বৃহস্পতিবার   ১২ মার্চ ২০২৬   ফাল্গুন ২৭ ১৪৩২   ২৩ রমজান ১৪৪৭

উইঘুর শিল্পীর মৃত্যু, ‘বন্দি শিবির’ বন্ধের দাবি তুরস্কের

আমাদের নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ১১:৫৩ এএম, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ রোববার

চীনের জিনজিয়াং প্রদেশে দেশটির সংখ্যালঘু মুসলিম উইঘুরদের জন্য সরকার যেসব ‘বন্দি শিবির’ স্থাপন করেছে তা বন্ধের দাবি জানিয়েছে তুরস্ক। ওই বন্দি শিবিরে উইঘুর সম্প্রদায়ের এক প্রখ্যাত সংগীত শিল্পীর মৃত্যুর ঘটনার পর এ দাবি জানালো আঙ্কারা।

 

বিবিসি বলছে, আবদুরহিম হেইত নামের ওই শিল্পী বন্দিশিবিরে আট বছরের সাজা ভোগ করছিলেন। সম্প্রতি তিনি মারা যান।

তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘কনসেনট্রেশন ক্যাম্পে’বন্দিদের ‘নির্যাতনের’শিকার হতে হচ্ছে। যদিও চীন বলছে, ওইসব ক্যাম্পে উইঘুর মুসলমানদের কারিগরি প্রশিক্ষণ দিয়ে সমাজের মূল ধারায় নেওয়ায় প্রক্রিয়া চলছে।

হামি আকসির নামে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওই মুখপাত্র বিবৃতিতে বলেন, ‘এটা আর কোনো গোপন বিষয় নয় যে, দশ লাখেরও বেশি উইঘুর মুসলিমকে অবৈধভাবে ‘কনসেনট্রেশন ক্যাম্পে’আটকে রাখা হয়েছে। এসব বন্দিকে নির্যাতন করে ‘রাজনৈতিকভাবে মগজধোলাই’করা হচ্ছে। মানবতার প্রতি শ্রদ্ধা দেখিয়ে এসব ক্যাম্প বন্ধ করে দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছে তুরস্ক।’

একুশ শতকে এসে এ ধরনের ঘটনা অমানবিক মন্তব্য করে ওই তুর্কি মুখপাত্র আরো বলেন, শিল্পী আবদুরহিম হেইতের মৃত্যুর ঘটনা জিনজিয়াংয়ে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ব্যাপারে তুরস্কের জনগণের মধ্যে প্রবল ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।

তুরস্ক এ ব্যাপারে জাতিসংঘ মহাসচিবের পদক্ষেপ আশা করে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

জিনজিয়াংয়ে চীনা সরকারের বন্দি শিবির, ছবি: গার্ডিয়ান

জিনজিয়াংয়ে চীনা সরকারের বন্দি শিবির, ছবি: গার্ডিয়ান

চীনের এই বন্দি শিবির নিয়ে জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো একাধিকবার উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সেইসঙ্গে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোও যথাযথ তথ্য-প্রমাণসহ অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। কিন্তু কোনো কিছুতেই পাত্তা দিচ্ছে না বেইজিং।

সম্প্রতি ব্রিটিশ গণমাধ্যম গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উইঘুর মুসলিমদের আটকে রাখা ওই শিবিরগুলোর ‘নিরাপত্তা’ বাড়াতে সেখানে প্রশিক্ষণ খুলতে যাচ্ছে কুখ্যাত বেসরকারি নিরাপত্তা সংস্থা ব্লাকওয়াটার। এ ব্যাপারে সংস্থাটির সঙ্গে চীনা কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক চুক্তি হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

বন্দি শিবির থেকে পালিয়ে যাওয়া অনেকে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোকে বলেছেন, তাদের ইতিহাস-ঐহিত্য মুছে ফেলতে এবং চীনা কমিউনিস্ট পার্টির প্রতি আনুগত্য তথা ‘ঈশ্বর’মেনে নিতে তাদের ওপর ব্যাপক অত্যাচার-নির্যাতন চালাচ্ছে কর্তৃপক্ষ।

সমালোচকরা বলছেন, ওই বন্দি শিবির কারাগারের চেয়েও বেশি কিছু।

আরপি