ওয়াশিংটনে ইউনূস,ওয়াকার ও মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বৈঠক!
হাসান মাহমুদ
সাপ্তাহিক আজকাল
প্রকাশিত : ০১:১১ এএম, ১৭ অক্টোবর ২০২৬ শনিবার
সোশ্যাল মিডিয়াসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে গুঞ্জনের শীর্ষে ছিল বাংলাদেশ সরকার সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামানকে ‘পদত্যাগ’ করতে বলেছে। প্রকৃতপক্ষে এসব তথ্যের কোন সত্যতা কোথাও পাওয়া যায়নি। তবে সহসা সরকার ও সেনাবাহিনীর দূরত্ব কমছে না। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান, ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন, ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোর (যিনি কিছুদিন আগে ঢাকা সফর করেন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন) এবং বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালিন সরকারের প্রধান ড. ইউনূস এখন যুক্তরাষ্ট্রে সফরে রয়েছেন। ড. ইউনূস ২২ অক্টোবর দেশে ফিরবেন বলে জানা যায়। একই সময়ে তাদের যুক্তরাষ্ট্র সফর নিয়ে বিশ্লেষকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র সরকারের শীর্ষ নীতিনির্ধারকদের সাথে তাদের একটি বৈঠকে মিলিত হবার কথা। এখন ওই বৈঠকটির দিকেই সরকারসহ সবার দৃষ্টি। এরই মধ্যে সেনাবাহিনীর প্রধান অষ্ট্রেলিয়া সফর শেষ করে গত বুধবার, ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে সামরিক কনভেনশনে উপস্থিত ছিলেন বলে জানা যায়। তবে তার দুই দেশের সফরের বিষয়ে এবার সরকারের তরফ থেকে ‘জিও’ ইস্যু করা হয় অনেক বিলম্বে। তা নিয়েই তৈরি হয় গুঞ্জন। আগামী ডিসেম্বরে শেখ হাসিনা বাংলাদেশে ফিরে আসবে কি-না তা নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের সতর্কতা রয়েছে সর্বোচ্চ পর্যায়ে।
বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে একটি ‘জাতীয় সরকার’ গঠনের গোপন তোড়জোর চলছে এমন খবরও চাউর হয়েছিল। ওই খবর চারদিকে ছড়িয়ে যাবার পরপরই জানা যাচ্ছে, বর্তমান সরকার এবং সেনাবাহিনীর মধ্যে বিরোধ মিটিয়ে ফেলার জন্য উদ্যোগ নেন প্রেসিডেন্ট নিজে। কারণ তিনি সশস্ত্রবাহিনীর প্রধান।
একটি সূত্রে জানা গেছে, বর্তমান সরকারের সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার (অব.) এ কে এম শামসুল ইসলামের মাধ্যমে সরকার জেনারেল ওয়াকার উজ জামানের যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়া সফর অনুমোদন করতে চায় না এমন বার্তা সেনাপ্রধানকে দেয়া হয়েছিল। তাতে তাদের দূরত্ব আরও বাড়ে।
সূত্র জানায়, সেনাবাহিনীর সিনিয়র অফিসারদের বদলি নিয়ে মতবিরোধ সৃষ্টি হয়। ব্রিগেডিয়ার মোহাম্মদ হুমায়ুন কবিরকে প্রাথমিকভাবে সেনা সদরের সামরিক প্রশিক্ষণ অধিদপ্তর থেকে ব্রিগেডের কমান্ডার হওয়ার জন্য বদলি করা হয়েছিল। জেনারেল ওয়াকার উজ জামানের আপত্তির পর সেই আদেশ বাতিল করা হয় এবং ব্রিগেডিয়ার সৈয়দ আশিকুর রহমানকে এই পদে নতুন করে নিয়োগ করা হয়। ব্রিগেডিয়ার মোহাম্মদ রফিকুল হাসানকে ব্রিগেড থেকে সরিয়ে অ্যাডহক আর্মি এয়ার ডিফেন্স সেন্টার অ্যান্ড স্কুলের কমান্ড্যান্ট নিযুক্ত করা হয় এবং ৩৩তম পদাতিক ডিভিশনের সদর দফতরের সঙ্গে যুক্ত করা হয়। একই সময়ে, ব্রিগেডিয়ার জি. এইচ. এম সেলিম হাসান, যিনি ৩৩তম ইনম্যান্ড অফিসার মেজর জেনারেল জোয়েল ভোয়েলের অধীনে এয়ার ডিফেন্স সেন্টার অ্যান্ড স্কুলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। সরকারের সাথে সেনাবাহিনীর দূরত্ব কিভাবে কমে আসবে তা-ই এখন দেখার বিষয়।
