‘সৈকতের রাজা’ বালির প্রাসাদে কাটিয়ে ২২ বছর!
আমাদের নারায়ণগঞ্জ
প্রকাশিত : ১১:০১ এএম, ৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ শনিবার
প্রাসাদ মানেই রাজা বাদশাদের বিশাল বিশাল ইমারত। যার সাথে অনেক অনেক হাসি, কান্না, ভয়ভীতির গল্প গাঁথা থাকে। এমন বিভিন্ন রকমের প্রাসাদে যুগের পর যুগ থাকার ঘটনা অনেক আছে। আর প্রাসাদ মানেই ইট, বালু, কংক্রিট দিয়ে তৈরি করা ইমারত। কিন্তু বালু দিয়ে তৈরি প্রাসাদ! তাও আবার সেই বালুর প্রাসাদে ২২ বছর বসবাস! শুনতে অবাক লাগলেও এটিই সত্যি। বালি দিয়ে তৈরি বাড়িতেই কাটিয়ে দিলেন প্রায় দুই যুগ।
আমাদের দেশে একটি প্রচলিত বাগধারা‘ বালির বাধ’। কোনো কিছু ক্ষণ স্থায়ী বা ভঙুর হলেই তাকে বালির বাঁধের সথে তুলনা করা হয়।
কিন্তু চিরায়ত এই বাগধারা মিথ্যা প্রমাণ করে শুধুমাত্র বালি দিয়ে তৈরি জিনিসও যে যুগের পর যুগটিকে থাকে তারই দৃষ্টান্ত তৈরি করেছেন এক ব্যক্তি। এই ব্যক্তির বাস ব্রাজিলের রিওডি জেনিরোর সাগরপাড়ে। সাগরপাড়ের প্রাসাদ বলে যে বাচ্চাদের মতো সখের বসে করা খেলার প্রাসাদ নয় যে ডেউ আসলে বা খেলা শেষে ভেঙে যাবে।
‘সৈকতের রাজা’ নামে পরিচিত এই ব্যক্তির নাম মার্শিয়ো মিজায়েল মাতোলিয়াস। প্রায় দুই যুগ আগে তিনি বালি দিয়ে সাগর পাড়ে একটি ঘর বেঁধেছিলেন।
দূর্গের মতো দেখতে বাড়িটি বাইশ বছরপরেও অক্ষত অবস্থায় রয়েছে। খানিকটা নিভৃতচারী মাতো লিয়াস, ব্যক্তি জীবনে অবিবাহিত। বইপড়া, গলফ খেলা এবং মাছ ধরা তার শখ। নিরিবিলি থাকতে ভালোবাসেন বলেই তিনি এই বালির প্রাসাদ তৈরি করেছেন।
নিতান্ত শখরে বসে গড়া এই প্রাসাদ যে এতটা কাল স্থায়ী হবে তা তিনি নিজেও কল্পনা করেননি।
তবে প্রাসাদটি টিকিয়ে রাখতে তাকে কঠোর পরিশ্রম করতে হয়েছে। প্রতিদিন পানি দিয়ে ভিজিয়ে রাখা বা ভেঙে পড়া জায়গাগুলো তাকে নিজ হাতে মেরামত করতে হয়েছে। স্থানীয় একটি দৈনিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মাতো লিয়াস বলেন, আমি ছোটবেলা থেকেই সাগরের তীরে বড় হয়েছি।
মানুষ হাজার হাজার টাকা খরচ করে সাগরের তীরে বসবাস করার জন্য। আমার যেহেতু টাকা খরচ করার সামর্থ্য ছিলনা যার কারণে আমাকে এই বিকল্প পথ বেছে নিতে হয়েছে।
