অরুণাচলে মোদির সফরে নিন্দা জানালো চীন
আমাদের নারায়ণগঞ্জ
প্রকাশিত : ১১:৫১ এএম, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ রোববার
ভারতের উত্তরপূর্ব সীমান্তের পাশে অবস্থিত অরুণাচল প্রদেশ সফরে যাওয়ায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নিন্দা জানিয়েছে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
কাতারের সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা জানায়, শনিবার দেয়া বিবৃতিতে চীন বলেছে, ওই এলাকায় ভারতীয় নেতাদের সব ধরনের কার্যক্রমের 'বিরোধিতা' করছে তারা।
আসন্ন নির্বাচন উপলক্ষে বিজেপির জন্য ভোট চাইতে পর পর কয়েকটি জনসভায় অংশ নিয়েছেন মোদি। তারই অংশ হিসেবে অরুণাচল সফর করেন তিনি।
ভারতের আনন্দবাজার পত্রিকা জানায়, চীন বলছে, এই সফর দু’দেশের মধ্যে সীমান্ত বিরোধকে জটিল করে তুলল। এর প্রতিবাদ জানাতে দেরি করেনি ভারত। দিল্লি জানিয়ে দিয়েছে, এ ব্যাপারে বেইজিংয়ের বিরক্তি, অসন্তোষকে একেবারেই গুরুত্ব দিতে রাজি নয়। কারণ, অরুণাচল ভারতেরই অঙ্গরাজ্য। দেশের অন্যান্য রাজ্যের মতো অরুণাচল সফরে আগেও গিয়েছেন ভারতের রাজনৈতিক নেতারা। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সফর কোনও ব্যাতিক্রমী ঘটনা নয়।
প্রধানমন্ত্রী মোদির অরুণাচল সফর নিয়ে প্রশ্নের জবাবে চীনা বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র হুয়া চুনিয়িং শনিবার বলেন, ‘চীন-ভারত সীমান্ত প্রশ্নে চীনের অবস্থানে কোনও বিভ্রান্তি নেই। তা তাৎক্ষণিক বা সাময়িক নয়। তার ধারাবাহিকতা রয়েছে। তথাকথিত ‘অরুণাচল প্রদেশ’কে চীন কোনও দিনই স্বীকৃতি দেয়নি। চীন-ভারত সীমান্তের পূর্ব দিকে কোনও ভারতীয় রাজনীতিকের সফরকে আমরা আদৌ সমর্থন করি না।’
তার পাল্টা জবাবে ভারতের বিদেশমন্ত্রকের তরফে একটি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘অরুণাচল প্রদেশ ভারতের বাইরে নয়। তা ভারতেরই একটি অঙ্গরাজ্য। অন্যান্য রাজ্যের মতো অরুণাচলে এর আগেও গিয়েছেন ভারতীয় রাজনীতিকরা। এবার তার অন্যথা হয়নি।’
মোদির অরুণাচল সফরে চীন কতটা চটেছে, তা এ দিন স্পষ্ট হয়ে যায় চীনা বিদেশমন্ত্রকের ওয়েবসাইটে। সেখানে বিদেশমন্ত্রকের মুখাপাত্র হুয়া চুনিয়িং বলেছেন, ‘দু’টি দেশের স্বার্থকেই মনে রাখার অনুরোধ জানাচ্ছি ভারতকে। চীনের স্বার্থ, চীনের উদ্বেগের কথাও যেন মনে রাখা হয়। যাতে দু’দেশের সম্পর্ক জোরদার হয়ে ওঠার গতি বাড়ে। অনুরোধ করব, পরিস্থিতি যেন সে দিকে না গড়ায় যাতে বিরোধ আরও বেড়ে না যায় বা সীমান্ত বিরোধকে তা যেন জটিল করে না তোলে।’
৩ হাজার ৪৮৮ কিলোমিটার লম্বা নিয়ন্ত্রণরেখার বিভিন্ন এলাকা নিয়ে ভারত ও চীনের মধ্যে বিরোধ দীর্ঘ দিনের।
