সড়কে হারাচ্ছে প্রজন্ম নিহতের ২৪% শিশু
সাপ্তাহিক আজকাল
প্রকাশিত : ১০:১৭ এএম, ২২ অক্টোবর ২০২৬ বৃহস্পতিবার
৮ বছর বয়সী এলমা আক্তার। বরগুনার আমতলীতে নানাবাড়ি বেড়াতে গিয়েছিল। সেখানে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে সে চকলেট খাচ্ছিল। হঠাৎ দ্রুতগতির একটি অটোরিকশা তাকে ধাক্কা দিলে সে গুরুতর আহত হয়। হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যায় দ্বিতীয় শ্রেণির এই শিক্ষার্থী।
গত ১৬ অক্টোবর এ দুর্ঘটনা ঘটে। এর আগের মাসে কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চাপায় ৪ বছর বয়সী ওমর ফারুকের মৃত্যু হয় তার বাড়ির সামনের রাস্তায়। গত শনিবার কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় শ্রীরামদি এলাকায় রাস্তা পার হওয়ার সময় ইজিবাইকের চাপায় ছয় বছর বয়সী ইভা প্রাণ হারায়।
প্রতিবছর এলমা, ওমর, ইভার মতো হাজারো শিশুর জীবন ঝরছে সড়ক দুর্ঘটনায়। এর বড় অংশ ঘটছে গ্রামীণ এলাকায় সড়ক পারাপারের সময় গাড়িচাপায়। সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকার সময়ে দ্রুতগতির ব্যাটারিচালিত রিকশা, অটোরিকশা, ইজিবাইকের ধাক্কায় শিশুর জীবন যাচ্ছে। নছিমন, করিমন, ভটভটি, আলম সাধুর মতো অবৈধ যানবাহনচাপাতেও শিশুর প্রাণ যাচ্ছে।
মোটরসাইকেলেও হতাহত হচ্ছে শিশু। শিশুরা মোটরসাইকেল চালাতে বা চড়তে গিয়ে দুর্ঘটনা ঘটাচ্ছে। আবার বেপরোয়া মোটরসাইকেলের ধাক্কাতে শিশুর জীবন যাচ্ছে।
গত সাত বছরে সড়কে যত শিশু নিহত হয়েছে, তার ৩৭ দশমিক ১৪ শতাংশ মোটরসাইকেল-সংশ্লিষ্ট দুর্ঘটনা বলে জানিয়েছে বেসরকারি সংস্থা রোড সেফটি ফাউন্ডেশন। এছাড়া দুর্ঘটনায় অনেক শিশু পঙ্গু হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে আজ পালিত হবে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস। এবার দিবসটির প্রতিপাদ্য– ‘নিরাপদ সড়ক সমৃদ্ধ দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’।
রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ থেকে চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ছয় বছর ৯ মাসে সারাদেশে সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত সাত হাজার ৯৬৩ শিশু নিহত হয়েছে, যাদের বছর ১৭ বছরের কম ছিল। যে ঘটনাগুলো সংবাদমাধ্যমে এসেছে, শুধু সেগুলোই এই পরিসংখ্যানে এসেছে। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) ও পুলিশের তথ্যানুযায়ী, একই সময়ে ৩৩ হাজার ৬৮৯ জনের প্রাণ গেছে সড়ক দুর্ঘটনায়। এ হিসাবে সড়কে প্রাণ হারানোদের কমপক্ষে এক-চতুর্থাংশ শিশু।
বেসরকারি সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, সড়কে নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে শূন্য থেকে ৫ বছর বয়সী ছিল ১ হাজার ৫৩২ জন। ৬ থেকে ১২ বছর বয়সী ছিল ২ হাজার ৮৮৪ জন। নিহতদের মধ্যে ১৩ থেকে ১৭ বছর বয়সী ৩ হাজার ৫৪৭ জন। এ হিসাবে নিহত শিশুদের ৫৬ শতাংশ ১২ বছরের কম বয়সী।
স্কুলে যাওয়া-আসার সময় নিহত হয়েছে ২ হাজার ৫১৩ শিশু। বাড়ির আশপাশের সড়কে খেলার সময় নিহত হয়েছে ৯৬২ শিশু। রোড সেফটি ফাউন্ডেশন বলছে, শিশুরা গ্রামীণ সড়কে বেশি হতাহত হচ্ছে। কারণ, গ্রামীণ সড়কগুলো বসতবাড়ি ঘেঁষা এবং যানবাহনগুলো কোনো নিয়মনীতি মেনে চলে না।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সড়ক নির্মাণে ত্রুটি, ভুল নকশা, লাইসেন্সবিহীন চালকের নিবন্ধনহীন যানবাহনের কারণে গ্রামীণ সড়কে শিশুর প্রাণ যাচ্ছে। পরিসংখ্যানে যে তথ্য আসছে তার চেয়ে মৃত্যুর প্রকৃত সংখ্যা অনেক বেশি। কারণ, সব ঘটনার তথ্য সংবাদমাধ্যমে আসে না। এ ছাড়া মামলা না হওয়ার কারণে প্রকৃত সংখ্যাও জানা যায় না।
মামলা-বিচার হয় না
গ্রামীণ এলাকায় সড়কে শিশুর প্রাণহানির ঘটনায় অনেক ক্ষেত্রে মামলা হয় না। প্রতিবেদনের শুরুতে বলা এলমা আক্তারের প্রাণহানিতেও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। আমতলী থানার ওসি মো. ইয়াকুব হোসাইন সমকালকে বলেন, সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হয়েছিল। দুই পক্ষ আপস হয়ে গেছে। তাই ঘটনাটি জিডি মূলে নিষ্পত্তি হয়েছে।
২০১৮ সালের সড়ক পরিবহন আইন অনুযায়ী, দুর্ঘটনায় মৃত্যু ফৌজদারি অপরাধ এবং মামলা বাধ্যতামূলক। পুলিশ কিংবা নিহত ব্যক্তির পরিবার মামলা করতে পারে। সড়ক দুর্ঘটনায় কেউ মারা গেলে পুলিশ প্রথমে অপমৃত্যু অর্থাৎ ‘ইউডি’ মামলা করে। এরপর যদি চালকের অবহেলা বা বেপরোয়া গতির প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে পুলিশ নিজেই বাদী হয়ে নিয়মিত ফৌজদারি মামলা করতে পারে। সড়ক পরিবহনের আইনের ১০৫ ধারা অনুযায়ী মৃত্যুর ঘটনায় দায় থাকলে দায়ী ব্যক্তির তিন বছর কারাদণ্ড হতে পারে। এই ধারার অপরাধ আপসযোগ্য নয়। পুলিশ মামলা করেনি কেন–এ প্রশ্নে ওসি ইয়াকুব হোসেন সমকালকে বলেন, স্থানীয়ভাবে মীমাংসা হওয়ায় আর মামলা হয়নি। শিশুর পরিবার চাইলে এখনও মামলা করতে পারে।
নিহত এলমার বাবা জসিম উদ্দিন জানান, মামলা করে কী লাভ– এই চিন্তা থেকে আর আইনি পদক্ষেপ নিইনি। মামলা করলে তো মেয়ে ফিরবে না।
স্থানীয় সূত্র জানায়, দুর্ঘটনার সময় অটোরিকশাটি চালাচ্ছিলেন নাঈম নামে এক যুবক। তিনি এলমার নানাবাড়ির এলাকার বাসিন্দা। তিনি দুর্ঘটনার পর পালিয়ে যান। পরে স্থানীয়ভাবে আপস করে দুই পক্ষ।
গাড়িচাপা, ধাক্কায় যাচ্ছে ছোট্ট প্রাণ
রোড সেফটি ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, ৯টি জাতীয় দৈনিক, ১৭টি জাতীয় ও আঞ্চলিক অনলাইন নিউজ পোর্টাল, ইলেকট্রনিক গণমাধ্যম এবং নিজস্ব তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, বিভিন্ন যানবাহনের যাত্রী হিসেবে ২০২০ সাল থেকে চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নিহত হয়েছে দুই হাজার ১৯৩ শিশু। যা মোট নিহতের ২৭ দশমিক ৫৩ শতাংশ। রাস্তা পারাপার ও রাস্তায় হাঁটার সময় যানবাহনের ধাক্কা ও চাপায় নিহত হয়েছে দুই হাজার ৮১২ শিশু। যা নিহতের ৩৫ দশমিক ৩১ শতাংশ। নিহত শিশুর দুই হাজার ৯৫৮ জন মোটরসাইকেলের চালক বা যাত্রী। যা নিহতের ৩৭ দশমিক ১৪ শতাংশ।
রোড সেফটি ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, বাস, ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, পিকআপ ইত্যাদি ভারী যানবাহনের চাপা ও ধাক্কায় নিহত হয়েছে এক হাজার ১২৬ শিশু। প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস, অ্যাম্বুলেন্স ও জিপের চাপা ও ধাক্কায় নিহত হয়েছে ৩১৭ শিশু। সিএনজি, অটোরিকশা, নসিমন, ভটভটির মতো যানবাহনের ধাক্কায় নিহত হয়েছে এক হাজার ২৭১ শিশু। মোটরসাইকেলের ধাক্কায় নিহত হয়েছে ৯৮ শিশু।
রিকশা, ব্যাটারিচালিত রিকশা-ভ্যান ও ইজিবাইক সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক খালেকুজ্জামান লিপন এই প্রতিবেদন আমলে নিতে চান না। তিনি বিআরটিএর বরাতে বলেছেন, চলতি বছরে অটোরিকশা, ইজিবাইক, ব্যাটারিচালিত যানবাহনসংশ্লিষ্ট ১৪৫ দুর্ঘটনায় ১৩৬ জন নিহত হয়েছেন। তাদের কতজন শিশু তা তিনি জানেন না। তিনি দাবি করেন, ব্যাটারিচালিত রিকশাবিরোধী বয়ান তৈরির জন্য বলা হচ্ছে, মফস্বলে অনেক শিশু মারা যাচ্ছে এসব যানবাহনের ধাক্কায়।
উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিশু ব্যাটারিচালিত যানবাহন, মোটরাসাইকেলের ধাক্কা-চাপায় মারা যাচ্ছে, তা মেনে নিয়ে খালেকুজ্জামান লিপন বলেন, ‘এই জন্যই আমরা বৈধতা চাইছি। সরকার চালকদের প্রশিক্ষণ দিয়ে লাইসেন্স দিক। যানবাহনের রেজিস্ট্রেশন দিক। তাহলে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। সরকার এসব যানবাহন তৈরির নীতিমালা দিক, যাতে এসব যানবাহন ঘণ্টায় ২৫ কিলোমিটারের বেশি গতিতে চলতে না পারে। তাহলে আর দুর্ঘটনায় প্রাণহানি হবে না।’
নীতিমালার খসড়াতেই পাঁচ বছর
ব্যাটারিচালিত যানবাহনকে শৃঙ্খলায় আনতে নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ ২০২১ সালে শুরু হয়। ২০২৩ সালে খসড়া চূড়ান্ত করেছিল সড়ক পরিবহন এবং মহাসড়ক বিভাগ। আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর ২০২৫ সালে আরেকটি খসড়া করা হয়। তবে একই বছরে স্থানীয় সরকারের আইন সংশোধন করে অধ্যাদেশ জারি করে অন্তর্বর্তী সরকার। এতে সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোতে লাইসেন্স দেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হয়।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় নতুন করে নীতিমালা প্রণয়ন শুরু করেছে। তা শিগগির হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। নতুন পরিকল্পনায় ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনকে আটটি এলাকায় ভাগ করে আট লাখ রিকশা অনুমোদন দেওয়া হবে। প্রধান সড়কে এসব রিকশা চলবে না। এলাকাভিত্তিক নিয়ন্ত্রণে অনলাইনে জিপিএস ও জিও-ফেন্সিং প্রযুক্তি এবং অফলাইনে রিকশার গায়ে আলাদা রং ও নম্বরপ্লেটে এলাকাভিত্তিক কোড ব্যবহারের প্রস্তাব রয়েছে।
পরিকল্পনায় বুয়েট অনুমোদিত নতুন ব্যাটারিচালিত রিকশা নিবন্ধনের পর সড়কে নামানোর কথা বলা হয়েছে। খসড়া সিদ্ধান্তে একটি জাতীয় পরিচয়পত্রের বিপরীতে সর্বোচ্চ পাঁচটি রিকশার নিবন্ধনের সুযোগ রাখা হয়েছে। প্রতিটি রিকশার অর্থনৈতিক আয়ুষ্কাল সর্বোচ্চ ১০ বছর নির্ধারণের প্রস্তাব রয়েছে। মেয়াদ শেষে নিবন্ধন বাতিল করা হবে।
সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয় বৈদ্যুতিক থ্রি-হুইলার ব্যবস্থাপনা নীতিমালা-২০২৫ করেছে। এ অনুযায়ী, ব্যাটারিচালিত রিকশা, ভ্যান ও ইজিবাইক বিআরটিএ অনুমোদিত নির্দিষ্ট কারিগরি বৈশিষ্ট্য (স্পেসিফিকেশন) অনুযায়ী তৈরি হতে হবে। বাধ্যতামূলক রেজিস্ট্রেশন, ফিটনেস সার্টিফিকেট ও চালকদের জন্য ড্রাইভিং লাইসেন্স লাগবে। এগুলো মহাসড়কে চলতে পারবে না। সর্বোচ্চ ৩০ কিলোমিটার গতিতে চলতে পারবে।
এ বিষয়ে সড়ক পরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম এবং সড়ক পরিবহন সচিব জিয়াউল হকের বক্তব্য জানতে পারেনি সমকাল। রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান সমকালকে বলেছেন, গ্রাম এবং মফস্বলের সড়কে শিশুদের প্রাণঘাতী হয়ে উঠেছে ব্যাটারির যানবাহন ও মোটরসাইকেল। এর রাশ টানতেই হবে। শিশুদের সড়ক ব্যবহার সম্পর্কে সচেতন করতে হবে।
রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, নিহত আট হাজার শিশুর মধ্যে মহাসড়কে নিহত হয়েছে এক হাজার ৯৭৪ জন। আঞ্চলিক সড়কে দুই হাজার ৮২, গ্রামীণ সড়কে দুই হাজার ৭১৩ এবং শহরের সড়কে এক হাজার ১৯৪ শিশু নিহত হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা যা বলছেন
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এবং পরিবহন বিশেষজ্ঞ ড. সামছুল হক সমকালকে বলেছেন, সড়ক দুর্ঘটনায় শিশুদের মৃত্যুর জন্য দায়ী সরকার এবং সংস্থাগুলো। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) গ্রামের দানের জমিতে ঘরের পাশে পাকা সড়ক বানিয়ে গর্ব করছে। কিন্তু খেলায় মগ্ন শিশু দৌড়ে উঠান বা ঘর থেকে সড়কে এসে গাড়িচাপা পড়ছে। এসব রাস্তা সাপের মতো আঁকাবাঁকা। শিশুরা দেখতে পায় না, বাঁকের আড়াল থেকে কী আসছে। বিজ্ঞানের ভাষায় যে সড়ক আঁকাবাঁকা, তা সড়ক নয়। তা জেনেও এলজিইডি রাস্তা বানাচ্ছে।
অটোরিকশা, ইজিবাইক ও মোটরসাইকেলের সংখ্যা অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধির জন্য সরকারকে দায়ী করেন সামছুল হক। তিনি বলেন, ২০১১ সাল থেকে বলা হচ্ছে, এগুলো নিয়ন্ত্রণ করুন। কিন্তু সরকার করেনি। আমলারা বুঝিয়েছেন, দেশে বিনিয়োগ ও ব্যবসা হচ্ছে। ব্যাটারি রিকশার বডি তৈরি, ব্যাটারি আমদানি, যন্ত্রাংশ তৈরির বিশাল অর্থনীতি গড়ে উঠেছে। লাখ লাখ চালকের জীবিকা হয়েছে। এক লাখ টাকায় রিকশা বা মোটরসাইকেল কিনে ভাড়ায় নামানো যাচ্ছে। লাইসেন্স রেজিস্ট্রেশন নেই, তাই রাস্তায় চলতে ঘুষ-চাঁদা দিতে হয়। আবার ব্যাটারি চার্জ করার জন্য ঘুষ দিতে হয়। সব মিলিয়ে পুলিশ, রাজনীতিক এবং গুন্ডাদের সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। এখন উচ্ছেদ করতে গেলে, চালকের জীবিকার কথা সামনে আনা হচ্ছে। এগুলোকে যেভাবেই হোক নিয়মের মধ্যে আনতে হবে। তা না হলে শিশুদের প্রাণ যেতেই থাকবে, যারা আমাদের ভবিষ্যৎ।
মোটরসাইকেল বৃদ্ধির জন্য বিআরটিএকে দায়ী করেন সামছুল হক। তিনি বলেছেন, সরকারের আঞ্চলিক পরিবহন কমিটি (আরটিসি) জানে না কীভাবে বাসের রুট পারমিট দিতে হয়। আবার দুনিয়ার অন্য দেশে তাড়া খেয়ে আসা মোটরসাইকেল কোম্পানিকে বাংলাদেশে কারখানা করতে দেওয়া হয়েছে। আবার তাদের আবদারে মোটরসাইকেলের রেজিস্ট্রেশন খরচ কমানো হয়েছে। এতে মোটরসাইকেল বাড়ছে। মোটরসাইকেলও ব্যাটারির রিকশার মতো গ্রামে ভাড়ায় যাত্রী পরিবহন করছে। চালকরা তাড়ায় থাকে,পথে শিশুকে চাপা দিচ্ছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক এস এম হাফিজুর রশীদ সমকালকে বলেন, সড়কে শিশুদের মৃত্যু নিয়ে সরকারও উদ্বিগ্ন। পাঠ্যপুস্তকে ট্রাফিক শিক্ষা অন্তর্ভুক্ত করতে কাজ চলছে। আগামী বছরেই শিশুরা ট্রাফিক নিয়মকানুন স্কুলে শিখতে পারবে।
