বৃহস্পতিবার   ১২ মার্চ ২০২৬   ফাল্গুন ২৮ ১৪৩২   ২৩ রমজান ১৪৪৭

আফগান যুদ্ধের চাবিকাঠি পাকিস্তানে

নিজস্ব প্রতিবেদক 

আমাদের নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৬:২২ পিএম, ৩১ জানুয়ারি ২০১৯ বৃহস্পতিবার

আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানি বুধবার বলেছেন, আফগান যুদ্ধের চাবিকাঠি পাকিস্তানের শহর ইসলামাবাদ, কোয়েটা ও রাওয়ালপিণ্ডিতে। অর্থাৎ প্রতিবেশী দেশটি আন্তঃসীমান্ত বিদ্রোহীদের তৎপরতার নিরাপদ স্বর্গ।

এর আগেও আফগানিস্তান অভিযোগ করে আসছে, পাকিস্তান নিজেদের মাটিতে তালেবান নেতাদের অবস্থানের ক্ষেত্রে চোখ বন্ধ রাখছে। এমনকি দেশটি তালেবানকে যুদ্ধে সহায়তা করছে। যদিও পাকিস্তান নিজেদের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ অস্বীকার করছে।

ঘানি বলেন, শান্তির চাপিকাঠি আফগানিস্তানে।

এমন একটি সময়ে তিনি এসব কথা বলছেন, যখন ১৭ বছরের আফগান যুদ্ধের অবসানে তালেবানের সঙ্গে মার্কিন আলোচনায় নতুন গতি পেয়েছে।

তালেবানের সঙ্গে আলোচনা এগিয়ে নিতে আফগান সরকারের কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরামর্শ করতে মার্কিন বিশেষ দূত জালমি খলিলজাদ বর্তমানে কাবুলে রয়েছেন।

মাসখানেক আগে জালমি খলিলজাদকে পাকিস্তান নিশ্চিত করেছিল যে, দীর্ঘ আফগান যুদ্ধের রাশ টানতে তালেবানের সঙ্গে একটা সমঝোতায় পৌঁছাতে তারা আলোচনার টেবিলে ফিরবেন।

আফগানিস্তানে শান্তি প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ব্যক্তিগতভাবে চিঠি দিয়ে পাকিস্তানের সহায়তা চেয়েছেন।

ইতিমধ্যে পরস্পরের মধ্যে বিরাজ করা সন্দেহ দূর করতে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানকে সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে আঞ্চলিক পরাশক্তি চীন।

কিন্তু কাবুল ও ইসলামাবাদের মধ্যে রাজনৈতিক উত্তেজনা বেড়েই যাচ্ছে।

দেশ দুটি পরস্পরের বিরুদ্ধে অভিযোগের তীর ছুড়ে বলছে, তাদের মাটিতে হামলা চালাতে দুই দেশের নিরাপত্তা বাহিনীই তালেবানকে সমর্থন দিচ্ছে। কাজেই এমন অভিযোগ-পাল্টাঅভিযোগে পাক-আফগান টানাপোড়েন চরম আকার নিয়েছে।

জঙ্গি হামলা ঠেকাতে আফগানিস্তানের সঙ্গে আড়াইহাজার কিলোমিটারের বিতর্কিত সীমান্তে ২০১৭ সালে বেড়া নির্মাণ শুরু করে পাকিস্তান।

আফগান সরকারকে পশ্চিমাদের পুতুল আখ্যা দিয়ে তাদের সঙ্গে বসতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছে তালেবান।

সংগঠনটির ধর্মীয় বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন আশরাফ ঘানি। তিনি বলেন, যদি আফগান সরকার অবৈধ হয়, তবে তালেবান কোথা থেকে তাদের বৈধতা পেয়েছে?

‘মক্কা ও ইন্দোনেশিয়ার ইসলামী পণ্ডিতরা বলেন, আত্মঘাতী হামলা চালিয়ে বেসামরিক লোকজনকে হত্যা ইসলামে জায়েজ নেই। কাজেই তালেবানের বৈধতা আসে কোথা থেকে’, প্রশ্ন করেন আফগান প্রেসিডেন্ট।

২০১৫ সালে তালেবানের সঙ্গে আফগান সরকারের আলোচনা ভেস্তে যায়। আফগানিস্তান থেকে বিদেশি সেনাদের তাড়াতে লড়াই চালিয়ে যাওয়া তালেবান বলেছে, মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আগামী ২৫ ফেব্রুয়ারিও বসার পরিকল্পনা রয়েছে।