বৃহস্পতিবার   ১২ মার্চ ২০২৬   ফাল্গুন ২৮ ১৪৩২   ২৩ রমজান ১৪৪৭

ইরাক-আফগানিস্তানে বেসামরিক লোকদেরও গুলি করার অনুমতি ছিল

আমাদের নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০১:৫৫ পিএম, ৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ মঙ্গলবার

ইরাক ও আফগানিস্তানে মোতায়েন সৈন্যদের স্থানীয় নিরস্ত্র বেসামরিক লোকেদের গুলি করার অনুমতি দিয়ে রেখেছিল ব্রিটিশ সেনাবাহিনী।

 

সোমবার অনুসন্ধানী এক প্রতিবেদনে লন্ডনভিত্তিক কাতারি সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই (এমইই) একথা জানায়।

এমইই’র প্রতিবেদনে বলা হয়, নিরস্ত্র বেসামরিক লোকজন ব্রিটিশ সৈন্যদের গতিবিধির ওপর নজর রাখছে এমন সন্দেহ হলে তাদের গুলি করতে বলা হয়েছিল।

কয়েকজন সাবেক সৈন্য এমইইকে জানায়, এমনভাবে গুলিতে নিহতদের নিরস্ত্র মানুষের মধ্যে কিশোর ছেলে ও শিশুরাও রয়েছে।

এক পর্যায়ে এমন অবস্থা দাঁড়ায় যে, স্থানীয়দের হাতে মোবাইল ফোন থাকলে, বেলচা বহন করলে বা অন্য কোনোরকম সন্দেহজনক আচরণ করলে তাদের গুলি করার অনুমতি দেয়া হয়েছিল।

 

দু’জন সৈন্য এমইইকে জানান, দক্ষিণ ইরাকে নিযুক্ত থাকার সময় তাদের ও তাদের সঙ্গীদের এই অনুমতি দেয়া ছিল।

নিরস্ত্র লোকজন জঙ্গিদের সংবাদদাতা হিসেবে কাজ করছে বা পথের পাশে বোমা পেতে রাখছে এমন উদ্বেগের কারণেই সেখানে নিয়ম শিথিল করা হয়েছিল।

আরেকজন সাবেক রয়্যাল মেরিন সদস্য বলেন, তার একজন অফিসার আফগানিস্তানে একটি আট বছরের শিশুকে গুলি করে হত্যার কথা স্বীকার করেছিল। ছেলেটির বাবা তাদের ঘাঁটির সামনে এসে এর ব্যাখ্যা চাইলে তিনি অধীনস্ত সৈন্যদের কাছে একথা স্বীকার করেন।

আরেকজন সাবেক সৈন্য এমইইকে বলেন, আফগানিস্তানে সৈন্যরা দু’জন নিরস্ত্র কিশোরকে গুলি করে হত্যার পর ঘটনাটি ধামাচাপা দেয়া হয়েছিল।

তিনি বলেন, ব্রিটিশ সৈন্যদের ঘাঁটি থেকে সোভিয়েত আমলের কিছু অস্ত্র নিয়ে ওই ছেলেগুলোর মৃতদেহের পাশে রাখা হয়েছিল যেন মনে হয় তারা সশস্ত্র তালেবান যোদ্ধা।

ওই সৈন্য আরও জানান, অন্যান্য ঘাঁটিতেও তিনি একই ধরনের অস্ত্র মজুদ রাখতে দেখেছেন। ‘আমি নিশ্চিত সেগুলোও একই উদ্দেশ্যে রাখা হয়েছিল। হেডকোয়ার্টার থেকে সৈন্যরা নিয়মিত আমাদের ঘাঁটি পরিদর্শনে যেত। এসব অস্ত্র সহজেই তালিকাভুক্ত করে ফেরত পাঠানো যেত,’ বলেন তিনি।

 

একজন সাবেক সৈন্য বলেন, তিনি বসরায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বেসামরিক লোককে গুলি করে হত্যা করতে দেখেছেন। নিহতদের সবাই ব্রিটিশ সৈন্যদের ওপর নজর রাখছিল একথা তিনি বিশ্বাস করেন না। আক্রমণের নিয়ম শিথিল করায় সেখানে ‘হত্যাযজ্ঞ’ শুরু হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।

সাবেক ওই সৈন্য বলেন, মিলিটারি পুলিশ এসব ঘটনার কোনো তদন্ত করলে তিনি ও তার সঙ্গীদের রক্ষা করার প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছিল। ‘আমাদের কমান্ডার বলেন, কোনো তদন্ত হলে আমরা তোমাদের রক্ষা করব। তুমি শুধু বলবে তুমি সত্যিই মনে করেছিলে তোমার জীবন বিপন্ন- এই কথাগুলোই তোমাকে বাঁচিয়ে দিবে।’

এমইই সাক্ষাৎকারদাতাদের এসব বক্তব্য যাচাই করতে পারেনি। তবে আফগানিস্তান ও ইরাকের ভিন্ন ভিন্ন যুদ্ধক্ষেত্রে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন দলে নিযুক্ত সাবেক সৈন্যরা মোটামুটি একই রকম অভিযোগ করেছেন বলে জানায় এমইই।

যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে মন্তব্য দিতে অস্বীকার করেছে।