জিনজিয়াংয়ে সামরিক সেন্টার খুলছে ব্ল্যাকওয়াটারের প্রতিষ্ঠাতা এরিক
আমাদের নারায়ণগঞ্জ
প্রকাশিত : ০১:৫৯ পিএম, ৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ মঙ্গলবার
হংকংভিত্তিক একটি বেসরকারি নিরাপত্তা ফার্মের সঙ্গে প্রাথমিক চুক্তি করেছে চীনা কর্তৃপক্ষ। মার্কিন নেভি সিলের সাবেক সদস্য, দেশটির শিক্ষামন্ত্রী বেটসে দোভেসের ভাই এবং বেসরকারি নিরাপত্তা সংস্থা ব্ল্যাকওয়াটারের প্রতিষ্ঠাতা এরিক প্রিন্সের অর্থায়নে পরিচালিত ওই নিরাপত্তা ফার্ম জিনজিয়াংয়ে একটি সামরিক ট্রেনিং সেন্টার প্রতিষ্ঠা করবে। যেখানে প্রায় ১০ লাখ সংখ্যালঘু উইঘুর মুসলিমকে ‘বন্দি শিবিরে’ আটকে রাখা হয়েছে।
ফ্রন্টিয়ার সার্ভিসেস গ্রুপ (এফএসজি) নামের ওই ফার্মের চীনা ওয়েবসাইটের বরাত দিয়ে ব্রিটিশ গণমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান বলছে, সংস্থাটি বিশেষত ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ও অন্যান্য সরঞ্জামাদি সরবরাহ করে থাকে। ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, তারা চীনা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একটি চুক্তি সই করেছে, যার অংশ হিসেবে চীনের সীমান্তবর্তী কাশগড় শহরে একটি সামরিক ট্রেনিং সেন্টার পরিচালনা করবে তারা।
এরিক প্রিন্সের প্রতিষ্ঠিত মার্কিন সামরিক বাহিনীর ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ব্লাকওয়াটারের সুনামের পাশাপাশি ইরাক ও আফগানিস্তানে মার্কিন যুদ্ধে বিতর্কিত ভূমিকাও রয়েছে। ২০০৭ সালে ইরাকে ব্ল্যাকওয়াটারের সদস্যরা ১৪ জন নিরস্ত্র ইরাকিকে হত্যা করে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে।
গার্ডিয়ান বলছে, এফএসজি, যার প্রধান কার্যালয় হংকংয়ে, চীনের ভেতর এবং বহির্বিশ্বে, বিশেষ করে আফ্রিকায়, যে সকল চীনা কোম্পানি রয়েছে তাদের সঙ্গে বেশ কিছু চুক্তি করেছে।
কিন্তু জিনজিয়াংয়ে ফার্মটির উপস্থিতি বিতর্কিত। কারণ এমনিতেই ওই এলাকায় চীনা বাহিনীর সাঁড়াশি অভিযানের শিকার সংখ্যালঘু উইঘুর মুসলিমরা। এমনকি প্রায় ১০ লাখ উইঘুর মুসলিমকে চীনা কর্তৃপক্ষ ‘বন্দি শিবিরে’ আটকে রেখেছে বলে খবর বেরিয়েছে। যদিও বেইজিং বলছে, সেখানে তাদের কারিগরি শিক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং যাতে কেউ ‘উগ্র সন্ত্রাসবাদে’ না জড়ায় সেজন্য পুনঃশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
কিন্তু বন্দি শিবির থেকে পালিয়ে যাওয়া অনেকে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোকে বলেছেন, তাদের ইতিহাস-ঐহিত্য মুছে ফেলতে এবং চীনা কমিউনিস্ট পার্টির প্রতি আনুগত্য তথা ‘ঈশ্বর’ মেনে নিতে তাদের ওপর ব্যাপক অত্যাচার-নির্যাতন চালাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। সমালোচকরা বলছেন, ওই বন্দি শিবির কারাকারের চেয়েও বেশি কিছু।
এদিকে, এফএসজির ডেপুটি চেয়ারম্যান প্রিন্সের, ফার্মটির বেশির শেয়ারই তার, এক মুখপাত্র বলেছেন, চুক্তিটি এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে এবং বিষয়টি এখনও জানেন না এরিক প্রিন্স। চুক্তিটি চূড়ান্তভাবে বাস্তবায়নের জন্য বোর্ডের সকল সদস্যের অনুমোদন লাগবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
