ঘানার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সরানো হল গান্ধীর মূর্তি
নিউজ ডেস্ক
আমাদের নারায়ণগঞ্জ
প্রকাশিত : ০৭:০৪ পিএম, ১৮ ডিসেম্বর ২০১৮ মঙ্গলবার
ঘানার রাজধানী আক্রার ইউনিভার্সিটি অব ঘানার চত্বর থেকে মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধীর স্থাপিত মূর্তিটি সরিয়ে ফেলা হয়েছে।
বুধবার ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম এই নেতার মূর্তিটি সরিয়ে ফেলা হয়।
যুবক বয়সে দক্ষিণ আফ্রিকায় থেকেছেন গান্ধী। ২০১৬ সালে মূর্তিটি স্থাপন করা হয়। মূর্তিটি স্থাপনের সময় থেকেই এটিকে ভালোভাবে নিতে পারেননি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষকদের একটি অংশ।
তাদের অভিযোগ, গান্ধী ছিলেন ‘বর্ণবাদী।’ তিনি কৃষ্ণাঙ্গদের ছোট চোখে দেখতেন, হেয় করতেন।
গান্ধী ছিলেন বিংশ শতাব্দীর অন্যতম শ্রদ্ধেয় রাজনীতিক। অহিংস আন্দোলন করে তিনি ভারতে ব্রিটিশ শাসনের অবসান ঘটিয়েছিলেন।
বিশ্বের বহু মানুষের কাছে যদিও তিনি অত্যন্ত শ্রদ্ধেয় এবং অনুকরণীয় ব্যক্তিত্ব। কিন্তু কৃষ্ণাঙ্গ আফ্রিকানদের নিয়ে তার কিছু মন্তব্য সবসময় বিতর্কিত।
তার প্রথম জীবনের কিছু লেখায়-তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার কৃষ্ণাঙ্গদের ‘কাফির’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যেটিকে সে দেশে এক ধরনের বর্ণবাদী গালি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তিনি এমন কথাও বলেছেন যে, ভারতীয়রা কৃষ্ণাঙ্গদের চেয়ে জাতি হিসেবে অনেক ভালো।
এসব কারণেই অনেক দিন ধরে আন্দোলনকারীরা বলে আসছিলেন সেখান থেকে গান্ধীর মূর্তি সরিয়ে ‘আফ্রিকার কোনো নায়কের’ মূর্তি বসানো হোক।
চাপে পড়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দোষ চাপান ঘানার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওপর। তারা বলেন, সরকার এই মূর্তি স্থাপনের সিদ্ধান্ত তাদের ওপর চাপিয়ে দিয়েছে।
পরে আন্দোলন এতই জোরালো আকার ধারণ করে যে, ঘানার সরকার গান্ধীর মূর্তিটি সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়।
