শুক্রবার   ১৩ মার্চ ২০২৬   ফাল্গুন ২৯ ১৪৩২   ২৪ রমজান ১৪৪৭

উইঘুর মুসলিমদের যারা ‘মডেলি লাল তারকা পরিবার’

নিউজ ডেস্ক

আমাদের নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ১২:২৪ পিএম, ১৮ জানুয়ারি ২০১৯ শুক্রবার

চীনে উইঘুর মুসলমানরা নিজেদের বিপদ থেকে বাঁচাতে আর নিজেদের মর্ডান সভ্যতার পরিচয় দিতে একটি গ্রামে সব বাড়িতে লাল ফলক লাগানো হয়েছে। এতে দেখেই বোঝা যাবে এটি মডেলি পরিবার।

 

গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে দেখা যায়, লোপু কাউন্টির একটি গ্রামে প্রতিটি ঘরের দরজায় একটি করে ফলক লাগানো। তাতে লেখা- মডেলি লাল তারকা পরিবার। যারা সরকারের সব শর্ত পূরণ করেছেন, তাদের এ অভিধা দেয়া হয়েছে। বিশেষ করে যারা উগ্রপন্থাবিরোধী চিন্তাভাবনা লালন করেন ও আধুনিক সভ্যতার বোধ ধারণ করেন।

গত বছর দেশাত্মবোধক গান পরিবেশন করতে গ্রামবাসীকে এক জায়গায় জড়ো করতেন লোপুর স্থানীয় কর্মকর্তারা।

বন্দিশিবির ও ক্যাম্পগুলোতে এ চর্চা অহরহ। এ ছাড়া কীভাবে একটি সুন্দর নতুন জমানার সঙ্গে নিজেকে খাপখাইয়ে নিতে হবে- নারীদের সেই শিক্ষা দেয়া হয়। যাতে তারা মতাদর্শিক মুক্তিকে উৎসাহিত করতে পারে, সে জন্যই এমন শিক্ষা দেয়া হয়।

শেষ পর্যন্ত এতসব পদক্ষেপে সরকারের প্রতি মানুষের আনুগত্যকে অনুপ্রাণিত করছে কিনা- তা পরিষ্কার হওয়া যায়নি।

রান্নার জন্য লাকড়ির স্তূপ করছিলেন এক নারী। তার পরিবার থেকে যাদের প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে, তিনি তাদের একটি তালিকা তৈরি করেছেন। তার ১৬ বছর বয়সী ছেলেও আটকের তালিকায় রয়েছে।

আরেক নারী বলেন, ২০১৭ সালের ডিসেম্বর থেকে তার স্বামীকে একটি ভিন্ন গ্রামে নিয়ে প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। কিন্তু কোন গ্রামে তাকে রাখা হয়েছে, তা তিনি বলতে পারছেন না। ওই নারী বলেন, আমরা সব সময় কৃষিকাজ করেই জীবিকা নির্বাহ করি।

নান ও কাবাবের শিকভর্তি একটি প্লাস্টিকের ব্যাগ বহন করে নিয়ে যাচ্ছিলেন তার এক লোক। তিনি বলেন, তার প্রতিবেশীকে প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। এরপর আস্তে করে তিনি বলেন, আপনার সঙ্গে কথা বলতে আমরা ভয় পাই। কারণ তারা আমাদের ওপর চড়াও হতে পারে।

এর বড় কারণ দেশটিতে প্রশিক্ষণের নামে ১১ লাখ উইঘুর মুসলিম বন্দিশিবিরে রাখা হয়েছে। ফলে বাধ্য হয়েই এসব তকমা ব্যবহার করছেন তারা। গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে এক ভয়ংকর চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। এসব বন্দিশিবিরে যারা একবার ঢোকে তারা আর কখনো বের হতে পারে না।

গবেষক ও স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, দক্ষিণ জিনজিয়াংয়ে লোপু এক নম্বর কাউন্টি বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটিতে ধরপাকড়ের শিকার মুসলমানদের আটকে রাখা হয়। উইঘুরদের জনসংখ্যার ঘনত্ব ও বড় বড় শহর থেকে দূরত্বের কারণেই এমনটি ঘটছে।