়ে মেলামেশায় বাধা দেয়া হচ্ছে। সঙ্গিনী পারমা রায়কে (নাম পরিবর্তিত) ফিরে পেতে এমন দাবি নিয়ে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও বিচারপতি রবিকিষান কাপুরের ডিভিশন বেঞ্চের দ্বারস্থ হয়েছিলেন সুষমা। 

জিজ্ঞাসাবাদে সুষমার আইনজীবি দাবি করেন, সুষমা ও পারমার মধ্যে সমকামী যৌন সম্পর্ক রয়েছে, যা এখন কোনো অপরাধ নয়। অথচ তাদের মেলামেশায় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে পারমার পরিবার। প্রাপ্তবয়স্ক মেয়েটিকে অসুস্থ সাজিয়ে আটকে রাখা হচ্ছে।

পারমার পরিবারের আইনজীবী পাল্টা দাবি করেন, পারমা মোটেই সমকামী নন। তার মানসিক সুস্থিতি নেই। অসুস্থ মেয়েটিকে সুষমা জোর করে সমকামী প্রমাণের চেষ্টা করছেন বলে তার অভিযোগ।

বিবাদী পক্ষের আইনজীবি এও বলেন, এ কারণে হাসপাতালে একাধিকবার পারমার চিকিৎসা হয়েছে। আগে তাকে একটি রিহ্যাবে রেখে বহুদিন চিকিৎসা করানো হয়েছিল।

 

জবাবে সুষমার আইনজীবির প্রশ্ন, ১৬৪ ধারায় ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে দেয়া গোপন জবানবন্দিতে পারমা নিজে স্বীকার করেছেন, তিনি সমকামী। সুষমার সঙ্গে যে তার দীর্ঘদিন সমকামী যৌন সম্পর্ক ছিল, সে কথাও আদালতের নথিতে রয়েছে। তা সত্ত্বেও প্রাপ্তবয়স্ক মেয়েটিকে পরিবারের পক্ষে অসুস্থ সাজানোর চেষ্টা চলছে বলে বাদী পক্ষের অভিযোগ।

জবাব শুনে আদালত নির্দেশ দেয়, ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ে জন্য মনস্তত্ত্ববিদদের নিয়ে একটি মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করা হোক। বোর্ডকে পারমার শারীরিক ও মানসিক পরীক্ষার নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট। দিন কয়েক আগেই আদালতে সেই রিপোর্ট জমা পড়ে। মেডিক্যাল বোর্ড তাতে স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, পারমা শারীরিক ও মানসিকভাবে সম্পূর্ণ সুস্থ।

এই রিপোর্ট দেখার পরই বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও বিচারপতি রবিকিষাণ কাপুরের ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়ে দেয়, পারমা সম্পূর্ণ সুস্থ। ফলে নিজের পছন্দমতো সমকামী সঙ্গীনি খুঁজে নেয়ার তার সম্পূর্ণ আধিকার রয়েছে। তাতে কেউ হস্তক্ষেপ করতে পারে না। এই রায়ের পরই মামলাটি খারিজ করে দেয় ডিভিশন বেঞ্চ।