অতিথি পাখিতে মুখরিত নিলুয়ার বিল
আমাদের নারায়ণগঞ্জ
প্রকাশিত : ০৮:০৪ পিএম, ২৭ জানুয়ারি ২০১৯ রোববার
শান্ত জলের বুকে কচুরি পানার নীল গালিচায় ঝাঁক বেঁধে ডানা মেলছে অতিথি পাখির দল। উড়ে চলা পাখির কিচির-মিচিরে মুখরিত চার পাশ। এ কলকাকলি সঙ্গে দিগন্ত বিস্তৃত প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের খনি মানিকগঞ্জের ঘিওরের নিলুয়ার বিল। শীতকাল এলেই বিল ও আশেপাশের জলাশয়, পুকুর ভরে যায় নানা রঙের নাম না জানা পাখিতে। প্রতিদিন শতাধিক মানুষ ভিড় জমান এখানে। উপভোগ করেন মনোরম দৃশ্য।
বাহারি রঙের এসব অতিথি পাখির খুনসুটি আর ছোটাছুটি যে কারো মনকে উদ্বেলিত করে তুলে। শীতের মৌসুমে প্রকৃতির অপরূপ অলঙ্কার হয়ে ওঠা এ অতিথি পাখির ঝাঁক বেঁধে উড়ে চলার দৃশ্য দেখে মনে হয় যেন জলরঙে আঁকা ছবি। এই অতিথি পাখিরা আমাদের দেশে হাজির হয় নিজেদের জীবন বাঁচাতে।
বিলটির অবস্থান মানিকগঞ্জের দুই উপজেলা ঘিওর এবং দৌলতপুরের ঠিক মাঝখানে। পাশ দিয়েই চলে গেছে আরিচা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক। শীতের আবেশে মানিকগঞ্জের পদ্মা ও যমুনা নদীর চরকে ঘিরে বেড়েছে অতিথি পাখির কলরব। বিলুপ্ত নানা প্রজাতির পাখি, বন বিভাগ বলছে, পরিবেশগত উন্নতি ও খাবারের প্রাচুর্যই বাড়িয়েছে পাখিদের বিচরণ।
এছাড়া মানিকগঞ্জের হরিরামপুরের আন্ধারমানিক,সুতালড়িসহ আশপাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া পদ্মার পাড়ে এবং দৌলতপুর উপজেলার যমুনার তিন-চারটি পয়েন্টে হাজারো অতিথি পাখির দেখা মিলে। নদীর স্তব্ধ জলে পড়ন্ত বিকেলে শত শত মানুষ নৈস্বর্গিক এ দৃশ্য উপভোগ করেন।
নিলুয়ার বিলে পাখি থাকে নভেম্বর থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পাখির কলকাকলি মুগ্ধ করে সবাইকে। পুরো এলাকাটিই সরব করে রাখে এই পাখ-পাখালি। পাখিদের এই মিছিলে আছে দেশীয় বক, বালিহাঁস, খয়রা চখাচখি, কার্লিউ, বুনোহাঁস,পানি কাউর, পানকৌড়িসহ নাম না জানা অনেক অতিথি পাখি।
ঘিওরের ইউএনও মৌসুমী সরকার রাখি বলেন, হিমালয়ের ওপাশ থেকেই বেশির ভাগ অতিথি পাখির আগমন ঘটে এখানে। ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত গ্রাম ও শহরের সব বয়সী মানুষ মুগ্ধতার আবেশে দেখে জলাশয় ও অতিথি পাখির যোগসূত্রের এই নৈসর্গিক দৃশ্য।
বিলটির উন্নয়ন ও অতিথি পাখির পরিবেশবান্ধব করার লক্ষ্যে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে একটি প্রকল্প প্রস্তাব পাঠাবো।
