একই পরীক্ষায় রোগীর খরচ কোথাও ৬৫৭, কোথাও ১৩০০
সাপ্তাহিক আজকাল
প্রকাশিত : ১০:২৮ এএম, ২৮ অক্টোবর ২০২৬ বুধবার
রোগীর একই পরীক্ষার বিল কোথাও ৬৫৭, কোথাও ১৩০০ টাকা। থাইরয়েডের হরমোন দেখার টিএসএইচ পরীক্ষায় ধানমন্ডির ল্যাবএইডে নেওয়া হয় ১৩০০ টাকা। একই এলাকার পপুলারে নেওয়া হয় ৯০০, ইবনে সিনায় ৬৫৭ টাকা। ধানমন্ডির প্রথম সারির একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, এই পরীক্ষায় তাদের খরচ ১৬০ টাকা।
হৃদরোগের ঝুঁকি নিয়ে রাজধানীর জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে যান আলমগীর হোসেন (৬২)। রক্তে চর্বির মাত্রা বেশি কি না দেখতে তাকে লিপিড প্রোফাইল পরীক্ষা দেন চিকিৎসক। জরুরি ভিত্তিতে করানোর তাগিদ দিয়ে কাছাকাছি থাকা একটি নামকরা বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পাঠানো হয়। সেখানে পরীক্ষা করাতে আলমগীরকে গুনতে হয় এক হাজার টাকা।
অন্যদিকে এক সপ্তাহ ধরে পায়খানা হচ্ছিল না আমজাদ হোসেনের (৭১)। তাকে নেওয়া হয় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। ভর্তির তিন দিনেও অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় চিকিৎসক কলোনোস্কপির (অন্ত্র পরীক্ষা) পরামর্শ দেন। হাসপাতালের প্যাথলজি বিভাগ থেকে জানানো হয়, বিভাগীয় এই হাসপাতালে পরীক্ষাটি করাতে অন্তত ১৫ দিন অপেক্ষা করতে হবে। পরে পাঁচ হাজার টাকায় একটি বেসরকারি হাসপাতালে পরীক্ষা করাতে হয় তাকে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ডায়াগনস্টিক সেন্টার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই দুই পরীক্ষার প্রকৃত খরচ অনেক কম। লিপিড প্রোফাইলে খরচ ২৭৭ টাকা। কলোনোস্কপিতে খরচ দেড় হাজার টাকা।
প্রায় প্রতিটি পরীক্ষায় রি-এজেন্ট (পরীক্ষা-নিরীক্ষার উপকরণ) ও যন্ত্রপাতি কেনা, টেকনোলজিস্টের বেতনসহ সব মিলিয়ে যত ব্যয় হয়, তার চেয়ে অনেক বেশি বিল গুনতে হয় রোগীদের। যদিও প্রতিষ্ঠান ও স্থানভেদে বিলের পার্থক্য আছে।
ডায়াগনস্টিক সেন্টার-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এর পেছনে চিকিৎসকদের কমিশন বাণিজ্য একটি বড় কারণ।
ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলো বলছে, বেসরকারি হাসপাতালগুলো টিকে থাকে রোগ নির্ণয়ের ওপর। সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের প্রায় প্রত্যেককেই ন্যূনতম তিন থেকে পাঁচটি পরীক্ষা করাতে হয়। এগুলোর বড় অংশ আসে চিকিৎসকদের পরামর্শে।
সরেজমিনে ল্যাবএইড, পপুলার, ইবনে সিনাসহ ঢাকার অন্তত পাঁচটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে খোঁজ নেন এই প্রতিবেদক। ধানমন্ডির প্রথম সারির একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, টিএসএইচ পরীক্ষায় রি-এজেন্টে খরচ ৬০ টাকা। সহায়কসামগ্রীতে ৫০ টাকা। জনবল ও লজিস্টিক বাবদ সর্বোচ্চ ৫০ টাকা। সব মিলিয়ে খরচ ১৬০ টাকা। টিএসএইচ থাইরয়েড গ্রন্থির কাজ একটি হরমোন পরীক্ষা। ওই সেন্টারে লিপিড প্রোফাইলে খরচ ২৭৭ টাকা। হেপাটাইটিস (যকৃতের সংক্রমণ) নির্ণয়ে খরচ ১৯০ টাকা। অথচ খরচের তুলনায় অনেক বেশি বিল নেওয়া হয় রোগীদের কাছ থেকে।
সেন্টারভেদে টিএসএইচ পরীক্ষায় নেওয়া হচ্ছে ৬০০ থেকে ১৩০০ টাকা। লিপিড প্রোফাইলে নেওয়া হচ্ছে ৭৫০ থেকে ১৫০০ টাকা। হেপাটাইটিস পরীক্ষায় ৪৫০ থেকে ১২০০ টাকা।
ধানমন্ডির ল্যাবএইড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে লিপিড প্রোফাইলের দাম ১৩৯০ টাকা। পপুলারে তা ১০০০ ও ইবনে সিনায় ৮০৭ টাকা। হরমোনজাতীয় টিএসএইচ পরীক্ষায় ল্যাবএইডে ১৩০০, পপুলারে ৯০০ ও ইবনে সিনায় ৬৫৭ টাকা নেওয়া হচ্ছে।
একেকটি পরীক্ষার পেছনে প্রতিষ্ঠানগুলোর নিজস্ব খরচ কেমন? ডায়াগনস্টিক সেন্টারভেদে বিলের পার্থক্য এত বেশি হওয়ার কারণ কী? এমন প্রশ্নে প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মকর্তাদের কেউ প্রকাশ্যে কথা বলতে রাজি হননি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ল্যাবএইডের ধানমন্ডি শাখার একজন কর্মকর্তা এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘হাসপাতালের জনবলের বেতন, রি-এজেন্টের দামসহ প্রতিটি খাত হিসাব করে পরীক্ষার দাম নির্ধারণ করা হয়। চিকিৎসকদের কমিশনের বিষয়টিও থাকে।’
ইবনে সিনা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের একজন টেকনোলজিস্ট বলেন, ‘একই মানের হলেও আমরা ল্যাবএইড ও পপুলারের চেয়ে কম টাকা নিই। তারপরও যথেষ্ট মুনাফা থাকে।’
বাংলাদেশ প্রাইভেট হাসপাতাল, ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিএইচসিডিএ) মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করছেন ল্যাবএইড হাসপাতালের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ডা. এ এম শামীম। তার দাবি, সেবার মূল্য হঠাৎ বা উদ্দেশ্যহীনভাবে নির্ধারণ করা হয় না।
তিনি এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘ডায়াগনস্টিক ও হাসপাতালে মোট খরচের অন্তত ২৫ শতাংশ ব্যয় হয় রি-এজেন্টে। ডাক্তারদের কনসালটেন্সি ফি এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বাবদ যায় প্রায় ৩০ শতাংশ। বাড়িভাড়া ও ইউটিলিটি বিলে আরও ১৫ থেকে ১৭ শতাংশ খরচ হয়। এ ছাড়া ব্যাংক লোনের সুদ ও অন্যান্য ওভারহেড খরচে যায় আরও ৫ থেকে ৮ শতাংশ। এসব সামগ্রিক পরিচালনা ব্যয় হিসাব করার পর ১০ থেকে ১৫ শতাংশ নিট মুনাফা ধরে সেবার মূল্য নির্ধারণ করা হয়।’
বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের মুনাফা নিয়ে গত বছর ঢাকার এক অনুষ্ঠানে কথা বলেন তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (স্বাস্থ্য) অধ্যাপক ডা. সায়েদুর রহমান। প্রতিষ্ঠানগুলোর মালিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘অবশ্যই আপনারা প্রচুর অর্থ বিনিয়োগ করেন, তার যুক্তিসংগত মুনাফা দরকার। তবে সেটি যেন অন্যায়ের পর্যায়ে না যায়।’
দেশে বেসরকারি হাসপাতালের চিকিৎসা খরচ বিদেশের উন্নত ও নামিদামি প্রতিষ্ঠানের তুলনায় অনেক কম বলে মনে করেন এ এম শামীম। তার দাবি, ভারতের ম্যাক্স ও অ্যাপোলোতে ল্যাবএইডের তুলনায় প্রায় তিন গুণ বেশি খরচ। ব্যাংককের বামরুনগ্রাদ ধার্য করে পাঁচ থেকে ছয় গুণ বেশি ফি। সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ ল্যাবএইডের তুলনায় প্রায় আট গুণ বেশি ফি নেয়।
কমিশন নিয়ে চিকিৎসকদের বক্তব্য
‘চিকিৎসার সরকারি ব্যয় আগের তুলনায় বেড়েছে তারপরও মানুষের চিকিৎসা ব্যয় বেড়েই চলেছে। যার বড় একটি কারণ চিকিৎসকদের একটি অংশের অনৈতিক সুবিধা গ্রহণ।’ ২০২৩ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে এমন মন্তব্য করেন তৎকালীন স্বাস্থ্যসচিব ড. আনোয়ার হোসেন হাওলাদার। তার এই বক্তব্যে তখন উপস্থিত চিকিৎসকদের কেউ কেউ আপত্তি তোলেন।
বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) প্যাথলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. মো. জিল্লুর রহমান বলেন, ‘বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কয়েক শিফটে কাজ করা স্টাফ, বিল্ডিং ভাড়া সবকিছু হচ্ছে রোগীর রোগ নির্ণয় খরচের ওপর। কিন্তু পরীক্ষার পেছনে খরচের তুলনায় সেটি কিছু নয়। সমস্যা হচ্ছে আমরা চিকিৎসকরা কমিশন খাচ্ছি। এই ব্যবস্থা না থাকলে অধিকাংশ ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধ হয়ে যেত। আমি নিশ্চিত করে বলতে পারি, বর্তমানে ২০-২৫ শতাংশ চিকিৎসক এই বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত। যার প্রভাব পড়ছে রোগীদের ওপর।’
সুবিধা নেওয়ার কথা স্বীকার করলেও বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে চান না অধিকাংশ চিকিৎসক। পপুলার হাসপাতালের একজন শিশু বিশেষজ্ঞ বলেন, ‘আমি নিজেও এটার (কমিশন বাণিজ্য) সঙ্গে জড়িত ছিলাম। তবে এখন এড়িয়ে চলি।’
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানগুলোর মুনাফার বড় অংশ আসে সরকারি হাসপাতাল থেকে পাঠানো রোগীর ওপর। তবে কমিশনের হার একেক প্রতিষ্ঠানে একেক রকম। সেন্টারগুলোর কর্মকর্তারা বলছেন, যত নামকরা প্রতিষ্ঠান, চিকিৎসকদের কমিশন প্রদানের হার তার তত বেশি। অধিকাংশ সময় খামে করে টাকা দেওয়া হয়। কোনো কোনো চিকিৎসক আবার ব্যাংকের মাধ্যমেও টাকা নেন।
ল্যাবএইডের ধানমন্ডি শাখার ওই কর্মকর্তা সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকদের প্রসঙ্গে বলেন, ‘আমাদের এখানে যেসব প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষা হয়, তার বড় একটি অংশ আসে সরকারি হাসপাতালের চুক্তিবদ্ধ চিকিৎসকদের মাধ্যমে।’
চিকিৎসদের সুবিধা প্রদান ও কমিশন বাণিজ্য প্রসঙ্গে বিপিএইচসিডিএর মহাসচিব এ এম শামীম বলেন, ‘কেউ কেউ হয়তো এই কাজ করে। তবে কমিশন বাণিজ্য একটি অনিয়ম ও অন্যায়। এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। দেশে মানসম্মত প্রাইভেট হাসপাতাল চালু হওয়ায় চিকিৎসকদের বৈধ আয় আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। ফলে সচেতন ও পেশাদার অনেক চিকিৎসকই এখন কমিশন নেন না।’
ইউনাইটেড, এভারকেয়ার ও ল্যাবএইডের মতো হাসপাতালে রোগী দেখা ও যেকোনো অস্ত্রোপচারের ফি ঠিক করে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ। তবে ইবনে সিনাসহ অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানে ফি ঠিক করেন চিকিৎসকরা।
এ বিষয়ে এ এম শামীম বলেন, ‘বড় হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসকরা এককভাবে সার্জারি বা অন্যান্য ফি নির্ধারণ করতে পারেন না। সার্জন্স ফি, বেড ভাড়া, ওষুধ ও অক্সিজেনের ফি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নির্দিষ্ট করে দেয়। এর মধ্যে নির্ধারিত সার্জন্স ফির ৮০ শতাংশ পান সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক।’
হাসপাতালে চিকিৎসকদের চেম্বারের সুবিধা নিয়েও কথা বলেন বিপিএইচসিডিএর মহাসচিব। তিনি বলেন, ‘হাসপাতালে ডাক্তারদের চেম্বার, বিদ্যুৎ ও পিয়ন সুবিধা দেওয়া একটি আন্তর্জাতিক মানদণ্ড। এর মূল উদ্দেশ্য, চিকিৎসকরা যেন হাসপাতালে সরাসরি উপস্থিত থেকে জরুরি রোগীদের তাৎক্ষণিক সেবা দিতে পারেন। বিভিন্ন চেম্বারে ঘুরে রোগী দেখার চেয়ে হাসপাতালে চিকিৎসকদের উপস্থিতি রোগীর কল্যাণে বেশি কাজে আসে।’
সরকারি হাসপাতালের পরীক্ষা ও বৈকালিক সেবা
পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি) নামের বেসরকারি সংস্থা দেশের ২২টি সরকারি হাসপাতালে ৯ মাস গবেষণা চালায়। গত ২৯ জুলাই তারা গবেষণার ফল প্রকাশ করে। এতে উঠে আসে, সরকারি হাসপাতালে পর্যাপ্ত জনবল না থাকা, রি-এজেন্টের অভাব ও কমিশন বাণিজ্যের মতো ঘটনায় ৭৫ শতাংশ রোগী বাধ্য হয়ে বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে যাচ্ছেন। সরকারি হাসপাতালে যে পরীক্ষা ২০০ টাকায় করা যেত, বেসরকারিতে তা করাতে হচ্ছে পাঁচ গুণ পর্যন্ত বেশি দামে।
মানসম্মত চিকিৎসা দেওয়া এবং রোগীদের বেসরকারি হাসপাতালে পাঠানো ঠেকাতে ২০২৩ সালে সরকারি হাসপাতালে বৈকালিক সেবা চালু করে সরকার। জেলা সদর হাসপাতাল, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও বিশেষায়িত হাসপাতালসহ মোট ১৮৩টি হাসপাতালে এই সেবা চালু হয়।
এই সেবায় অধ্যাপকের ফি ৫০০ টাকা ঠিক করা হয়। সহযোগী ও সহকারী অধ্যাপক এবং মেডিকেল অফিসারকে দেখাতে ফি ধরা হয় ২০০ টাকা। প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে ৬টা পর্যন্ত সেবা চলত। তবে এটি বেশি দিন কার্যকর হয়নি। এক বছরের মাথায় এই সেবা বন্ধ হয়ে যায়। বন্ধের কারণ হিসেবে প্রচারের অভাব, ওয়ান স্টপ সার্ভিস না থাকা এবং সংশ্লিষ্টদের আন্তরিকতার অভাবের মতো বিষয়গুলো সামনে আসে।
কমিশন বাণিজ্য বন্ধের তাগিদ
চিকিৎসকদের কমিশন নেওয়া বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) আইনের পরিপন্থি বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। তবে নিজ উদ্যোগে পদক্ষেপ নেওয়ার সক্ষমতা নেই তাদের।
চিকিৎসকদের টেস্ট ও কমিশন বাণিজ্যের বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘সরকারি হাসপাতালে দায়িত্ব ফেলে বেসরকারিতে রোগী দেখা, রোগী পাঠিয়ে কমিশন খাওয়া, টেস্ট বাণিজ্য এগুলো বন্ধ করতে হবে। সরকার নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছে। এগুলো স্থায়ীভাবে যাতে বন্ধ করা যায় সেই চেষ্টা চলছে।’
এমন উদ্যোগ বাস্তবায়নে সরকারের কঠোর তদারকির তাগিদ দিয়েছেন বিপিএইচসিডিএর মহাসচিব ডা. এ এম শামীম। তিনি বলেন, ‘ভারতসহ অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও একটি স্বাধীন কোয়ালিটি কন্ট্রোল কাউন্সিল গঠন করা উচিত। এই কাউন্সিলের মাধ্যমে প্রতি দুই বছর পরপর অডিট পরিচালনা করে হাসপাতালগুলোর অ্যাক্রেডিটেশন নবায়ন করা দরকার।’
এ. এম শামীম বলেন, ‘আমরাও চাই এসব অনৈতিক কাজের বিরুদ্ধে সরকার ব্যবস্থা নিক। আমরা সরকারের বিরুদ্ধে নই। দেশের মানুষের সঠিক ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সরকার ও বেসরকারি খাতকে মুখোমুখি না দাঁড় করিয়ে পরিপূরক হিসেবে কাজ করতে হবে।’
