সোমবার   ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬   ফাল্গুন ১১ ১৪৩২   ০৬ রমজান ১৪৪৭

দাম্পত্য কলহে আত্মহত্যা নিয়ন্ত্রণে কী করবেন?

আমাদের নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৪:০৭ পিএম, ৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ মঙ্গলবার

সম্প্রতি ডা. মোস্তফা মোরশেদ আকাশের আত্মহত্যার ঘটনায় তোলপাড় সারা দেশ। স্ত্রী মিতুর সঙ্গে একাধিক বন্ধুর শরীরিক মেলামেশা তাকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করেছে। স্ত্রীকে প্রচণ্ড ভালোবাসায় তিনি তা মেনে নিতে পারেননি। ফলে প্রচণ্ড মানসিক যন্ত্রণা নিয়ে তিনি আত্মহত্যার পথ বেছে নেন।

 

এ ধরনের ঘটনা আমাদের সমাজে নতুন নয়। সংবাদপত্রের পাতা খুললেই আমার দাম্পত্য কলহের কারণে আত্মহত্যার খবর জানা যায়। তবে প্রশ্ন হলো আত্মহত্যা কী সমাধান, না। কোনো সমস্যা সমাধানের জন্য আত্মহত্যা কোনো সমাধান নয়।

আসুন জেনে নেই দাম্পত্য কলহে আত্মহত্যা নিয়ন্ত্রণে কী করা যেতে পারে।

পারিবারিকভাবে খোলামেলা আলোচনা

দাম্পত্য কলহে যদি স্বামী-স্ত্রী নিজেরে মধ্যে বনিমনা না হয় তবে পারিবারিকভাবে খোলামেলা আলোচনা করতে হবে। আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ বের করতে হবে। এছাড়া ঘনিষ্ঠ বন্ধু-বা কাছের মানুষের সহযোগিতা নিতে হবে।

হঠাৎ করে তালাক

দাম্পত্য কলহ হঠাৎ করেই তালাকের সিদ্ধান নেয়া ঠিক নয়। এসব পরিস্থিতি রাগান্বিত হওয়া সাভাবিক তবে রাগ নিয়ন্ত্রণ জরুরি।

পাঠ্যক্রম

এ ধরনের ঘটনা অনেক আগে জাপানে বেশি ঘটত। তবে তারা তাদের পাঠ্যক্রমে বিষয়টি সংযুক্ত করে ও সামাজিক ও পারিবারিভাবে বিষয়টি মোকাবেলা করে। তাই আমি বলতে চাই বাংলাদেশে সামাজবিজ্ঞান বিভাগের পাঠক্রমে দাম্পত্য কলহের বিষয়ে তুলে ধরা ও এর সমাধানে কী করা যেতে পারে তা অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন।

পারিবারিক ও সামাজিক কাউন্সিল

চিকিৎসক স্ত্রী মিতুর একাধিক লোকের সঙ্গে মেলামেশা আইনবহির্ভূত ও সামাজিকভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। এ ধরনের সমস্যা সমাধানে পারিবারিক ও সামাজিক কাউন্সিল প্রয়োজন। পারিবারিক বা সামাজিকভাবে সমাধান করা না গেলে বিচ্ছেদের প্রশ্নটি আসে। তবে তা আমাদের কাম্য নয়। তবে দাম্পত্য সম্পর্ক যদি আত্মহত্যা, খুন, বা শারীরিক নির্যাতনের পর্যায়ে চলে যায় তবে বিচ্ছেদ উত্তম।এই সমস্যা সমাধনে গণমাধ্যমও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

বিষণ্ণতা

আত্মহত্যার অন্যতম কারণ বিষণ্ণতা। একা থাকা, সারাক্ষণ মনমরা হয়ে থাকা, উৎসাহ-উদ্দীপনা হারিয়ে ফেলা, ঘুম কমে যাওয়া বা বেড়ে যাওয়া, রুচি কমে যাওয়া বা বেড়ে যাওয়া, ওজন কমে যাওয়া বা বেড়ে যাওয়া ইত্যাদি সমস্যাগুলো দুই সপ্তাহের বেশি থাকলে আমরা তা মেজর ডিপ্রেশন। এসব কারণে আত্মহত্যার ঝুঁকি বাড়ে।

কথা চেপে রাখা

কোনো মানুষ যদি তার কষ্ট নিজের মধ্যে চেপে রাখে তবে তা আস্তে আস্তে বিষণ্ণতা পরিণত হয়। এছাড়া একসময় সে ধীরে ধীরে আত্মহত্যার দিতে ধাবিত হয়। তাই নিজের কষ্ট আপনজনকে বলুন ভেতরে চেপে রাখবেন না। এতে সমস্যার সমাধানের পথ বের হয়ে আসবে। আপনি সমস্যা থেকে মুক্তি পাবেন।