বৃহস্পতিবার   ১২ মার্চ ২০২৬   ফাল্গুন ২৭ ১৪৩২   ২৩ রমজান ১৪৪৭

‘চলতি মাসেই আফগানিস্তান ছাড়া শুরু করবে মার্কিন সেনা’

আমাদের নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ১২:২৬ পিএম, ৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ শনিবার

চলতি ফেব্রুয়ারি মাস থেকেই মার্কিন সেনারা আফগানিস্তান ছাড়া শুরু করবে এবং মে মাসের আগেই অর্ধেক মার্কিন সেনা দেশটি ছেড়ে চলে যাবে।

 

আফগান তালেবান ও মার্কিন কর্তৃপক্ষের মধ্যে এমন কথা হয়েছে বলে তালেবানদের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন। তবে মার্কিন সামরিক বাহিনী বলছে, সেনা প্রত্যাহরের বিষয়ে এ রকম কোনো সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়নি।

রাশিয়ার রাজধানী মস্কোতে চলছে তালেবান ও আফগান শীর্ষ রাজনীতিকদের মধ্যে আলোচনা। গতকাল বুধবার দ্বিতীয় দিনের আলোচনার ফাঁকে তালেবান কর্মকর্তা আব্দুল সালাম হানাফি সাংবাদিকদের এমন তথ্য দিয়েছেন বলে খবর দিয়েছে আলজাজিরা।

হানাফি জানান, মার্কিন কর্মকর্তারা তাদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, চলতি মাস থেকেই সেনা প্রত্যাহার শুরু হবে এবং এপ্রিল মাসের মধ্যেই অর্ধেক মার্কিন সেনা আফগানিস্তান ছেড়ে চলে যাবে।

তবে পেন্টগনের মুখপাত্র কর্নেল রব ম্যানিং বলেছেন, সেনা প্রত্যাহার শুরুর ব্যাপারে কোনো নির্দেশ তারা পাননি।

তিনি বলেন, ‘তালেবানদের সঙ্গে আলোচনা চলতে থাকবে, কিন্তু আফগানিস্তানে সেনা অবস্থান পরিবর্তনের কোনো নির্দেশনা (প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে) পাওয়া যায়নি।’

এ ছাড়া কাবুলে মার্কিন সামরিক বাহিনীর এক কর্মকর্তাও তাৎক্ষণিক সেনা প্রত্যাহার শুরুর বিষয়টি অস্বীকার করেছেন।

তাছাড়া মস্কো আলোচনায় তালেবানদের পক্ষে নেতৃত্ব দেওয়া শের মোহাম্মাদ আব্বাস স্যানিকজাইও বিষয়টি নিশ্চিত করতে পারেননি।

তিনিও বলেছেন, মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের ব্যাপারে কোনো দিনক্ষণ নির্ধারণ করা হয়নি।

হানাফি আরো বলেন, ওয়াশিংটন ও তালেবান নেতৃত্ব এ ব্যাপারে একমত হয়েছে যে, মার্কিন সেনারা কার্যত আফগানিস্তান ছেলে চলে যাবে। আর যুক্তরাষ্ট্রে হামলা চালাতে পারে এমন সন্ত্রাসীদের আফগানিস্তানের মাটি ব্যবহার করতে দেবে না তালেবান।

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও তালেবান নেতারা একটি টেকনিক্যাল কমিটি করবে। ওই কমিটি অবশিষ্ট মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের বিষয়ে সময় নির্ধারণ করবে।

প্রসঙ্গত, মস্কো আলোচনায় তালেবানরা আফগানিস্তানের শীর্ষ রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে ভবিষ্যত রাজনৈতিক নেতৃত্ব নিয়ে আলোচনা করছেন। এর মধ্যে রয়েছেন সাবেক আফগান প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই। তবে এই আলোচনায় নেই বর্তমান প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানি।

ঘানি সম্প্রতি দাবি করেছেন, আফগানিস্তানের ভবিষ্যত নিয়ে যে আলোচনা চলছে তাতে অবশ্যই বর্তমান সরকারকে রাখতে হবে।

কিন্তু তালেবান নেতৃত্ব বর্তমান সরকারের সঙ্গে কোনোভাবেই আলোচনায় বসতে রাজি নয়। কারণ তারা এই সরকারকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘পুতুল’ সরকার হিসেবে অভিহিত করে।