সোমবার   ০৯ নভেম্বর ২০২৬   কার্তিক ২৪ ১৪৩৩   ২৮ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

দেবিদ্বারে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ

সাপ্তাহিক আজকাল

প্রকাশিত : ০১:০৪ এএম, ৯ নভেম্বর ২০২৬ সোমবার

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে কুমিল্লার দেবিদ্বারে উপজেলা বিএনপির দুই পক্ষের পৃথক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সমাবেশ শেষে ফেরার পথে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) রাশেদা বেগম হীরার গাড়িবহর আটকে দেন প্রতিপক্ষের নেতা-কর্মীরা। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি এবং গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।

রোববার (৮ নভেম্বর) বিকেলে দেবিদ্বার নিউমার্কেট চত্বর ও রেয়াজ উদ্দিন পাইলট উচ্চবিদ্যালয় মাঠে উপজেলা বিএনপির দুই পক্ষ পৃথকভাবে কর্মসূচির আয়োজন করে। এসব কর্মসূচিকে ঘিরেই দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।

উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক জসীম উদ্দীনের ডাকা কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি ছিলেন সংরক্ষিত আসনের এমপি (দেবিদ্বারের দায়িত্বপ্রাপ্ত) রাশেদা বেগম হীরা। এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য লিটন সরকার, কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. আবুল হাশেম ও গুলশান বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এম এ আউয়াল খান।

অন্যদিকে উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব মো. আবুল কালাম আজাদের ডাকা কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী। এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব এ এফ এম তারেক মুন্সী ও জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক রেজভীউল আহসান মুন্সী। কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মাজেদা আহসান মুন্সী।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, দুই পক্ষের কর্মসূচি শেষে মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী ও এ এফ এম তারেক মুন্সীর সমর্থকেরা র‍্যালি নিয়ে উপজেলা পরিষদের দিকে যাচ্ছিলেন। পথে নিউমার্কেট কলেজ রোডের পশু হাসপাতাল গেট এলাকায় তাদের সঙ্গে রাশেদা বেগম হীরার গাড়িবহরের মুখোমুখি অবস্থান তৈরি হয়। এ সময় মুন্সীর সমর্থকেরা স্লোগান দিয়ে গাড়িবহর আটকে দেন। এতে এমপি হীরাসহ বহরে থাকা নেতা-কর্মীরা অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন।

একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ নেতা-কর্মীরা এম এ আউয়াল খানের গাড়ি ভাঙচুর করেন। পরে পুলিশের উপস্থিতিতে তারেক মুন্সীসহ দলীয় নেতা-কর্মীদের সহযোগিতায় গাড়িবহরটি সেখান থেকে বের করে দেওয়া হয়।

এমপি রাশেদা বেগম হীরা জানান, তাঁর সামনেই দুই পক্ষের মধ্যে হট্টগোল, হাতাহাতি ও গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। উপজেলা বিএনপির আয়োজনে অংশ নিয়ে ফেরার পথে মুন্সী পক্ষের নেতা-কর্মীরা তাঁদের অবরুদ্ধ করেন। এ সময় কয়েকজনকে মারধর ও গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। বিষয়টি দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের জানাবেন বলে জানান তিনি।

এ এফ এম তারেক মুন্সী জানান, তাঁদের কর্মসূচি আসরের পর শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়। ফেরার পথে অপর পক্ষের গাড়িবহর সামনে পড়লে দলের কিছু নেতা-কর্মী উত্তেজিত হয়ে পড়েন। তিনি তাঁদের শান্ত করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন।

দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, দুই পক্ষের কর্মসূচি ঘিরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে ছিল। ফেরার পথে হাতাহাতি, হট্টগোল ও গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।