ফুটপাতে দাড়ি কামানো কান সাফাই পেশার কদর বাড়ছে
নিউজ ডেস্ক
আমাদের নারায়ণগঞ্জ
প্রকাশিত : ০৬:১৫ পিএম, ১৭ ডিসেম্বর ২০১৮ সোমবার
রেলের কামরার জানালা থেকে মুখটা বের করে দিলেই দাড়ি কামিয়ে দিচ্ছে নাপিতরা- ব্রিটিশ উপনিবেশিক আমলে মিয়ানমার, পাকিস্তান, ভারতের রেল স্টেশনগুলোতে পরিচিত দৃশ্য ছিল এটি। ট্রেনের কাছ ঘেঁষে প্লাটফর্মে দাঁড়িয়েই খদ্দেরের দাড়ি কামিয়ে দিতেন সেই আমলের নরসুন্দররা।
পুরনো এ চিত্র এখন আর খুব একটা দেখা মেলে না এ অঞ্চলে। সময়ের পরিক্রমায় এসব পেশা হারিয়ে যেতে বসেছে। কিন্তু মিয়ানমারের রাজধানী ইয়াঙ্গুনের পানসোদান স্ট্রিট ব্যতিক্রম। এখানে পুরনো-বিশ্বের এসব পেশাজীবীর কদর বেশি।
দিনকে দিন আরও বাড়ছে। চণ্ডিপাঠ থেকে জুতা সেলাই, কান সাফাই থেকে নখ কাটা- সব ধরনের পেশাজীবী মানুষের বাস এ পানসোদান স্ট্রিটের ফুটপাতে। আধুনিক যুগের নতুন সংস্করণ হিসেবে রাস্তায় চেয়ার-টেবিল পেতে বসেছে ল্যান্ডলাইনের দোকান।
মিয়ানমারের বৃহত্তম শহর ইয়াঙ্গুনের মূলকেন্দ্র পানসোদান স্ট্রিট। সব কিছু এখানেই পাওয়া যায়। বিদেশি পর্যটকদের আনাগোনাও তাই এখানে বেশি। আর এ কারণেই পুরনো এসব পেশাজীবীর কদর এখানে দিন দিন বাড়ছে। ফুটপাতে একটি বইয়ের দোকানি অং সোয়ে মিন এএফপিকে বলেন, ‘এটি বই, লেখক, কবি-সাহিত্যিকদের রাস্তা। প্রত্যেকে আসে, প্রত্যেকে এখান থেকে শেখে। সবকিছু জানতে হলে এখানেই আসতে হবে আপনাকে।’
বিশ্লেষকরা বলছেন, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংস্কারের কারণে এসব পেশা হারিয়ে যাচ্ছে। দিনে দিনে ইতিহাস হয়ে যাচ্ছে এককালের রমরমা এ পথ-ব্যবসা। তবুও বাবা-দাদার পেশা এখনও ধরে রেখেছেন অনেকে। এমন একজন মি অং। পেশায় নাপিত।
ফুটপাতে একটি ভাঙা চেয়ার নিয়ে সকাল থেকে বিকাল অবধি দাঁড়িয়ে থাকেন কাস্টমারের অপেক্ষায়। ব্যস্ত এ সড়কে কাস্টমারও ভালোই মেলে। ৪৭ বছর বয়সী খিন ওহন মিন্ট ফুটপাতে মেনিকিউরের কাজ করেন।
দুটি চেয়ার ও কয়েকটি ছোটখাটো প্রয়োজনীয় যন্ত্র- এটাই তার ব্যবসার মূলধন। এক চেয়ারে কাস্টমারকে বসান। অন্য চেয়ারে নিজে বসে কাস্টমারের পা তুলে নেন নিজের পায়ের ওপর। এরপর তার পায়ের নখ কেটে পরিষ্কার করেন। কান সাফাইয়ের কাজও করেন তিনি।
১৯৮৩ সালের পর ইয়াঙ্গুনের জনসংখ্যা দ্বিগুণ বেড়ে ৭৬ লাখে দাঁড়িয়েছে। জনসংখ্যার এ ক্রমবৃদ্ধিতে এসব পেশার কদরও বেড়েছে। আয়ও বেশ ভালো। ওহন মিন্টের দৈনিক আয় ১০ ডলার (সাড়ে ১৫ হাজার কিয়াট)।
কিন্তু সম্মানের খাতিরে এসব পেশা হারিয়ে যাচ্ছে। ওহন মিন্ট তার ছেলেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াচ্ছেন। হয়তো কোনো একদিন তিনি তার পেশা বদল করবেন।
