রোববার   ১৫ মার্চ ২০২৬   চৈত্র ১ ১৪৩২   ২৬ রমজান ১৪৪৭

আবার জয়, আরও দায়বদ্ধতা

নিউজ ডেস্ক

আমাদের নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৬:৪১ পিএম, ১৮ ডিসেম্বর ২০১৮ মঙ্গলবার

শ্রীলংকার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আরেক বার আপনাদের সামনে কথা বলতে পারা আমার জন্য অতি সৌভাগ্যের। আপনারা জানেন যে, আমাদের দেশের মৌলিক আইন হচ্ছে সংবিধান। প্রথম ভোটাধিকার প্রাপ্তির পর আমরা ৮৭ বছর পার করেছি।

এই পুরো সময়জুড়ে সংবিধানের সুরক্ষায় কাজ করেছে এ দেশের জনগণ। এর মধ্যদিয়ে সুরক্ষিত হয়েছে আমাদের মৌলিক অধিকারগুলো। এই সংবিধান ও মানুষের মৌলিক অধিকারগুলোর ওপর যখনই আঘাত ও হুমকি এসেছে, এর সুরক্ষায় এগিয়ে এসেছে সেই জনগণই।

২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফের সেই একই ঘটনা ঘটে। চাপের মুখে পড়ে সংবিধান আর জনগণের অধিকার। যার সমাধানে হাতে হাত রেখে আপনারাই একজোট হয়েছিলেন।

আপনাদের অধিকার রক্ষার উদ্দেশ্য সামনে রেখেই আমরা সংবিধানের ১৯তম সংশোধনী গ্রহণ করি। আমি জোর দিয়ে বলতে চাই, সংবিধানের বাইরে গিয়ে গণতন্ত্র শক্তিশালী হয় না।

একটি গণতান্ত্রিক দেশের প্রধানমন্ত্রীকে অবশ্যই পার্লামেন্টের ওপর সর্বোচ্চ আত্মবিশ্বাস থাকতে হবে। সংখ্যাগরিষ্ঠ এমপির সমর্থন ছাড়া প্রধানমন্ত্রী দেশের নেতৃত্ব কিংবা সামনে এগিয়ে নিতে পারেন না।

একইভাবে প্রধানমন্ত্রী ও তার মন্ত্রিসভার বিরুদ্ধে পার্লামেন্টে যদি অনাস্থা প্রস্তাব পাস হয়, সঙ্গে সঙ্গে তাদের উচিত পদ থেকে সরে যাওয়া। আমাদের সংবিধানের শর্ত মতে, পার্লামেন্টের মেয়াদ চার বছর ছয় মাস পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত কেউ পার্লামেন্ট ভেঙে দেয়ার ক্ষমতা রাখেন না।

শুধু পার্লামেন্টের দুই-তৃতীয়াংশ আইনপ্রণেতার সমর্থনে প্রস্তাব পাসের মাধ্যমেই সেটা সম্ভব। আগাম নির্বাচনের পথ তৈরি করার অজুহাত দেখিয়ে সংবিধান লঙ্ঘন জায়েয করা যায় না। সুপ্রিমকোর্টের দেয়া একটি রায়েও একই কথা বলা হয়েছে।

২৬ অক্টোবর টেম্পল ট্রিজে দাঁড়িয়েও আমি একই কথা বলেছিলাম। সেদিন আমি বলেছিলাম, আমাদের লড়াই মূলত গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার, সংবিধানের সুরক্ষা, আইনের শাসনের প্রতি অচল আনুগত্য এবং একটি নৈতিক ও সভ্য সমাজ গড়ে তোলার লক্ষ্যে।

আরও বলেছিলাম, এ লড়াইয়ে আমাদেরই জয় হবে। আজও আমি সেই কথাই বলছি। আগামী দিনও আমি সে কথাই বলব। আমি যা বলছি সেটা মেনে চলব। আমি যা বলছি আমি তা-ই করে দেখাব। আমি তা-ই বলি যা করার সামর্থ আছে। আবারও আমরাই জয়ী হয়েছি। এই জয়ে আমাদের দায়বদ্ধতা আরও বেড়ে গেল।

দেশের বেশিরভাগ জনগণই সংবিধান, গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকার রক্ষার এ লড়াইয়ে যোগ দিয়েছে। জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে শ্রীলংকার বিবেকবান হাজার হাজার মানুষ শামিল হয়েছে এই মিছিলে। সমর্থন জানাতে নিজেদের সর্বস্ব দিয়ে চেষ্টা করেছে আমাদের প্রবাসী ভাইয়েরাও।

কোনো ব্যক্তিগত লাভের জন্য নয়; একমাত্র নিজেদের দেশ ও গণতন্ত্রের উদ্ধারের লক্ষ্যে লড়াইয়ে যোগ দিয়েছেন তারা। এই মাহেন্দ্রক্ষণে আমি সবাইকে সালাম জানাচ্ছি। একইভাবে শ্রদ্ধা জানাচ্ছি মহাসংঘ ও অন্যান্য ধর্মের পণ্ডিতজনের প্রতি।

পার্লামেন্ট ও গণতন্ত্রের মর্যাদা সমুন্নত রাখতে অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছেন পার্লামেন্টের মাননীয় স্পিকার এবং সব মন্ত্রী ও এমপি।

তাদের সবার প্রতি আমি আন্তরিক শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করছি। সুপ্রিমকোর্ট ও কোর্ট অব আপিলসহ আমাদের সব বিচারিক প্রতিষ্ঠান তাদের স্বাধীনচেতা মনোভাব এবং নিজেদের সত্যিকার পরিচয় বিশ্বের সামনে তুলে ধরেছেন। মহিমান্বিত সেই বিচার বিভাগের প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছি। সম্মান জানাচ্ছি সব আইনজীবী ও বিচারকদের প্রতি।

রোববার নতুন করে শপথের পর শ্রীলংকার ২৫তম প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমাসিংহের ভাষণ (সংক্ষেপিত)