রোববার   ১৫ মার্চ ২০২৬   চৈত্র ১ ১৪৩২   ২৬ রমজান ১৪৪৭

অস্তিত্ব সংকটে উপজাতিরা

নিজস্ব প্রতিবেদক 

আমাদের নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৮:১৩ পিএম, ১৮ ডিসেম্বর ২০১৮ মঙ্গলবার

শেরপুরের নালিতাবাড়ীর বিস্তীর্ণ পাহাড়ী এলাকা জুড়ে কোচ ও গারো উপজাতির বাস। বিশ্বব্যাপী উন্নয়নের মাঝেও উপজাতিদের ভাগ্যের উন্নয়ন ঘটেনি। বরং বিলুপ্তির পথে তাদের হাজার বছরের ইতিহাস ও ঐতিহ্য।

৩২৭ দশমিক ৬১ বর্গ কিলোমিটারের নালিতাবাড়ী উপজেলায় একটি পৌরসভা, ১২ ইউপি, তিন খ্রিস্টান মিশন, দুটি উপজাতি কমিউনিটি সেন্টার ও ১৯৯ গ্রামে ২ লাখ ৫১ হাজার ৮২০ লোকের বসবাস।

এসব উপজাতিদের অন্যতম হলো-গারো, হাজং ও কোচ উপজাতি। এই সম্প্রদায়ের রয়েছে আলাদা কৃষ্টি সংস্কৃতি ও সমাজ ব্যবস্থা গারোরা খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বী আর কোচ ও হাজং সম্প্রদায় সনাতন হিন্দু ধর্মাবলম্বী।

গারো উপজাতিরা মাতৃতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থার অধীনে পরিচালিত তাদের পরিবার। গারোদের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব হলো বড়দিন। এছাড়াও তারা স্টার সানডে, তীর্থ উৎসব, ইংরেজী নববর্ষ ও ওয়ানগালা উৎসব পালন করে থাকে।

অন্যদিকে, কাচ ও হাজংদের বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব হলো দুর্গাপূজা ও কালিপূজা । এসব ধর্মীয় উৎসব ছাড়াও এ দুই সম্প্রদায়ই আলাদা সামাজিক আচার-অনুষ্ঠান করে থাকে।

তাদের হারিয়ে যাওয়া বাদ্যযন্ত্রের মধ্যে আছে মান্দিদামা, ক্রাম, খোল, নাগ্রা, জিপসি, খক, মিলাম, স্ফি, রাং, বাঁশের বাঁশি, আদুরী নামের বাদ্যযন্ত্র ও পোশাক দকবান্দা, দকশাড়ী, খকাশিল, দমী, রিক মাচুল আর কোচ উপজাতিদের রাংঙ্গা লেফেন ও আছাম হারিয়ে যেতে বসেছে।

আর খাদ্যের তালিকায় আছে বাঁশের কড়–ল আর চালের গুড়া দিয়ে তৈরি খাবার উপকরণ ‘মিয়া’, কলাপাতায় করে ছোট মাছ পুড়া দিয়ে খাবারের নাম ‘ইথিবা’, মুরগির বাচ্চা পুড়া দিয়ে বাঁশের চোঙ্গায় ভরে পেঁয়াজ ও কাঁচা মরিচ দিয়ে ভর্তা যার নাম ব্রেংআ, মিমিল, কাকড়া, শামুক ও শুকরের গোস্ত, চালের তৈরি মদ যার নাম চু আর কোচ উপজাতীদের কাঠমুড়ি ইত্যাদি খাবার উপকরণ প্রায় বিলুপ্ত হতে চলেছে

উপজাতি নেতা মি. প্রদীপ জেংচাম বলেন, কালের বিবর্তনে ডিজিটাল যুগে অনেকটাই বিলুপ্তির পথে এসব গারো, হাজং ও কোচ উপজাতিদের হাজার বছরের ঐতিহ্য- সংস্কৃতি । ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি রক্ষায় সরকারি-বেসরকারিভাবে সমন্বিত উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন।

খলচান্দা গ্রামের শ্রী পরিমল কোচ বলেন, আমরা বন-পাহাড়ে যুদ্ধ করে অসহায় জীবন যাপন করে আসছি। তাই পেটের তাগিদে ইতিহাস ঐতিহ্য বুঝি না, শুধু বুঝি বেঁচে থাকতে হবে।

নিজস্ব ভাষায় কথা বলার জন্য কোচদের আছে ‘কোচভাষা’,আর গারোদের আছে ‘আচিক’ ভাষা ও হাজংদের আছে হাজং ভাষা। তবে এসব ভাষায় মিশে গেছে বাংলা ভাষা।

নতুন প্রজন্মের অনেকেই নিজস্ব ভাষার ফাঁকে বাংলা জুড়ে দিয়ে কথা বলে থাকে। খলচান্দা কোচপাড়া গ্রামের শ্রী রমেশ চন্দ্র কোচ বলেন, আমাদের কোচ ভাষায় এখন বাংলা ভাষার মিশ্রণ ঘটে গেছে। এমনকি রমেশ নিজেও বাংলা ভাষা যোগ করা ছাড়া কথা বলতে পারেন না। নিজস্ব ভাষা সংরক্ষণ তথা মায়ের ভাষায় কথা বলতে উপজাতিদের নিজস্ব ভাষায় স্কুল প্রতিষ্ঠার দাবিও করেন পরিমল কোচ।

নালিতাবাড়ী উপজেলার উপজাতি সংগঠন ট্রাইভাল ওয়েল ফেয়ার এসোসিয়েশনের (টিডব্লিউএ)চেয়ারম্যান মি. লুইস নেংমিনজা বলেন, উপজাতিদের কৃষ্টি-সংস্কৃতি সংরক্ষণে নালিতাবাড়ীতে কালচারাল একাডেমি স্থাপনের জন্য সরকারের কাছে দাবি জানাই।