রোববার   ১৫ মার্চ ২০২৬   চৈত্র ১ ১৪৩২   ২৬ রমজান ১৪৪৭

সন্ত্রাস নির্মূলে এক কাতারে পাকিস্তান-চীন-আফগানিস্তান

নিউজ ডেস্ক

আমাদের নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৬:১৭ পিএম, ১৭ ডিসেম্বর ২০১৮ সোমবার

সন্ত্রাস দমনে এক কাতারে শামিল হয়েছে পাকিস্তান, চীন ও আফগানিস্তান। কাবুলে ত্রি-পক্ষীয় এক আলোচনা শেষে শনিবার দেশ তিনটি সন্ত্রাসবিরোধী সহযোগিতায় একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই করেছে। সমঝোতায় সই করেন পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মেহমুদ কুরেশি, চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই এবং আফগানিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন রাব্বানি।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানি। এর মধ্যদিয়ে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানে কয়েক দশক ধরে চলমান সন্ত্রাস আর সহিংসতায় অবসান হবে বলে আশা করা হচ্ছে। চলমান আফগান যুদ্ধের ইতি টানতে যুক্তরাষ্ট্র ও তালেবানের মধ্যকার আলোচনা প্রক্রিয়ায়ও এর প্রভাব থাকবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

আফগানিস্তানে ১৭ বছর ধরে তালেবানের সঙ্গে যুদ্ধ করছে যুক্তরাষ্ট্র। সম্প্রতি উপস্থিতি জোরদার করেছে জঙ্গিগোষ্ঠী আইএস। আফগান যুদ্ধ থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছে ওয়াশিংটন। সেই লক্ষ্যে আফগান সরকার ও তালেবানের সঙ্গে আলোচনা প্রক্রিয়া শুরু করেছে বর্তমান ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। পাকিস্তানের সঙ্গে মিলে তাদের ‘সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধ’ও এখন স্তিমিত। দেশ দুটিতে ক্ষয়িষ্ণু মার্কিন প্রভাবের জায়গায় আধিপত্য বিস্তার করছে চীন। কোটি কোটি ডলারের বিনিয়োগ, বড় বড় প্রকল্প ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড এগিয়ে নিতে সন্ত্রাসবাদ ঠেকানো অগ্রাধিকার দিচ্ছে বেইজিং। তারই ধারাবাহিকতায় শনিবার ছিল দেশ তিনটির সন্ত্রাসবিরোধী দ্বিতীয় আলোচনা। সম্মেলনে শান্তি, অর্থনীতি এবং সন্ত্রাসবিরোধী সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনা করেন তিন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা।

পরিকল্পনা ব্যর্থ করতে পাকিস্তান, চীন ও আফগানিস্তানকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। তিনি জোরারোপ করে বলেন, বিভিন্ন খাতে আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। সন্ত্রাসবাদ নির্মূলের প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করে কুরেশি বলেন, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে ভালো সীমান্ত ব্যবস্থাপনা এবং গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান উভয় দেশের জন্য লাভজনক হবে। চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই বলেন, আফগানিস্তানের শান্তি প্রক্রিয়া সফল করার প্রত্যাশা করে তার দেশ। পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে বিশ্বাসের ঘাটতি কমিয়ে আনতে আমরা ভূমিকা পালন করব। চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, আমরা আফগান নেতৃত্বাধীন এবং আফগানদের নিজস্ব শান্তি প্রক্রিয়াকে সমর্থন করি। এর আগে গত বছর বেইজিংয়ে তিন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের আরেক আলোচনা হয়েছিল।