শনিবার   ৩১ অক্টোবর ২০২৬   কার্তিক ১৫ ১৪৩৩   ১৯ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

বাংলাদেশ সোসাইটির কোর্ট হেয়ারিং ১৭ ডিসেম্বর

আজকাল রিপোর্ট

সাপ্তাহিক আজকাল

প্রকাশিত : ০২:০৪ এএম, ৩১ অক্টোবর ২০২৬ শনিবার


 

  •    ওসমানের বিরুদ্ধে অর্থ চাওয়ার অভিযোগ 

 
 
লাখো বাংলাদেশির উৎসবের নির্বাচন স্থগিত হলো আদালতের আদেশে। ক্ষুব্ধ ও হতাশ নিউইয়র্কের বাংলাদেশি কমিউনিটি। ২০ লাখ ডলারের (আড়াই কোটি টাকা) ব্যয়বহুল এই নির্বাচন স্থগিতে প্রার্থী ও তাদের সর্মথকরা শুক্রবার দিন ও রাতভর বিভিন্ন স্থানে সমবেত হয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। বাংলাদেশিদের মাদার সংগঠন বাংলাদেশ সোসাইটির ৩৫ হাজার ভোটার রোববার ভোট কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেবার জন্য উন্মুখ হয়েছিলেন। কমিউনিটি ছিল ঈদ আনন্দের মতো উৎসবের সাজে। কিন্তু বাধ সাধলেন প্রবাসী ট্যাক্সি ড্রাইভার বাংলাদেশী ওসমান চৌধুরী। সোসাইটিতে তার সদস্য বাতিল করায় ক্ষুব্ধ ওসমান শুক্রবার ২৩ অক্টোবর  কুইন্স কাউন্টি সপ্রীম কোর্টে মামলা দায়ের করেন। আদালত ২৫ অক্টোবরের নির্বাচনের ওপর স্থগিতাদেশ প্রদান করে। ১৭ ডিসেম্বর কোর্টে এই মামলার ওপর শুনানী অনুষ্ঠিত হবে। তবে কবে নাগাদ এই মামলার নিষ্পত্তি হবে তা বলা মুশকিল। এই স্থগিত আদেশের কারনে বাংলাদেশ সোসাইিটর কোটি টাকা ক্ষতির সন্মুখিন হলো। সিকিউরিটি, ভোট কেন্দ্র ভাড়া, ভোটার মেশিন সহ বিভিন্ন খরচ এখন গুণতে হবে।
ওসমান চৌধুরীর আচার আচরন নিয়েও কমিউনিটিতে ব্যাপক সমালোচনা হচ্ছে। এর আগে বিভিন্ন সময় তিনি সোসাইটির বিরুদ্ধে ৩ বার মামলা করেছিলেন। সোসইটির নির্বাচন এলেই তিনি একটি অজুহাত তৈরি করে নিবার্চন স্থগিত চেয়ে আদালতে হাজির হন। কমিউনিটিতে তাকে মামলাবাজ ওসমান হিসেবে আখ্যায়িত করা হচ্ছে। বারবার সোসাইটির বিরুদ্ধে মামলা ও সংগঠনের স্বার্থ বিরোধী কর্মকান্ডের জন্যই কার্যকরি কমিটি তার সদস্যপদ বাতিল করেছে বলে জানিয়েছেন সংগঠনের সভাপতি আতাউর রহমান সেলিম ও মোহাম্মদ আলী। সংগঠন করার মৌলিক অধিকার লংঘনের অভিযোগ এনে শুক্রবার তিনি মামলা দায়ের করেন। স্থগিতাদেশে স্বাক্ষর করেছেন মাননীয় বিচারপতি চেরী এ বাগস। এই মামলা করেছিলেন ওসমান চৌধুরী। 
৩৫ হাজার ২৪২ জন ভোটারের এই নির্বাচন নিউইয়র্ক সিটির বাংলাদেশী অধ্যুষিত কুইন্স, ব্রুকলীন, ব্রঙ্কসে ৫টি কেন্দ্রে হবার কথা ছিল ২৫ অক্টোবর রোববার। সেলিম-আলী এবং কুনু-ফিরোজ প্যানেল সরাসরি লড়ছিল ২১টি আসনের কার্যকরি কমিটির নেতৃত্ব পেতে। প্যানেলের বাইরে সাধারণ সম্পাদক পদে ছিলেন রাব্বি সৈয়দ। 
সকল প্রস্তুতি সত্ত্বেও নির্বাচনের মাত্র একদিন আগে সুপ্রিম কোর্ট কর্তৃক নির্বাচন স্থগিতের নির্দেশ জারির ঘটনায় সমগ্র কমিউনিটি হতাশ হয়েছে বলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার আবু নাসের জানান। ২৩ অক্টোবর সন্ধ্যায় বাংলাদেশ সোসাইটির ভবনে আহূত সংবাদ সম্মেলনে আবু নাসের আরো জানান, এই স্থগিতাদেশ নিয়ে বিস্তারিত শুনানীর তারিখ ধার্য করা হয়েছে ৫ নভেম্বর। ৫ নভেম্বরের শুনানীর পর মাননীয় আদালতের নির্দেশের ওপর নির্ভর করছে নির্বাচনের পরবর্তী কার্যক্রম।

সংবাদ সম্মেলনে উদ্ভূত পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে সকল ভোটারের মধ্যে সৃষ্ট হতাশার জন্যে দু:খ প্রকাশ করে আবু নাসের পরবর্তী পরিক্রমায় গণমাধ্যমসহ সচেতন সকল প্রবাসীর আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেছেন। আবু নাসের উল্লেখ করেছেন যে, ২০১৮ সাল থেকেই ওসমান চৌধুরী মামলা করে আসছেন। কয়েকটি মামলা এখনো আদালতে ঝুলে রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচন কমিশনের সদস্য শামসুদ্দিন আযাদ, বদরুল হক খান, রুহুল সরকার, মিঠু হামিদ এবং মো. দুলাল মিয়া ছাড়াও বাংলাদেশ সোসাইটির সভাপতি আতাউর রহমান সেলিম, সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মহিউদ্দিন দেওয়ান, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী, বোর্ড অব ট্রাস্টির সদস্য আতোয়ারুল আলম, রুহুল আমিন হাওলাদার ও আজিমুর রহমান বোরহান উপস্থিত ছিলেন। এদিকে সোসাইটির সভাপতি আতাউর রহমান সেলিম বলেছেন, ২৫ অক্টোবরের আগে মামলা না করার শর্তে বেশ কয়েক হাজার ডলার চেয়েছিলেন।