রোববার   ১৫ মার্চ ২০২৬   চৈত্র ১ ১৪৩২   ২৬ রমজান ১৪৪৭

প্যারিস চুক্তির ‘প্রাণ সঞ্চারে’ একমত বিশ্ব

নিউজ ডেস্ক

আমাদের নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৬:৪০ পিএম, ১৭ ডিসেম্বর ২০১৮ সোমবার

২০১৫ সালে প্যারিসে স্বাক্ষরিত জলবায়ু চুক্তি বাস্তবায়নের নীতিমালা নিয়ে একমত হয়েছে বিশ্বের প্রায় ২০০ দেশ।

আগামী ২০২০ সালের মধ্যে এ চুক্তি বাস্তবায়নের বিষয়ে চূড়ান্ত সমঝোতা এসেছে। পোল্যান্ডের কাতোভিসে জলবায়ু সম্মেলনে সপ্তাহ দুই ধরে চলা ম্যারাথন আলোচনার পর শনিবার রাতে দেশগুলোর মন্ত্রীরা ১৫৬ পৃষ্ঠার নীতিমালায় (রুলবুক) সম্মত হন।

এক্ষেত্রে কপ-২৪ সম্মেলনের নির্ধারিত সময়সীমা (শুক্রবার) ছাড়িয়ে পরের দিন পর্যন্ত গড়ায় জলবায়ু আলোচনা। খবর বিবিসি ও রয়টার্সের।

রাজনৈতিক ভেদাভেদ ভুলে বিভিন্ন দেশের এ সমঝোতা প্যারিস চুক্তিতে ‘প্রাণ সঞ্চার’ করেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। জলবায়ু সম্মেলনে উপস্থিত প্রতিনিধিরাও মনে করেন, প্যারিস চুক্তিতে থাকা কার্বন নিঃসরণের প্রতিশ্রুতি পূরণে এ পরিকল্পনা সহায়ক হবে।

সমালোচকরা বলছেন, বৈশ্বির উষ্ণতা বৃদ্ধির বিপদ ঠেকাতে নীতিমালাটি মোটেও যথেষ্ট নয়। এর মাধ্যমে কার্বন নিঃসরণ প্রয়োজনীয় মাত্রায় কমানো সম্ভবপর হবে না বলেও আশঙ্কা তাদের।

২০১৫ সালে প্যারিসে স্বাক্ষরিত ওই জলবায়ু চুক্তিতে বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধি প্রাক-শিল্পায়ন যুগের পর্যায়ে অর্থাৎ ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে রাখতে বিশ্বনেতারা একমত হয়েছিলেন।

গত বছরের জুনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার দেশকে চুক্তিটি থেকে সরিয়ে নেয়ার ঘোষণা দেন। এতে বৈশ্বিক উষ্ণতা রোধে ঐতিহাসিক উদ্যোগের সফলতা নিয়ে সন্দেহ দানা বাঁধতে থাকে।

চুক্তির প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কার্বন নিঃসরণ, গ্রিন হাউস গ্যাস নিঃসরণ কমানো ও নিঃসরণ পরিকল্পনার আধুনিকীকরণ এবং জলবায়ু তহবিলে বরাদ্দ নিয়ে তুমুল মতপার্থক্য দেখা যায়।

কাতোভিস সম্মেলনেও এ মতপার্থক্যগুলো উঠে এলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রুলবুকে পৌঁছানো নিয়ে সন্দেহ দেখা দিয়েছিল। প্যারিস চুক্তিতে ২০২০ সাল পর্যন্ত প্রতি বছর জলবায়ু তহবিলে ১০০ বিলিয়ন ডলার রাখার বাধ্যবাধকতা ছিল।

তা বিতরণের বিষয়ে আরও সুস্পষ্ট নীতিমালা চেয়েছিল জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলো। তহবিলে অর্থের পরিমাণ এ দশকের শেষ থেকে কীভাবে বাড়বে তাও জানতে চেয়েছিল তারা।

কার্বন ক্রেডিট পর্যালোচনায় জবাবদিহিতার নীতি কেমন হবে তা নিয়ে ব্রাজিল ও অন্যান্য দেশের মধ্যে বিদ্যমান দ্বিধাবিভক্তিসহ বেশকিছু বিষয়ের আলোচনা আগামী বছরের জন্য তুলে রাখা হয়েছে।

সম্মেলনের প্রেসিডেন্ট মিচেল কুর্তিকা প্রতিনিধিদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘চুক্তি নিয়ে সুনির্দিষ্ট ও পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে একটি সমঝোতায় পৌঁছানো সহজ নয়। এই নীতিমালার মাধ্যমে আপনারা কয়েক হাজার পদক্ষেপ এগিয়ে গেলেন।

আপনারা গর্বিত হতে পারেন।’ প্যারিসে স্বাক্ষরিত জলবায়ু চুক্তি বাস্তবায়নের এ নীতিমালার সবকিছু নিয়ে সবাই যে সন্তুষ্ট নয় তাও মানছেন বেশ কয়েকটি দেশের মন্ত্রীরা।

তারা বলছেন, এবারের সম্মেলনের ওপর ভিত্তি করেই চুক্তি বাস্তবায়নের কার্যক্রম এগিয়ে নেয়া সম্ভব হবে। ইউনিয়ন অব কনসার্নড সায়েন্টিস্টের আল্ডেন মেয়ার বলেন, ‘নীতিমালার অনেক কিছুই এখনো বিস্তারিত নয়। মূলত এটি প্যারিস চুক্তিকে শক্ত কিছুর ওপর দাঁড় করানোর একটি ভিত্তিপ্রস্তর।’