সোমবার   ০৬ এপ্রিল ২০২৬   চৈত্র ২৩ ১৪৩২   ১৮ শাওয়াল ১৪৪৭

বিশ্বের জনপ্রিয় মেরিটাইম ট্যুরিজম রুটে বাংলাদেশ

নিউজ ডেস্ক

আমাদের নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৭:২৮ পিএম, ১৯ জানুয়ারি ২০১৯ শনিবার

বিশ্বের জনপ্রিয় মেরিটাইম ট্যুরিজম রুটে স্থান পেয়েছে বাংলাদেশ। কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত, মহেশখালী, সুন্দরবন মিলে দর্শনীয় নানা স্থানই বাংলাদেশকে বহুল প্রত্যাশার এই রুটে জায়গা করে দিয়েছে। বিভিন্ন বিষয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষার পর এই রুটে নিয়মিত পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে। 

আগামী ২৭ জানুয়ারি বিশ্বের নানা দেশের ১১৬ জন পর্যটক নিয়ে আমেরিকা থেকে আসা জাহাজ নোঙর করবে মোংলা বন্দরে। পরবর্তীতে দেশের নানা স্থান ঘুরে স্বল্প ড্রাফটের জাহাজটি মিয়ানমারের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ ছেড়ে যাবে। পরবর্তীতে আরো তিনটি পর্যটকবাহী জাহাজ আসার ব্যাপারে সিডিউল ঘোষণা করা হয়েছে।

বিশ্বের খ্যাতনামা মেরিটাইম ট্যুরিজম কোম্পানি আমেরিকার ‘সিলভার সি গ্রুপ’ বিশ্বের নানা দেশে জাহাজ পরিচালনা করে। পর্যটকদের তারা পৃথিবীর নানা দেশে ভ্রমন করিয়ে আবারো যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে যায়। বহুদিনের অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ কোম্পানিটি এতদিন ইউরোপের বিভিন্ন দেশের সাথে প্রাচ্যের নানা দেশে জাহাজ পরিচালনা করে আসছিল। কিন্তু বাংলাদেশ তাদের রুটে ছিল না। বাংলাদেশের সুন্দরবন এবং কক্সবাজার বিচ নিয়ে পর্যটকদের আগ্রহ দিনে দিনে বৃদ্ধি পাওয়ায় সিলভার সি গ্রুপ নয়া রুটের চিন্তাভাবনা করতে থাকে। এরই অংশ হিসেবে ২০১৭ সালেও পরীক্ষামূলকভাবে তারা দুই দফায় বাংলাদেশ রুট ব্যবহার করে যাত্রা সম্পন্ন করেছিল। গত দুই বছর ধরে তারা আর আসেনি। নানা আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেছে। 

অবশেষে বাংলাদেশকে চূড়ান্তভাবে নিজেদের রুটে অন্তর্ভুক্ত করে সিলভার সি গ্রুপ রুট তৈরি করেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলেছে, সিলভার সি গ্রুপ ২০১৫ সাল থেকে বাংলাদেশ নিয়ে চিন্তাভাবনা করছিল। ২০১৬ সালে তারা সরকারের কাছ থেকে অনুমতি চেয়ে আবেদন করে। তাদের আহ্বানে দ্রুত সাড়া দেয়া হয়।

 ২০১৬ সালেই সিলভার সি কে এদেশের উপর দিয়ে জাহাজ পরিচালনা এবং তাদের পর্যটকদের অন এ্যারাইভাল ভিসা দেয়ার কথা জানিয়ে দেয়া হয়।

বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনের পদস্থ একজন কর্মকর্তা গতকাল দৈনিক আজাদীকে জানান, এটি অনেক বড় একটি সুসংবাদ। কতজন পর্যটক এখন আসছে সেটি বড় কথা নয়। তারা আমাদের দেশ দেখে শুনে গিয়ে এদেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য নিয়ে প্রচারণা চালাবে। আর সেটিই আমাদের জন্য একদিন অনেক বড় কিছু বয়ে আনবে। সিলভার সি গ্রুপের এদেশীয় এজেন্ট চট্টগ্রামের সেভেন সিজ শিপিং লাইন্সের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আলী আকবর দৈনিক আজাদীকে বলেন, ২০১৭ সালে পর্যটকবাহী দুইটি জাহাজ এসেছিল। আমরা আমাদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেছিলাম। মাঝে বহুদিন তারা নানা বিষয়ে আমাদের কাছে জানতে চাইতো। আমরা আমাদের সাধ্যের মধ্যে সবটুকু জানাতাম। অবশেষে তারা চূড়ান্তভাবে আবারো আসতে শুরু করলো।

আলী আকবর জানান, ২৭ জানুয়ারী পাঁচটি দেশের ১১৬ জন পর্যটক নিয়ে ‘সিলভার ডিসকভারার’ নামের বিলাসবহুল জাহাজটি মোংলা বন্দরে নোঙ্গর করবে। জাহাজটিতে আমেরিকা, ইংল্যান্ড, নেদারল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, ইউরোপ, এশিয়ার বিভিণ্ন দেশের ১৬৬ জন পর্যটক ও ৯৬ জন নাবিক রয়েছেন। ভারতের চেন্নাই থেকে বাংলাদেশে আসা জাহাজটি মোংলা বন্দরে ভিড়ার পর সুন্দরবন, সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড ও কাটকায় ৩০ জানুয়ারি পর্যন্ত অবস্থান করবে। 

৩১ জানুয়ারি একদিন মহেশখালীর বিভিন্ন স্থান যেমন মহেশখালী শহর, ঠাকুরতলা, আদিনাথ মন্দির ও সংলগ্ন এলাকা পরিদর্শনের মাধ্যমে বাংলাদেশে সমুদ্রযাত্রা শেষ করে মিয়ানমারের নাগাপালির উদ্দেশ্যে যাত্রা করবে। মংলায় ইমিগ্রেশন করা হবে পর্যটকদের। তাদেরকে অন এ্যারাইভাল ভিসা দেয়া হবে। দেশের অভ্যন্তরে বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান পরিদর্শন শেষে টেকনাফ স্থল বন্দর দিয়ে আবারো ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করে তারা এদেশ ছেড়ে যাবে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অপর একটি পর্যটকবাহী জাহাজ আসবে বাংলাদেশে। ২৩ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি তৃতীয় জাহাজটি আসছে এদেশে। 

প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি এই জাহাজটি প্রথম বাংলাদেশে এসেছিল বিভিন্ন দেশের ৯১ জন পর্যটক ও ৯৮ জন নাবিক সহ মোট ১৮৯ জন নিয়ে। ওই বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারী জাহাজটি বাংলাদেশ ত্যাগ করেছি। দ্বিতীয়বার পহেলা মার্চ থেকে ৩ মার্চ পর্যন্ত ৬৮ জন পর্যটক ও ৯৮ জন নাবিক সহ মোট ১৬৬ জন নিয়ে জাহাজটি মোংলা ও মহেশখালীর বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান পরিদর্শন করেছিল। ওই সময় জনপ্রতি ৫১ ডলার অন অ্যারাইভাল ভিসার ফিস বাবদ ও ট্রাভেল ট্যাঙ বাবদ জনপ্রতি ১০ ডলার করে মোট সরকারী কোষাগারে ২১,৬৫৫ ডলার জমা হয়।

সেভেন সিজ শিপিং লাইন্সের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আলী আকবর চৌধুরী আরো জানান, বিদেশি পর্যটকদের ভ্রমণের জন্য দেশের বিভিন্ন নৈসর্গিক স্পট ও সময় চূড়ান্ত করা হয়েছে। যে জাহাজে করে পর্যটকরা আসবেন, মোংলা বন্দর থেকে সেই জাহাজে করেই সুন্দরবনের ভেতরে নিয়ে যাওয়া হবে। ৩০ জানুয়ারি সেই জাহাজ রওনা দেবে কক্সবাজারের মহেশখালীর উদ্দেশে। সেখানে আদিনাথ মন্দির, পাহাড়, সাগরের সৌন্দর্য অবলোকন করবেন বিদেশি পর্যটকরা।

মার্চে আসা জাহাজের পর্যটকদের জন্যও একই সিডিউল অনুসরণ করা হবে বলে জানান আলী আকবর। স্বল্প ড্রাফটের জাহাজটি অনায়াসে এসব চ্যানেলে চলাচল করতে সক্ষম বলেও তিনি জানান।

অপরদিকে নৌবাণিজ্য অধিদপ্তর থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়ে রাখা হয়েছে। বিদেশি পর্যটকদের নিরাপত্তা এবং জাহাজের আনুষঙ্গিক কাজ দ্রুত সম্পন্ন করার যাবতীয় প্রস্তুতি নিয়ে রাখা হয়েছে। যেখানে নোঙ্গর করবে এবং যেসব চ্যানেলে যাতায়াত করবে সেখানকার নিরাপত্তা দেয়া হবে।

আলী আকবর জানান, বিলাসবহুল জাহাজটিতে পাঁচতারকা মানের হোটেলের সব সুবিধা রয়েছে। ১২০ জন যাত্রী ধারণক্ষমতার ‘সিলভার ডিসকভারার’ জাহাজে ৯৬ জন ক্রু রয়েছেন। জাহাজে সব যাত্রীর আন্তর্জাতিক মানের বিলাসবহুল স্যুট ও কেবিনে থাকা, জাহাজের রেস্টুরেন্টে খাওয়া, একই সঙ্গে সুইমিং পুল, বারবিকিউসহ সব সুবিধা রয়েছে। এর ধারণক্ষমতা পর্যটক ও নাবিক সহ মোট ২১৬ জন।
আলী আকবর জানান, এসব জাহাজে যেসব পর্যটক ঘোরেন তাদের কাছে ফাইভ স্টার ফ্যাসিলিটিটা বড় বিষয় নয়, প্রাকৃতিক সৌন্দর্যই তাদের কাছে মূখ্য। আর আমরা যদি নিরাপত্তা নিশ্চিত করে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যটা যথাযথাভাবে তাদের সামনে তুলে ধরতে পারি তাহলেই বালংাদেশের পর্যটনের স্বর্ণদ্বার খুলে যাবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।