গুঁড়ি বৃষ্টিতে চিন্তিত আলু চাষিরা
নিজস্ব প্রতিবেদক
আমাদের নারায়ণগঞ্জ
প্রকাশিত : ০৭:৫৯ পিএম, ১৮ ডিসেম্বর ২০১৮ মঙ্গলবার
শেরপুরের নকলায় সোমবার সন্ধ্যা হতে শুরু হওয়া গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টিতে আলু চাষিরা চিন্তিত হলেও অন্য চাষিরা খুশি।
ভারতের ঘূর্ণিঝড় পেথাই’র প্রভাব আামাদের দেশেও পড়তে পারে তাই আবহাওয়া দফতর তিন নম্বর সতর্ক সংকেত দিয়েছে।
এ বৃষ্টি কয়েক দিন চলমান থাকলে এবং জমিতে পানি জমে গেলে আলুচাষিরা কিছুটা ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারেন। তবে বিভিন্ন শাক সবজি, ফল ও অন্যান্য ফসলের খুব উপকারে আসবে বলে জানায় কৃষি বিভাগ।
সরজমিনে দেখা গেছে, অসময়ের এই বৃষ্টিতে রিক্সা ও ছোট যানবাহন না পাওয়ায় দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন খেটে খাওয়া মানুষ, চাকরিজীবী ও স্থানীয় যাতায়াতকারীরা।
ভূরদী এলাকার আলু চাষি ছাইদুল হক ও কামাল, বানেশ্বরদী এলাকার আলু চাষি জুয়েলসহ বেশ কয়েকজন চাষি বলেন, খুব বেশি বৃষ্টি হলে এবং খেতে পানি জমে গেলে ক্ষতির সম্ভবনা আছে। তবে এখন পর্যন্ত যে পরিমাণ বৃষ্টি হয়েছে তাতে ক্ষতির সম্ভাবনা নেই। আর যদি ঘূর্ণিঝড় পেথাই’র প্রভাবে আলু খেত নষ্ট হয়েই যায় তাহলে কৃষকরা প্রতি একরে লাখ টাকার ক্ষতির সম্মূখীন হবেন বলে জানান তারা।
কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা কৃষিবিদ আব্দুল ওয়াদুদ ও শেখ ফজলুল হক মণি বলেন, দুই এক দিনের মধ্যে বৃষ্টি বন্ধ হয়ে গেলে কৃষকের কোনো ধরনের ক্ষতির সম্ভাবনা নেই। বর্তমানের বৃষ্টিতে কৃষকরা যে পরিমাণ ক্ষতির আশঙ্কা করছেন, তা ঠিক নয়।
যেসব জমি আলু চাষের জন্য ও শাক সবজি রোপনের জন্য তৈরি করা হয়েছিলো, বৃষ্টিতে আপাতত সেসব জমির উপযোগিতা নষ্ট হলেও, বৃষ্টি বন্ধ হলে তাড়াতাড়ি তা ঠিক হয়ে যাবে। আর যেসব জমিতে শাক সবজি ও আলু গজিয়ে গেছে, সে সব জমির জন্য এ বৃষ্টি কোনো ক্ষতি করবে না, বরং উপকার হবে বলে তারা আশা করছেন।
এবিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ পরেশ চন্দ্র দাস বলেন, চলমান এ বৃষ্টি কয়েক দিন অব্যাহত থাকলে আলু চাষিদের ক্ষতি হতে পারে। তবে আজ পর্যন্ত যে বৃষ্টি হয়েছে তাতে কোনো ক্ষতি হবেনা।
বরং সরিষা, তুলা, মুগ ও মাসডাল, বেগুন, মরিচ, টমেটো, পেয়াঁজ, রসুন, শাক সবজি এবং বিভিন্ন ফল ও ফসলের খুব উপকারে আসবে। তবে বৃষ্টি কয়েকদিন অব্যাহত থাকলে আলু ক্ষেতে মড়ক দেখা দিতে পারে এর জন্য আলু চাষিদের আগাম পরামর্শ দেয়া শুরু করেছেন কৃষি কর্মকর্তারা।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও প.প কর্মকর্তা ডা. মো. মজিবুর রহমান বলেন, শীতের শুরুতে এ অসময়ে বৃষ্টির প্রভাবে শিশু ও বৃদ্ধদের ডাইরিয়া, বমি, সর্দি-কাশিসহ ঠান্ডা জনিত বিভিন্ন রোগবালাই আক্রমণ করতে পারে। তাই স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে মাঠ পর্যায়ে সবাইকে সচেতন থাকতে পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।
