শনিবার   ১৭ অক্টোবর ২০২৬   কার্তিক ১ ১৪৩৩   ০৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

তারেক রহমানের নির্দেশে ড.ইউনূসের বিশেষ নিরাপত্তা

আজকাল রিপোর্ট

সাপ্তাহিক আজকাল

প্রকাশিত : ০১:০১ এএম, ১৭ অক্টোবর ২০২৬ শনিবার


 
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে যুক্তরাষ্ট্রে বিশেষ নিরাপত্তা ও প্রটোকল পেলেন অর্ন্তবর্তীকালীন সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। সাবেক সরকার প্রধান হিসেবে প্রটোকলের পাশাপাশি তিনি অতিরিক্ত এ সিকিউরিটি পেলেন। তা তার যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকালীন সময় পর্যন্ত থাকবে।  ড.মুহাম্মদ ইউনূস গত সোমবার ১২ অক্টোবর বিকেলে যুক্তরাষ্ট্রে এলে জেএফকে বিমানবন্দরে বাংলাদেশে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুক্তরাষ্ট্রস্থ কয়েকজন নেতাকর্মি  তাকে হেনস্থা করে। তা মুর্হুতের মধ্যে সোশাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। বিভিন্ন মহল থেকে নিন্দার ঝড় ওঠে। 
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে ওয়াশিংটনস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস একজন সাবেক সরকার প্রধান ও নোবেল লোরিয়েটকে হেনস্থার বিষয়টি মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টকে অবহিত করেছে। দূতাবাস নিউইয়র্ক সিটির পুলিশ ডিপার্টমেন্টের সাথেও যোগাযোগ করেছে। স্থানীয় সময় বুধবার ১৪ অক্টোবর রাতে নিউইয়র্কস্থ বাংলাদেশ কনস্যুলেটের কনসাল জেনোরেল মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক পিটারের দৃষ্টি আর্কষন করলে তিনি আগামীর সময়কে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ড. ইউনূস স্যারের নিরাপত্তা ও প্রটোকলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। স্যার যুক্তরাষ্ট্রে আসছেন আমাদের আগে কোন পক্ষ থেকেই জানানো হয়নি। এ কারণে তার প্রটোকলের ঘাটতি ছিল। আমরা জানার পর ব্যবস্থা গ্রহন করেছি। স্যারের সাথে আমাদের এখন সার্বক্ষনিক যোগাযোগ রয়েছে। ড. ইউনূস এখন কোথায় আছেন জানতে চাইলে কনসাল জেনারেল প্রতিবেদককে বলেন, স্যার এখন নিউইয়র্ক স্টেটের বাইরে অন্য একটি স্টেটে রয়েছেন। মঙ্গলবার আমি নিজে ড্রাইভ করে স্যারকে সেখানে পৌঁছে দিয়েছি। সেখানে তিনি একটি কর্মসূচিতে রয়েছেন। 
এয়ারপোর্টের ঘটনার ব্যাপারে কনসাল জেনারেল বলেন, আমরা সিটির পুলিশ ডিপার্টমেন্টের ডিপ্লোমেটিক পুলিশ ও পোর্ট অথরিটি  (জেএফকে বিমানবন্দরের দায়িত্বে) কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলেছি। লিখিতভাবে বিষয়টি জানিয়েছি। তাদের পক্ষ থেকে আপডেটের অপেক্ষায় রয়েছি আমরা। 

মঙ্গলবার জেএফকে বিমানবন্দরের ঘটনার কঠোর নিন্দা ও প্রতিবাদ জানায় বাংলাদেশ সরকার। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘স্থগিত থাকা (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সন্ত্রাসী রাজনৈতিক সংগঠন আওয়ামী লীগের সঙ্গে যুক্ত বলে সন্দেহভাজন একদল অপরাধী নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অত্যন্ত শ্রদ্ধাভাজন ব্যক্তিত্ব অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসকে হয়রানির পেছনে রয়েছেন বলে প্রতীয়মান হচ্ছে।’

এ ঘটনার সাথে অভিযুক্তদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মিজান চৌধুরী, নিউইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন চঞ্চল, জ্যাকসন হাইটস আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তানভীর কায়সার ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক ইমদাদ চৌধুরীর নাম জানা গেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, তারা আগে থেকেই বিমানবন্দরে অবস্থান করছিলেন। মিজান চৌধুরী ২০২৫ সালে ড. ইউনূসের জাতিসংঘ সফরকালে সফরসঙ্গী ও এনসিপি নেতা আখতার হোসেনকে ডিম মেরে ছিলেন। সেই থেকে তিনি ‘ডিম মিজান’ নামে পরিচিত। ২০২৫ সালে ডিম নিক্ষেপের পর তিনি যুক্তরাষ্ট্র যুবলীগের সাধারন সম্পাদকের পদটি ‘পুরষ্কার’ হিসেবে পেয়েছেন।