শুক্রবার   ১৩ মার্চ ২০২৬   ফাল্গুন ২৮ ১৪৩২   ২৪ রমজান ১৪৪৭

‘মোদি সরকারের এক্সপায়ারি ডেট শেষ’

নিউজ ডেস্ক

আমাদের নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৭:১৭ পিএম, ২০ জানুয়ারি ২০১৯ রোববার

আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন বিজেপিকে পরাজিত করতে ভারতের ১৫টির বেশি রাজনৈতিক দলের নেতাদের নিয়ে ‘ইউনাইটেড ইন্ডিয়া র‌্যালি’ বা বিরোধী দলগুলোর ঐক্যের ডাক দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেসের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে এই মহাসমাবেশের আয়োজন করা হয়। এতে লাখ লাখ মানুষ উপস্থিত হয়।

ভারতীয় বিভিন্ন গণমাধ্যম জানায়, সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদব, ডিএমকের প্রধান এম কে স্টালিন, ন্যাশনাল কংগ্রেসের প্রধান ফারুক আবদুল্লাহ, ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস দলের প্রধান শারদ পাওয়ারসহ ভারতের প্রথম সারির অন্য নেতারা মহাসমাবেশে উপস্থিত ছিলেন। 

মহাসমাবেশে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘৭০ বছরে পাকিস্তান যা করতে পারেনি, চার বছরে তাই করে দেখিয়েছে বিজেপি সরকার। দেশে জরুরি অবস্থার থেকেও খারাপ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। মোদি সরকারের এক্সপায়ারি ডেট এসে গেছে।’ ব্রিগেডের মঞ্চ থেকে সরাসরি এই ভাষাতেই মোদি সরকারকে আক্রমণ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

ব্রিগেড সমাবেশের মঞ্চ থেকে শনিবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দ্ব্যর্থহীন জবাব, ‘কে প্রধানমন্ত্রী হবেন ভাবার কোনো দরকার নেই। নির্বাচনের পরে আমরা সবাই মিলে ঠিক করব, কে প্রধানমন্ত্রী হবেন।’

মজবুত বিরোধী ঐক্যের ডাক, দিল্লির মসনদ থেকে যেকোনো মূল্যে নরেন্দ্র মোদিকে সরানোর ডাক, বিপুল সমাবেশের জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে অভিনন্দনের বন্যাÑ ব্রিগেড সমাবেশে সব বক্তার কণ্ঠেই এদিন ছিল একই সুর। বিপুল জন¯্রােত দেখে সর্বাগ্রে উচ্ছ্বাসটা ব্যক্ত করলেন তরুণ নেতা হার্দিক প্যাটেল।

অখিলেশ যাদব বললেন, ‘যত দূর পর্যন্ত চোখ যাচ্ছে, দেখছি শুধু মাথা আর মাথা।’ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকা মহাসমাবেশ এভাবেই চোখ ধাঁধিয়ে দিয়েছে ভারতের রাজনীতির রথী-মহারথীদের। আর কোনো প্রকাশ্য মঞ্চ থেকে এই প্রথমবার এত বড় কোনো রাজনৈতিক সমীকরণ বিজেপির বিরুদ্ধে সর্বাত্মক লড়াইয়ের ডাক দিল।
অখিলেশ যাদব খুব স্পষ্ট করে বললেন, ‘বাংলা থেকে আজ যা শুরু হলো, গোটা দেশে এবার তা-ই চলবে।’

মোদিবিরোধিতার তাগিদেই হোক বা অন্য কোনো কারণে, ভারতের সব প্রান্ত থেকে প্রায় সব উল্লেখযোগ্য বিজেপিবিরোধী শক্তি যেভাবে হাজির হলো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মঞ্চে, তা মোদি জামানায় কখনো দেখা যায়নি।

মোদি সরকারের অধীনে দেশ বিপর্যস্ত। এই সরকারের বিরুদ্ধে সবাইকে একজোট হয়ে লড়তে হবে। সেই বার্তা দিতেই তিনি এই মঞ্চে হাজির হয়েছেন বলে জানান যশবন্ত সিনহা।
তিনি বলেন, ‘৫৬ মাসে দেশ বিপর্যস্ত। দেশের গণতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত। দেশের আর্থিক ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে গেছে।’

‘মোদি হটাও দেশ বাঁচাও’ স্লোগান তুলে এই মঞ্চে শামিল হয়েছেন শারদ পাওয়ার, অখিলেশ যাদব, অভিষেক মনু সিংভি, বিএসপি নেত্রী মায়াবতীর প্রতিনিধি সতীশ মিশ্র, চন্দ্রবাবু নায়ডু, যশবন্ত সিনহা, অরবিন্দ কেজরিওয়াল, এইচ ডি দেবগৌড়া, ওমর আবদুল্লাহ, ফারুক আবদুল্লাহ, এম কে স্ট্যালিন, গেগং আপাং, হেমন্ত সরেনের মতো প্রথম সারির নেতারা। বিরোধী ঐক্যের এই মঞ্চে হাজির হয়েছেন হার্দিক প্যাটেল, জিগ্নেশ মেবানি।