তিন রাজ্য হারিয়ে রাহুল ঘাঁটিতে গর্জন মোদির
নিউজ ডেস্ক
আমাদের নারায়ণগঞ্জ
প্রকাশিত : ০৫:৫৯ পিএম, ১৭ ডিসেম্বর ২০১৮ সোমবার
বিধানসভা নির্বাচনে তিন রাজ্য হারিয়ে কিছুটা দিশেহারা ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ২০১৯ সালের লোকসভা ভোটের আগে তাই ভোটার জয়ের মন্ত্র নিয়ে রাজপথে নেমেছেন তিনি। ২০১৪ সালে ক্ষমতায় আসার পর গত চার বছরে উত্তরপ্রদেশ বহুবার গিয়েছেন মোদি।
কিন্তু কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধীর ভোটব্যাংক রায়বেরেলিতে কোনোদিন যাননি। লোকসভা ভোটের আগে এবার সেই কংগ্রেস ঘাঁটিতে গর্জন তুললেন প্রধানমন্ত্রী।
কংগ্রেসকে আক্রমণ শানিয়ে মোদি বলেন, সেনাবাহিনীর সঙ্গে কংগ্রেস ও তাদের ইউপিএ সরকার যে অন্যায় করেছে, তা কোনোদিন ক্ষমা করবে না দেশ। মোদির অভিযোগ, কথা দিয়েও কর্নাটকে কৃষকদের কৃষিঋণ মওকুফ করেনি ক্ষমতাসীন কংগ্রেস।
সাবেক কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধীর দীর্ঘদিনের লোকসভা কেন্দ্র হল রায়বেরেলি। রোববার সেখানেই ১১০০ কোটি রুপির প্রকল্পের শুভসূচনা করেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। রেল কোচ ফ্যাক্টরি পরিদর্শন ও হামসাফার এক্সপ্রেসের উদ্বোধন করেন তিনি।
রেল কোচকে আরও আধুনিকীকরণ ও একটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল গড়তে এ প্রকল্প ব্যয় ঘোষণা করেন তিনি। পাঁচ রাজ্যে বিধানসভা ভোটে ভরাডুবির পর এটাই তার প্রথম কর্মসূচি। রায়বেরেলির এ কোচ ফ্যাক্টরিতে কর্মসংস্থান নিয়েও এদিনের সভামঞ্চ থেকে আক্রমণ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘২০০৭ সালে কারখানা তৈরির সময় পাঁচ হাজার চাকরির ঘোষণা করা হয়েছিল।
২০১৪ সালে তার অর্ধেক সংখ্যক পোস্টে নিয়োগের অনুমোদনও হয়েছিল। কিন্তু কারও চাকরি হয়নি।’ মোদি আরও বলেন, ‘চিন্তা করুন সেই সময়ে কথা যখন এখান থেকে দিনে ১০-১২টি কোচ তৈরি হবে।’
রাফাল ইস্যুতে বিজেপিকেই মিথ্যাবাদী বললেন মোদি। সুপ্রিমকোর্টের রায়ের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘কংগ্রেস তাকে এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে কাঠগড়ায় তুলেছিল। কিন্তু তারা নিজেরাও জানত, ওটা ছিল মিথ্যা অভিযোগ।’
যোগ করেন, ‘ওরা যত খুশি মিথ্যা বলতে পারে। কিন্তু তাতে কিছু যায় আসে না।’ গত লোকসভা নির্বাচনে রায়বেরেলি কেন্দ্রে যথেষ্ট ভালো ফল করেছিল গেরুয়া শিবির। সেখানকার পাঁচটি বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে দুটিতে ভোটের নিরিখে এগিয়ে ছিল বিজেপি।
রাজনৈতিক মহলের মতে, এদিন প্রধানমন্ত্রীর বক্তৃতা থেকেই স্পষ্ট যে, তার রায়বেরেলি সফরের প্রধান উদ্দেশ্য রাজনৈতিক। লোকসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের এ ভোটব্যাংক দখলের উদ্দেশ্যেই এ সফর করলেন মোদি।
