শনিবার   ২৪ অক্টোবর ২০২৬   কার্তিক ৮ ১৪৩৩   ১২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

নির্বাচনের পর মধ্যপ্রাচ্য অস্থির হয়ে উঠবে?

আজকাল রিপোর্ট

সাপ্তাহিক আজকাল

প্রকাশিত : ০১:৫৮ এএম, ২৪ অক্টোবর ২০২৬ শনিবার

সৌদি থেকে কূটনীতিকদের সরিয়ে নিল যুক্তরাষ্ট্র

 
 
সৌদি আরব থেকে কূটনীতিকদের সরিয়ে নেবার নির্দেশ দিল যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট সৌদি আরবে অবস্থিত তাদের মিশনগুলো থেকে কিছু কূটনীতিক ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের চলে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে বুধবার ২১ অক্টোবর। ঐ অঞ্চলের অন্যান্য কয়েকটি মার্কিন মিশন থেকেও কর্মীদের পরিবারের সদস্যদের সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলে মার্কিন কর্মকর্তারা রয়টার্সকে জানিয়েছেন। একই সাথে সৌদিস্থ মার্কিন দূতাবাসকে সর্তকাবস্থায় থাকার আদেশ দেয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের আশংকা বিমানবন্দরে সাম্প্রতিক প্রাণঘাতী হামলার পর হুথিরা আরও হামলা চালাতে পারে। 
হঠাৎ করেই মার্কিন এই সিদ্ধান্তে নানা জল্পনা কল্পনার জন্ম দিচ্ছে। ডিেেপ্লাম্যাটদের সরিয়ে নেবার নেপথ্য কারণ ভিন্ন হতে পারে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আগেই বলেছেন, মধ্যবর্তী নির্বাচনের জন্য হামলা স্থগিত করা হলো। নির্বাচনের পর আবার ইরানে হামলা হবে। তাদের মানচিত্রই পাল্টে দেব। ইতোমধ্যেই ৩টি যুদ্ধ জাহাজ মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করেছে। একই সাথে ট্রাম্প দাবি করেছে, ইরান নানাভাবে যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে। ইতোমধ্যেই ইরান সর্মথিত হুথিরা যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র হিসেবে পরিচিত সৌদির মাটিতে হামলা চালিয়েছে। কূটনীতিকরা বলছেন, ৩ নভেম্বরের নির্বাচনের পর অস্বাভাবিক ঘটনা ঘটতে পারে মধ্যপ্রাচ্যে। তার সতর্কতায় ট্রাম্প প্রশাসন কূটনীতিকদের সরিয়ে নিচ্ছেন। সৌদি, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মক্কাজোটও ধীর গতিতে এগুচ্ছে। ইরান নিয়েও তাদের নানা প্রশ্ন রয়েছে। এই জোটও যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনী ফলাফলের দিকে তাকিয়ে আছে। তাদের ধারণা, এই নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা জয়ী হলে ওয়াশিংটনের হাওয়া পরিবর্তন হতে পারে। নির্বাচনের পরই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ভালোভাবে ‘রিড’ করা যাবে। 

স্টেট ডিপার্টমেন্টের মুখপাত্র টমি পিগট ‘এক্স’ এ দেওয়া এক পোস্টে জানিয়েছেন, ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠী সৌদি আরবের বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাচ্ছে। এই পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে, স্টেট ডিপার্টমেন্ট কেবল সৌদি আরবে অবস্থানরত “জরুরি প্রয়োজন ছাড়া অন্য মার্কিন সরকারি কর্মচারী এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের” চলে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর তেহরান যখন মার্কিন স্থাপনাগুলোতে হামলা চালায়, তখন অনেক কূটনৈতিক কর্মীকে অঞ্চলটি থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ওয়াশিংটন তাদের কিছু কূটনৈতিক কর্মীকে সেখানে ফিরিয়ে এনেছিল।
পিগট বলেন, "ইরান-সমর্থিত হুথিরা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে শত্রুতা বাড়িয়ে দিয়েছে। তারা বেসামরিক বিমানবন্দরসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলা চালাচ্ছে, যার ফলে বেসামরিক মানুষ হতাহত হচ্ছেন এবং যাতায়াত ব্যবস্থায় মারাত্মক বিঘ্ন ঘটছে।"

যুক্তরাষ্ট্রের চার কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন যে, পারস্য উপসাগরীয় অন্যান্য দেশে অবস্থিত মার্কিন মিশনগুলো থেকেও কর্মীদের পরিবারের সদস্যদের চলে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হবে। তবে সৌদি আরবের বাইরে অন্যান্য মিশনের ক্ষেত্রে কোনো পরিবর্তন আনা হচ্ছে কি না, সে বিষয়ে পিগট কিছু জানাননি।
এই নতুন করে কর্মী সরিয়ে নেওয়ার ঘটনাটি ইয়েমেনে সংঘাত বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে ঘটেছে। এটি ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের শুরু করা যুদ্ধের একটি নতুন ফ্রট বা রণক্ষেত্র খুলে দিয়েছে। এই বৃহত্তর সংঘাত বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যকে ব্যাহত করেছে এবং উপসাগরীয় দেশগুলোর অর্থনীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
এই নির্দেশ জারির পর, সৌদি আরবের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দাম্মামের কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে একটি হামলায় একজন নিহত ও আটজন আহত হয়েছেন। জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এর আগে সৌদি আরবের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা একটি ড্রোনকে প্রতিহত করে, যা সৌদি আরামকোর শায়বাহ তেলক্ষেত্রের একটি স্থাপনায় আঘাত হানার চেষ্টা করছিল। এই ঘটনায় দুজন নিহত হন।
রিয়াদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস বুধবার সৌদি আরবে হুথিদের সম্ভাব্য আরও হামলার বিষয়ে একটি নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করেছে। এর আগে রিয়াদের বিমানবন্দরসহ বেশ কয়েকটি স্থানে প্রাণঘাতী হামলা চালিয়েছিল হুথিরা।
ইরান ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধ শুরুর পরপরই রিয়াদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস এবং সেখানে থাকা সিআইএ এর একটি কেন্দ্রে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছিল। (রয়টার্স ও পলিটিকো’র সহায়তায় রিপোর্টটি তৈরি)