কংগ্রেসকে পচিয়ে বিজেপিকে ওঠাচ্ছে বলিউড
নিউজ ডেস্ক
আমাদের নারায়ণগঞ্জ
প্রকাশিত : ০৬:০৫ পিএম, ২২ জানুয়ারি ২০১৯ মঙ্গলবার
রাজনীতি নিয়ে সিনেমা বলিউড জগতের পুরনো ঐতিহ্য। কিন্তু বর্তমানে নির্দিষ্ট একটি দলের গুণকীর্তন করে একপেশে ছবি নির্মাণের চল শুরু হয়েছে বলিউডে। বিনোদনের মাধ্যমে মোদিবন্দনার আয়োজনে মেতেছে হিন্দি চলচ্চিত্রের এ পীঠস্থান।
বিরোধী শিবিরের অভিযোগ- ক্ষমতাসীন বিজেপি বলিউডকেও হাত করে ফেলেছে। গত ১১ জানুয়ারি মুক্তি পাওয়া ‘উরি : দ্য সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’ সিনেমায় কার্যত বিজেপি সরকারের প্রশংসা করা হয়েছে। বিরোধী দল কংগ্রেসকে পচাতে একই দিন মুক্তি পায় আরেকটি সিনেমা।
‘দ্য এক্সিডেন্টাল প্রাইম মিনিস্টার’ নামের ওই ছবিতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং আমলের দুর্বলতাকে উপজীব্য করা হয়েছে।
এখানেই শেষ নয়, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বায়োপিক তৈরিরও ঘোষণা দিয়েছে বলিউড পাড়া। ২০১৯ সালে লোকসভা নির্বাচনের আগেই বায়োপিকটি নির্মিত হবে বলে জানিয়েছেন পরিচালক ওমাং কুমার। নির্বাচনের আগে রুপালি পর্দার মাধ্যমে ভোটারদের চোখে ধূলি পরানোর চক্রান্তে মেতেছে বলিউড।
২০১৪ সালের নির্বাচনে মোদি-ম্যাজিকের জয় হয়েছিল। হিন্দু জাতীয়তাবাদী রাজনীতির রথে চড়ে ক্ষমতায় এসেছিল বিজেপি। নোট বাতিল, কৃষক অসন্তোষ, বেকারত্ব বৃদ্ধি, গো-রক্ষার নামে মানুষ হত্যার মতো ঘটনায় চরম বিপাকে বিজেপি সরকার।
২০১৯-এর লোকসভায় তাই বলিউডতীরে নোঙর ফেলেছেন মোদি। উদ্দেশ্য- চোখ ধাঁধানো সিনেমার জালে ভোটারদের মন কাড়া। আগামী এপ্রিল ও মে মাসের মধ্যে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এবারের নির্বাচনে প্রায় ৮৫ কোটি ভারতীয় নাগরিক ভোট দেবেন।
৫৪৫টি (নির্বাচিত ৫৪৩ ও অ্যাংলো-ইন্ডিয়ান সম্প্রদায় থেকে প্রেসিডেন্ট মনোনীত ২ জন) লোকসভা আসনের লড়াইয়ে ইতিমধ্যে ‘মহাজোটের কিস্তি’ ভাসিয়েছে কংগ্রেসসহ প্রধান বিরোধী দলগুলো। আর বিজেপির গুণগান ছড়াতে বলিউডকে বেছে নিয়েছেন মোদি।
ভারতের উরি সেনাঘাঁটিতে ২০১৬ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর হামলা চালিয়ে ১৮ জওয়ানকে হত্যা করে জঙ্গিরা। জবাবে জঙ্গি নির্মূল করতে পাকিস্তানে সার্জিক্যাল স্ট্রাইক চালায় ভারতীয় বাহিনী। এ হামলা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে কম বিতর্ক হয়নি।
মোদি সরকার ‘মৌচাকে ঢিল মেরে’ জঙ্গিদের উসকে দিচ্ছেন বলে অভিযোগ তোলে বিরোধীরা। সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী আম আদমি পার্টির অরবিন্দ কেজরিওয়াল। সেই উরি হামলা ও সার্জিক্যাল স্ট্রাইক নিয়ে ২৫ কোটি রুপির বাজেটে সিনেমা বানিয়েছে বলিউড। ভারতীয় সেনাদের চৌকসতা দেখানো হয়েছে সিনেমায়।
পাশাপাশি সার্জিক্যাল স্ট্রাইক নিয়ে মোদির গায়ে লেপ্টে থাকা বিতর্ক ঘোঁচানোরও চেষ্টা চলেছে বলে মত সমালোচকদের। রাজনীতিপাড়ার অনেকের অভিযোগ- লোকসভা নির্বাচনের আগে এ ছবির মুক্তি ভালো চোখেই দেখছে শাসক দল।
ছবির নায়ক ভিকি কুশল বলেন, ‘সেনাবাহিনীর প্রতি গভীর অনুরাগ রয়েছে এ সিনেমার লেখক ও পরিচালক আদিত্য ধরের। আর সে কারণেই এটি নির্মাণ করেছেন তিনি। অন্যকিছু নয়।’ তবে ব্যবসা সফলই বলতে হবে। প্রথম ৪ দিনে আয় করেছে ৫০ কোটি রুপির বেশি।
অন্যদিকে, মনমোহন সিংয়ের জীবনী নিয়ে ৩০ কোটি রুপির বাজেটে ‘দ্য এক্সিডেন্টাল প্রাইম মিনিস্টার’ মুক্তি পেয়েছে। ছবিটিতে মনমোহন শাসনামল তুলে ধরা হয়েছে। এতে মনমোহনের চরিত্রে অভিনয় করেন বলিউড তারকা অনুপম খের।
সঞ্জয় বড়ুয়ার বই ‘দ্য এক্সিডেন্টাল প্রাইম মিনিস্টার’ অবলম্বনে নির্মিত হয়েছে চলচ্চিত্রটি। মনমোহন ২০০৪ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত ইউপিএ সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
ছবিটিতে ইউপিএ সরকারের দুর্বল পারফরমেন্স তুলে ধরা হয়েছে। কংগ্রেস নেতারা অভিযোগ করছেন, বিজেপি সরকারের ব্যর্থতা ঢাকতেই ২০১৯ সালের নির্বাচনকে সামনে রেখে এ ছবি নির্মাণ করা হয়েছে এবং তা মুক্তি দেয়া হচ্ছে। কংগ্রেসের বিরুদ্ধে বিজেপির মিথ্যা প্রচারণা চালানোই ছবিটি নির্মাণের মূল উদ্দেশ্য। বিজেপির অভিযোগ, দশ বছর ধরে একটি পরিবার কীভাবে দেশকে জিম্মি রেখেছিল তা এই ছবির প্রধান আকর্ষণ। ইতিমধ্যে ছবিটি ২৫ কোটি রুপির বেশি আয় করেছে।
লোকসভা নির্বাচনের আগেই মুক্তি পেতে যাচ্ছে প্রধানমন্ত্রী মোদির বায়োপিক। এটি নির্মাণ করছেন ২০১৪ সালে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পাওয়া ‘মেরি কম’ ছবির পরিচালক ওমাং কুমার। ছবিতে মোদির চরিত্রে অভিনয় করবেন বিবেক ওবেরয়।
চা-বিক্রেতা থেকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় গণতন্ত্রের দেশে প্রধানমন্ত্রী হওয়া- সবই থাকবে গল্পে। নির্বাচনের আগে মুক্তি দেয়ার ঘোষণা নিয়ে চলছে জোর বিতর্ক। সিনেমা সমালোচক নন্দিনি রামনাথ বলেন, ‘এর আগেও রাজনীতি ও রাজনীতিককে নিয়ে সিনেমা হয়েছে। কিন্তু একটা নির্দিষ্ট দলকে নিয়ে নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের চেষ্টা ঢুকে পড়েছে বলিউড পাড়ায়।’
এর আগেও রাজনীতি নিয়ে বলিউড ছবি হয়েছে। দর্শকপ্রিয়তাও পেয়েছে বেশ। ১৯৮৩ সালে ‘জানে ভি দো ইয়ারো’ সিনেমা নির্মাণ করেছিলেন পলিচালক কুন্দন শাহ। সরকারের দুর্নীতির বিরুদ্ধে কমেডি ধাঁচের এ ছবি জাতীয় পুরস্কার পেয়েছিল।
কৃষকদের অনাহারের চিত্র তুলে ধরা ‘পেপলি লাইভ’ (২০১০) সিনেমাও দর্শক প্রশংসায় ভাসে। সরকারের রোষানলে পড়েছে এমন সিনেমাও রয়েছে। কিসসা কুরসি কা (সিংহাসনের গল্প-১৯৭৮) ও আন্ধি (ঝড়-১৯৭৫) সিনেমা বাজেয়াপ্ত করে ইন্দিরা গান্ধী সরকার। অভিযোগ, ছবি দুটিতে তার সরকারকে ব্যঙ্গাÍভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
