শনিবার   ১৭ অক্টোবর ২০২৬   কার্তিক ১ ১৪৩৩   ০৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

কুনুর ভরসা বিয়ানীবাজারেঃপাশা সেলিমের হাতে

আজকাল রিপোর্ট

সাপ্তাহিক আজকাল

প্রকাশিত : ১২:৫৩ এএম, ১৭ অক্টোবর ২০২৬ শনিবার

বাংলাদেশ সোসইটির নির্বাচনে ওজনপার্ক কেন্দ্র

 
বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচনে আলোচিত কেন্দ্র ওজনপার্ক। ৩৫ হাজার ভোটারের মধ্যে ৭ হাজার এই কেন্দ্রে। আঞ্চলিকতার ভোটার বিচেনায় এই কেন্দ্রটি আলোচনার অগ্রভাগে। বলা হচ্ছে সেখানে ৭ হাজার ভোটারের মধ্যে ৫ হাজারই বিয়ানীবাজার উপজেলার বাসিন্দাদের। নির্বাচনে ২ প্যানেলেরই চোখ এই বিয়ানীবাজার ঘিরেই। 
কুনু-ফিরোজ প্যানেলের সভাপতি পদপ্রার্থী আজমল হোসেন কুনুর জন্মস্থান সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলায়। তিনি জালালাবাদ এসোসিয়েশন ও বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক সভাপতি। যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সাবেক সহসভাপতি। আসন্ন নির্বাচনে ওজনপার্ককে অনেকে তার হাব হিসেবে বিবেচনা করছেন। তার হোম টাউন। গত বুধবার ওজনপার্কে কুনু-ফিরোজ প্যানেলের পরিচিতি সভায় বক্তব্য রাখছিলেন সোসাইটর সাবেক সহ সভাপতি ও বিয়ানীবাজারের সন্তান ফারুক চৌধুরী। তিনি বলেন, বিয়ানীবাজারের সন্তান কুনু। আপনাদের সন্তান। তার মানসন্মান মানেই বিয়ানীবাজরের মানসন্মান। তা রক্ষায় আজমল হোসেন কুনুকে ভোট দিন। তার জন্য হাতজোড় করে একটা ভোট ভিক্ষা চাচ্ছি । আসুন বিয়ানীবাজারবাসী, ২৫ অক্টোবর কুনু ভাইয়ের পাশে দাঁড়াই। অপর সভাপতি পদপ্রার্থী আতাউর রহমান সেলিমের জন্মস্থান সিলেটের গোলাপগঞ্জ। বেড়ে ওঠা ফেঞ্চুগঞ্জে। তারা দু’জনই ব্যবসায়ী। ম্যানহাটনের একটি রেষ্টুরেন্টের যৌথ মালিকানা তাদের। বড় ভাই ছোট ভাই সম্পর্ক। ২ বছর আগের নির্বাচনে এই কুনুই সেলিম-আলী প্যানেলের নির্বাচনী প্রচারনা কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন। তার রানিংমেট ফিরোজ আহমেদও ছিলেন সেলিম-আলী প্যানেলের অন্যতম সংগঠক । আজ তারা একে অপরের মুখোমুখি। একই ঘরের ৪ ভাইয়ের লড়াই। ভাগ্য নির্ধারিত হবে ২৫ অক্টোবর। কুনু তার হোমটাউন কেন্দ্রে জিতবেন? জিতলে কত ভোটে এগিয়ে থাকবেন।  তা নিয়ে হিসেব নিকেশ চলছে। নাকি সেলিম ভোটের পাশা উল্টে দেবেন। তার সর্মথকরা বলছেন, সেলিম বিয়ানীবাজারবাসীর মধ্যে শক্ত অবস্থান গড়ে তুলেছেন। তার ভোট ব্যাংক শক্তিশালী। এই উপজেলার ৪ জন প্রার্থী সেলিমের প্যানেলে। পক্ষান্তরে কুনু ছাড়া বিয়ানীবাজারের মাত্র একজন রয়েছেন কুনু-ফিরোজ প্যানেলে। এই কেন্দ্রে উভয় পক্ষই হাজারের বেশি ভোট পেয়ে জিতবেন বলে মনে করছেন। তবে লড়াইটা কুনু বা সেলিম কারোর জন্যই সহজ হবে না। একদিকে কুনুর আঞ্চলিকতার টিকেট ও সহানুভূতি ভোটের প্রচেষ্টা। অন্যদিকে সেলিমের দিকে স্থানীয় নেতাদের জোড়ালো সর্মথন। যোগ হয়েছে নোয়াখালি সমিতির সাধারণ সম্পাদক মাঈনুদ্দিন পিন্টু ও সন্দ্বীপের মুক্তিযোদ্ধা বাবর উদ্দীনের সর্মথন। তারা দীঘদিন ধরে ওজনপার্কে ব্যবসা করছেন। 
কুনু-ফিরোজ প্যানেলের অন্যতম উপদেষ্টা মাওলানা আহমেদ রশীদ প্রতিবেদককে বলেন, ‘বিয়ানীবাজারের ভোট রয়েছে প্রায় ৫ হাজার। এরমধ্যে আজমল হোসেন কুনু প্রায় ৩ হাজার ভোট করেছেন। এরমধ্যে ২ থেকে আড়াই হাজার ভোট পাবেন আজমল হোসেন কুনু। তার বিয়ানীবাজারের সাধারন ভোটারদের মধ্যে একটি সহানুভূতি কাজ করছে। এই ওজনপার্কে তিনি বাস করছেন যুগের পর যুগ। তার প্রতিদান এবার পাবেন। আমার বিশ্বাস, আজমল হোসেন কুনু এই কেন্দ্রে ১ হাজার থেকে ১৫০০ ভোটের ব্যবধানে জিতবেন। ’ এই কেন্দ্রে কুনু-ফিরোজের হয়ে কাজ করছেন বিয়ানীবাজার সমিতির সাবেক সভাপতি কফিল উদ্দীন, বর্তমান সভাপতি আব্দুল মান্নান, মাহবুব আহমেদ, ইফজাল আহমেদ,ফকরুল ইসলাম, হাফিজ উদ্দীন ও সাবেক নির্বাচন কমিশনার আনোয়ার হোসেন সহ অনেকে। একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, মুনা নেটওয়ার্কের প্রায় ৪০০ ভোট কুনু-ফিরোজ এ কেন্দ্রে পাবেন তা নিশ্চিত। কুনু-ফিরোজ প্যানেলের সাংগঠনিক সম্পাদক জামিল আনসারি প্রতিবেদককে বলেন, ঘরের সন্তানের টানে আজমল হোসেন কুনু বিপুল ভোটে ওজনপার্কে জিতবেন। 
বিয়ানীবাজারের পরিচিত মুখ মকবুল রহিম চুনুই নির্বাচনে সেলিম-আলী প্যানেলের অন্যতম সংগঠক। অন্যদিকে আজমল হোসেন কুনুর ঘনিষ্ঠ আত্মীয়। তিনি প্রতিবেদককে বলেন, ওজনপার্কে শুধু আঞ্চলিকতার শ্লোগানে কুনু পাশ করতে পারবেন না। সেলিম-আলী প্যানেল বিপুল ভোটে পাশ করবেন ওজনপার্কে। প্রতিবেদকের সাথে আলাপকালে তার পাশেই বসেছিলেন প্রফেসর কামাল চৌধুরী। তিনি প্রতিবেদককে বলেন, বাস্তব চিত্রটি ভিন্ন। ১০ অক্টোবর আলাউদ্দীন রেষ্টেুরেন্টে বসে তিনি বলেন, আতাউর রহমান সেলিম ১ ভোট হলেও বেশি পেয়ে পাস করবেন। ২৬ অক্টোবর আপনার সাথে এখানে দেখা হবে। ওজন পার্ক এলাকায় সেলিম-আলীর পক্ষে কাজ করছেন বিয়ানীবাজারের পরিচিত মুখ আজিজুর রহমান সাবু, গওহর চিনু চৌধুরী, মোস্তফা কামাল, সন্দ্বীপের মুক্তিযোদ্ধা বাবর উদ্দীন (ওজনপার্ক কেন্দ্রে নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান),সাহাবুদ্দিন চৌধুরী, আব্দুল করিম, আব্দুর রাজ্জাক, আজিমুর রহমান বোরহান ও বিয়ানী বাজার সমিতির সাধারন সম্পাদক রেজাউল আলম অপু। সেলিম-আলীর প্রতি সর্মথন থাকার পরও  ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য হওয়ায় আজিমুর রহমান বোরহান ও ফকরুল ইসলাম দেলোয়ার আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু বলছেন না। বদরুল খান প্রেসিডেন্ট পদে সেলিমকে সর্মথন করলেও নির্বাচন কমিশন সদস্য হবার কারনে নীরব রয়েছেন।বিয়ানী বাজার সমিতির সাবেক ৭ জন সভাপতির মধ্যে ৪ জন সেলিমের পক্ষে। ২ জন কুনুর সর্মথনে। একজন নীরব। 
সেলিম-আলী প্যানেলে প্রচার সস্পাদক পদপ্রার্থী রিজু মোহাম্মদ বলেন, আমাদের পক্ষে বিয়ানীবাজারবাসীর প্রায় ৩ হাজার মানুষ ভোটার হয়েছেন। উপজেলার শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ আতাউর রহমানকে সর্মথন দিচ্ছেন। আমাদের প্যানেলে ৪ জন প্রার্থী রয়েছেন বিয়ানীবাজার উপজেলার। এতেই বুঝে নিতে পারেন ওজন পার্কে আমরা কেমন করবো। 
ভোটের স্টকহোল্ডারদের দাবির সাথে ভোট যুদ্ধ সমান্তরালে। সেলিম-আলীদের দাবি ওজনপার্কে বিয়ানীবাজরের ভোট করেছেন প্রায় ৩ হাজার, কুনু-ফিরোজের প্যানেলের দাবি ওজনপার্ক কেন্দ্রে বিয়ানীবাজারের ভোট সাড়ে ৩ হাজারের কাছাকাছি। বৃহত্তর নোয়াখালির ভোট রয়েছে ৭ শতাধিক। চট্রগ্রাাম এলাকার মানুষের ভোট রয়েছে ৫ শতাধিক। প্রার্থীদের এই দাবি যোগ করলে ওজন পার্কের ভোট দাঁড়ায় ৮ হাজারের উপরে। তাদের দাবির ভেতরেও যে ফারাক রয়েছে তা হিসেবেই বেরিয়ে আসছে। 
ওজনপার্ক কেন্দ্রের স্থানীয় প্রার্থী কারা
সেলিম-আলী পরিষদের প্রার্থীদের তালিকা: হারুন চেয়ারম্যান-সহ সাধারন সম্পাদক (নোয়াখালি), আব্দুল মালেক খান-কার্য নির্বাহী সদস্য  (নোয়াখালি), অনিক রাজ-সাংস্কৃতিক সম্পাদক (বিয়ানীবাজার), রিজু মোহাম্মদ -জন সংযোগ ও প্রচার সম্পাদক (বিয়ানীবাজার), রুমানা আহমেদ-সাহিত্য সম্পাদক (বিয়ানীবাজার) ও হাসান খান-ক্রিড়া ও আপ্যায়ন সম্পাদক (বিয়ানীবাজার)

কুনু-ফিরোজ প্যানেলে ওজনপার্কের স্থানীয় প্রার্থী
আজমল হেসেন কুনু-সভাপতি (বিয়ানীবাজার), মাসুদুল হক সানু-কার্যকরি কমিটির সদস্য (বিয়ানীবাজার, আগে ওজনপার্কে বাস করতেন।এখন এস্টোরিয়ায়), মোরশেদ আলম-ক্রিড়া ও আপ্যায়ন সম্পাদক (নোয়াখাালি, ওজনপার্কের ভোটার)।