বৃহস্পতিবার   ২৯ অক্টোবর ২০২৬   কার্তিক ১৩ ১৪৩৩   ১৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

ইসরায়েলে রেকর্ড আসন পেয়েও কেন ‘কিংমেকার’ হতে পারছে না আরব দলগুলো?

সাপ্তাহিক আজকাল

প্রকাশিত : ১০:২৬ পিএম, ২৮ অক্টোবর ২০২৬ বুধবার

ইসরায়েলের নির্বাচনে আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলো পার্লামেন্টে রেকর্ডসংখ্যক আসন পেতে যাচ্ছে। তবে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও বিরোধী নেতা গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন কোনও জোটই এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে না পারায় সরকার গঠনে আরব দলগুলোর সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কিন্তু ইসরায়েলের প্রধান ইহুদি দলগুলোর বিরোধিতায় নির্বাচনী সাফল্য সত্ত্বেও সরকার গঠনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবারের নির্বাচনের আংশিক ফল ও বুথফেরত জরিপ অনুযায়ী, আরব নেতৃত্বাধীন জয়েন্ট লিস্ট ও রা’আম দল দুটি মিলে ১২০ আসনের পার্লামেন্টে ১৭টি আসন পেতে পারে। অন্যদিকে, নেতানিয়াহুর জোট ৫৪টি এবং আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট ৪৯টি আসন পেতে পারে।

অন্যদিকে, ইহুদি সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েল রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন লিকুদ জোট পেতে পারে ৫৩ আসন। আর আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট পেতে পারে ৪৮ আসন।

সাবেক ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত ড্যানিয়েল শেকের মতে, এবারের নির্বাচনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা আরব ভোটের পুনরুত্থান। তার ভাষায়, ইসরায়েলের রাজনৈতিক সমীকরণে এত বড় জনগোষ্ঠীকে আর উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।

তবে বিশ্লেষকদের মতে, আরব দলগুলোর সামনে বড় বাধা রাজনৈতিক অঙ্ক নয়, বরং ইহুদি নেতৃত্বাধীন দলগুলোর অনীহা। অধিকৃত পশ্চিম তীরের রামাল্লায় ফিলিস্তিন স্টাডিজবিষয়ক প্রতিষ্ঠান প্যালেস্টিনিয়ান ফোরাম ফর ইসরায়েলি স্টাডিজের মহাপরিচালক হোনাইদা ঘানাম বলেন, আরব নাগরিকদের প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলোকে সরকার গঠনের বৈধ অংশীদার হিসেবে মেনে নিতে অধিকাংশ ইসরায়েলি দলের আপত্তি রয়েছে।

সংখ্যাগরিষ্ঠতার সমীকরণ
টাইমস অব ইসরায়েল-এর হিসাব অনুযায়ী, আইজেনকটের বিরোধী জোটের সঙ্গে আরব দলগুলো যুক্ত হলে তাদের আসনসংখ্যা ৬৬-তে পৌঁছাতে পারে। এতে নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে সরকার গঠনের প্রয়োজনীয় ৬১ আসনের সীমা অতিক্রম করা সম্ভব।

তবে ফিলিস্তিনি রাজনৈতিক বিশ্লেষক আহমেদ নাজ্জারের মতে, আরব দলগুলোর সঙ্গে জোট গঠনে বিরোধীদের অনীহা মূলত আদর্শিক। আইজেনকট আরব দলগুলোর প্রতি আনুগত্যের শর্ত আরোপ করেছেন এবং তাদের সমর্থনের ওপর নির্ভর করার সম্ভাবনাও নাকচ করেছেন।

রা’আমের নেতা মানসুর আব্বাস অবশ্য আইজেনকটের সরকারে যোগ দেওয়ার আগ্রহ দেখিয়েছেন। তার শর্ত, অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার বিষয়গুলোতে আরব দলকে দায়িত্ব দিতে হবে। জয়েন্ট লিস্টের নেতা ইউসেফ জাবারিনও নেতানিয়াহুর ডানপন্থী সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করতে ভূমিকা রাখার কথা বলেছেন।

সমঝোতায় বাধা কোথায়?
নেতানিয়াহু আরব দলগুলোর সমর্থননির্ভর সরকার গঠনকে ‘লজ্জাজনক’ বলে মন্তব্য করেছেন। অন্যদিকে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট ও ইসরায়েল বেইতেনু দলের নেতা আভিগদর লিবারম্যানও সরকারে কেবল ‘জায়নবাদী’ দল রাখার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।

তবে বিরোধী জোটের অংশ ডেমোক্র্যাটস দলের নেতা ইয়ার গোলান আরব দলগুলোর সঙ্গে সহযোগিতার পক্ষে। তার মতে, ইহুদি ও আরব ভোটের মধ্যে বিভাজন তৈরি করে রাখার নীতি আর মেনে নেওয়া উচিত নয়।

ইসরায়েলের রাজনীতিতে অবশ্য এর আগেও এমন সহযোগিতার নজির রয়েছে। ২০২১ সালের নির্বাচনের পর রা’আমের সমর্থন নাফতালি বেনেট ও ইয়ার লাপিদের নেতৃত্বাধীন সরকার গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। তবে সেই সরকার বেশিদিন টেকেনি।

বিশ্লেষকদের মতে, আরব দলগুলোর সঙ্গে সমঝোতা না হলে নতুন নির্বাচন, বাইরে থেকে আরব দলগুলোর সমর্থনে সংখ্যালঘু সরকার, বিরোধী জোট থেকে নেতানিয়াহুর শিবিরে দলবদল কিংবা জাতীয় ঐক্যের সরকার- এই চারটি সম্ভাবনা সামনে রয়েছে।

ফলে রেকর্ড আসন পাওয়ার পরও আরব দলগুলো শেষ পর্যন্ত সরকার গঠনে কতটা প্রভাব বিস্তার করতে পারবে, তা নির্ভর করছে ইসরায়েলের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর সমঝোতার ওপর। সূত্র: আল-জাজিরা