সোমবার   ১৯ অক্টোবর ২০২৬   কার্তিক ৪ ১৪৩৩   ০৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

ভুল নীতির মাশুল দিচ্ছে ইউরোপ: ইরান

সাপ্তাহিক আজকাল

প্রকাশিত : ০৯:২২ পিএম, ১৯ অক্টোবর ২০২৬ সোমবার

ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের ভুল নীতির কারণে বিশ্বজুড়ে একের পর এক সংঘাত দীর্ঘায়িত হচ্ছে এবং এর পরিণতি ভোগ করতে হচ্ছে ইউরোপকেও- এমন মন্তব্য করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। 

রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভের সঙ্গে বৈঠকের পর এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন আরাগচি। 

এ সময় দুই দেশের মধ্যে আঞ্চলিক বিভিন্ন ইস্যু, ইউক্রেন যুদ্ধ এবং ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার বিষয়েও কথা হয় বলে জানান তিনি।

ভুল নীতির মাশুল দিচ্ছে ইউরোপ
আরাগচি বলেন, ইউরোপের উচিত নিজেদের নীতি ও সিদ্ধান্তের প্রভাব সতর্কতার সঙ্গে পর্যালোচনা করা। তার ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্রের মতো ইউরোপও বিভিন্ন বিষয়ে হিসাব-নিকাশে ভুল করছে।

তিনি বলেন, “ইউরোপের উচিত চোখ খুলে ভালোভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা। কারণ, যুক্তরাষ্ট্রের মতো ইউরোপও কিছু হিসাব-নিকাশে ভুল করছে।”

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর অভিযোগ, এসব ভুল নীতির কারণে ইউরোপকেও বিভিন্ন ধরনের সংকট ও দুর্ভোগের মুখে পড়তে হচ্ছে। তার মতে, বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে সংঘাত সৃষ্টির পেছনে ইউরোপের নীতিরও ভূমিকা রয়েছে।

আরাগচি বলেন, ইউরোপের ভুল নীতি ইউক্রেন যুদ্ধকে দীর্ঘায়িত করেছে। একই সঙ্গে ইসরায়েলের প্রতি ইউরোপের একতরফা সমর্থনেরও সমালোচনা করেন তিনি।

ফিলিস্তিনিদের হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে আরাগচি বলেন, ইসরায়েলকে এমন সমর্থন দেওয়ার কোনও যৌক্তিকতা নেই। তার অভিযোগ, এই সমর্থনের পরিণতিতে ফিলিস্তিনে ৮০ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।

তবে ফিলিস্তিনে নিহতের সংখ্যা সম্পর্কে আরাগচির এই বক্তব্যের স্বাধীন যাচাই কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার এই প্রতিবেদনে করা হয়নি।

হরমুজে অস্থিতিশীলতায় দায়ী যুক্তরাষ্ট্র
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তাহীনতা ও উত্তেজনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করেছেন আরাগচি।

তিনি বলেন, উপসাগরীয় অঞ্চল ও হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তার ঘাটতি তৈরি হয়েছে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসনের কারণে।

আরাগচির অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকাণ্ডের ফলে ওই অঞ্চলে উত্তেজনা বেড়েছে এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়েছে।

হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পারস্য উপসাগর থেকে বিশ্ববাজারে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবহনে এই নৌপথ ব্যবহৃত হয়। ফলে প্রণালিটিতে সংঘাত বা নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ও বাজারে তার প্রভাব পড়তে পারে।

ইসরায়েলের ‘বিপজ্জনক সম্প্রসারণ’ বন্ধের আহ্বান
আঞ্চলিক সংঘাতের স্থায়ী সমাধানে সামরিক শক্তির পরিবর্তে কূটনীতি ও রাজনৈতিক আলোচনার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

ল্যাভরভের সঙ্গে আলোচনার প্রসঙ্গ তুলে আরাগচি বলেন, সংঘাত নিরসনে সামরিক সমাধান কার্যকর হবে না- এ বিষয়ে তাদের আলোচনায় গুরুত্ব পেয়েছে। সব বিরোধ কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক পথে সমাধান করতে হবে।

তিনি বলেন, ইয়েমেন ও লেবাননে চলমান সংঘাত এবং ফিলিস্তিনে গণহত্যা বন্ধ করতে হবে। পাশাপাশি ইসরায়েলের ‘বিপজ্জনক সম্প্রসারণ’ও থামানো প্রয়োজন।

আরাগচির এই বক্তব্যে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন সংঘাতের জন্য ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের নীতিকে দায়ী করার পাশাপাশি সামরিক উত্তেজনা কমাতে আলোচনার ওপর তেহরানের গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টি উঠে এসেছে।

আঞ্চলিক ইস্যুতে ইরান-রাশিয়ার সহযোগিতা অব্যাহত
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আঞ্চলিক বিভিন্ন বিষয়ে ইরান ও রাশিয়ার মধ্যে নিয়মিত পরামর্শ ও সহযোগিতা রয়েছে। উপসাগরীয় অঞ্চল ও পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে দুই দেশের আলোচনা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

আরাগচির ভাষ্য অনুযায়ী, ইউক্রেন যুদ্ধ এবং ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনাও তাদের আলোচনার বিষয়বস্তুর মধ্যে ছিল।

ইরান ও রাশিয়া আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যুতে নিজেদের অবস্থান সমন্বয়ের জন্য নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

আরাগচির বক্তব্যে একদিকে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের নীতির সমালোচনা, অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত নিরসনে কূটনৈতিক উদ্যোগ এবং রাশিয়ার সঙ্গে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার বিষয়ে ইরানের অবস্থান স্পষ্ট হয়েছে। সূত্র: আল-জাজিরা