ইরানের নজরদারিতে ইরাকে মার্কিন সেনা চান ট্রাম্প
আমাদের নারায়ণগঞ্জ
প্রকাশিত : ১১:৩৪ এএম, ৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ মঙ্গলবার
ইরানের উপর নজরদারি চালু রাখতে ইরাকে মার্কিন সেনা রাখতে চান যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রোববার যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এ মন্তব্য করেন তিনি।
ট্রাম্প গেল বছর মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন সেনা তুলে নেয়ার ঘোষণা প্রদান করেন। এ ঘোষণার পর চারদিকে তাকে নিয়ে সমালোচনার শুরু হয়। তার এ সিদ্ধান্তের বিরোধীতা করে দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী জিম ম্যাটিসসহ উচ্চপদস্থ বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা পদত্যাগ করেন।
তবে সিবিএস নিউজকে দেয়া সাক্ষাৎকারে ইরানের ওপর নজরদারি রাখতে ইরাকে মার্কিন সেনা উপস্থিতির পক্ষে জোর দেন ট্রাম্প। খবর মিডল ইস্ট মনিটর ও আল-জাজিরা’র।
এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ইরানের ওপর ভালোভাবে নজরদারির জন্য ইরাকে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি জরুরি। ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের চমৎকার সামরিক ঘাঁটি রয়েছে। এ ঘাঁটির পেছনে আমাদের প্রচুর অর্থ ব্যয় করতে হয়েছে। এটি রেখে দেয়া যেতে পারে। কেননা আমি ইরানের ওপর নজর রাখতে চাই। দেশটি আসলেই একটি সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে সিরিয়া থেকে ফিরিয়ে নেয়া কিছু সেনাকেও ইরাকের ঘাঁটিতে পাঠানো হবে। বাকিদের দেশে ফিরিয়ে নেয়া হবে।
সাক্ষাৎকারে মধ্যপ্রাচ্যে সহিংসতায় উস্কানি দেয়ার জন্য ইরানকে দায়ী করেন ট্রাম্প। দেশটিকে ‘বিশ্বের এক নম্বর সন্ত্রাসী রাষ্ট্র’ ও ‘বড় একটি সমস্যা’ বলে আখ্যায়িত করেন তিনি।
এতে ভেনেজুয়েলা ইস্যুতেও কথা বলেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ভেনেজুয়েলায় সামরিক হস্তক্ষেপের বিষয়টি তার বিবেচনায় রয়েছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর বৈঠকে বসার আহ্বানও তিনি প্রত্যাখ্যান করেছেন।
এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্টের এমন বক্তব্যের নিন্দা জানিয়েছে রাশিয়া। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, সংকট উত্তরণে সহযোগিতা দেওয়া যেতে পারে। কিন্তু আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দেশটিতে কোনো হস্তক্ষেপ করা উচিত নয়।
ট্রাম্পের বক্তব্য প্রচারিত হওয়ার পর রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ মন্তব্য করেছেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের লক্ষ্য হওয়া উচিত ভেনেজুয়েলাকে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে মুক্ত করার ব্যবস্থা করা, সেখানে হস্তক্ষেপ করা নয়।
তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীও মন্তব্য করেছেন, যারা গুইদোকে সমর্থন করছেন, তারা ভেনেজুয়েলার ক্ষতি বাড়িয়ে তুলছেন।
