প্রার্থীদের সঙ্গে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন কমিশনের মতবিনিময়
আজকাল রিপোর্ট
সাপ্তাহিক আজকাল
প্রকাশিত : ০৭:২৪ এএম, ১০ অক্টোবর ২০২৬ শনিবার
বাংলাদেশ সোসাইটির আসন্ন নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার লক্ষ্যে প্রতিদ্বন্দ্বী দুই প্যানেল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের সাথে মতবিনিময় করেছে সোসাইটির নির্বাচন কমিশন। ৬ অক্টোবর সোসাইটির নিজস্ব কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ সভায় স্যাম্পল ব্যালট থেকে শুরু করে পোলিং এজেন্ট, ডাবল ভোট প্রতিরোধ, প্রার্থীদের ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ ও অবস্থান, নির্বাচন পরিচালনার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হয়। প্রার্থীদের বেশ কয়েকটি প্রস্তাব ও সুপারিশ গ্রহণ করেছে কমিশন।
মতবিনিময় সভায় বক্তব্য প্রদানকালে প্রধান নির্বাচন কমিশনার আবু নাসের ভোট প্রদানে প্রয়োজনীয় কি কি কাগজপত্র সাথে থাকতে হবে এবং ভোট প্রদানের বিভিন্ন নিয়মাবলী তুলে ধরেন। একই সঙ্গে এবারের নির্বাচন সুষ্ঠু ও সুন্দর ও উৎসব মুখর করতে সকলের সহযোগিতাও চান।
নির্বাচন কমিশনের সদস্য বদরুল এইচ খান, মোহাম্মদ শামসুদ্দিন আজাদ, মো. রুহুল আমিন সরকার, আহবাব চৌধুরী, মিঠু হামিদ ও মোহাম্মদ দুলাল মিয়া, সেলিম-আলী প্যানেলের সভাপতি প্রার্থী আতাউর রহমান সেলিম, সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী মোহাম্মদ আলী, কুনু-ফিরোজ পরিষদের সভাপতি প্রার্থী আজমল হোসেন কুনু, সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী ফিরোজ আহমেদসহ দুই প্যানেলের প্রার্থীরা এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া দুই পরিষদের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির ৫ জন করে প্রতিনিধিও উপস্থিত ছিলেন।
আগামী ২৫ অক্টোবর অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে দুই পূর্ণাঙ্গ প্যানেল ও সাধারণ সম্পাদক পদে একজন স্বতন্ত্র প্রার্থীসহ মোট ৪৩ জন ২১টি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। সভায় নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে নির্বাচনে ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত করা স্যাম্পল ব্যালট প্রার্থীদের সামনে উপস্থাপন করা হয়। ব্যালট পর্যালোচনা করে প্রার্থীরা বেশ কিছু সংশোধনী ও পরামর্শ দেন। বিশেষ করে কয়েকজন প্রার্থীর নামের বাংলা ও ইংরেজি বানানে অসঙ্গতির বিষয়টি উঠে আসে। বাংলা বানান নিয়েও কিছু সংশোধনের সুপারিশ করা হয়। কমিশন এসব প্রস্তাবের যৌক্তিক অংশ গ্রহণ করে চূড়ান্ত ব্যালট ছাপানোর আগে প্রয়োজনীয় সংশোধন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
ভোটের দিন প্রতিটি কেন্দ্রে কতজন পোলিং এজেন্ট দায়িত্ব পালন করবেন, তা নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়। প্রার্থীদের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে একটি প্রস্তাব দেওয়া হলে নির্বাচন কমিশন সেটি গ্রহণ করে। কমিশন জানিয়েছে, ভোটগ্রহণের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি নির্বাচনী কার্যক্রম যাতে নির্বিঘ্নে পরিচালিত হয়, সে বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই পোলিং এজেন্ট সংক্রান্ত ব্যবস্থা চূড়ান্ত করা হবে।
সভায় বিশেষ গুরুত্ব পায় একজন ভোটারের একাধিকবার ভোট দেওয়ার সম্ভাবনা বা ভোটার তালিকায় ‘ডাবল ভোট’-এর বিষয়টি। নির্বাচন কমিশন এ ব্যাপারে জানায়, ভোটারদের তথ্য এমনভাবে সমন্বয় ও চিহ্নিত করা হচ্ছে যাতে একজন ভোটার কোনো অবস্থাতেই একাধিকবার ভোট দিতে না পারেন। একজন ভোটার একবারই ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন। ডাবল ভোট ঠেকাতে ভোটার তালিকা ও সংশ্লিষ্ট তথ্য বিশেষভাবে যাচাই ও হাইলাইট করার ব্যবস্থাও থাকবে বলে সভায় জানানো হয়।
ভোটের দিন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের ভোটকেন্দ্রে প্রবেশের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট নিয়ম নির্ধারণ করা হয়েছে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রত্যেক প্রার্থী প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে একবার করে প্রবেশ করতে পারবেন এবং সর্বোচ্চ ১০ মিনিট অবস্থান করতে পারবেন।
কোনো প্রার্থীর উপস্থিতির কারণে ভোটগ্রহণের স্বাভাবিক পরিবেশ যেন প্রভাবিত না হয় এবং সাধারণ ভোটাররা যেন নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারেন-সে লক্ষ্যেই এ সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। দুই প্যানেলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির পক্ষ থেকেও প্রতি কেন্দ্রে পাঁচজন করে অনুমোদিত প্রতিনিধি প্রবেশের সুযোগ রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
